• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ১৮ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ৪ঠা আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ১১ আগস্ট, ২০২৩
সর্বশেষ আপডেট : ১১ আগস্ট, ২০২৩

পীর সেজে রাজধানীর রাস্তায় প্রতারক, টার্গেট নারীরা

রাজধানীতে নতুন প্রতারকদের সন্ধান পাওয়া গেছে। যারা সকালে, দিনদুপুরে প্রকাশ্যে কৌশলে লোকজনের সঙ্গে প্রতারণা করে যাচ্ছে। চক্রটি পীর সেজে রাস্তায় ঘুরে বেড়ায়। তারপর সুযোগ বুঝে টার্গেট ব্যক্তির কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার ও মূল্যবান জিনিসপত্র। প্রতারক চক্রটির প্রধান টার্গেট সকালে হাঁটতে বের হওয়া নারীরা।

সম্প্রতি এই চক্রের ৪ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ ডিবি। গ্রেফতারকৃতরা হলো–কথিত পীর মো. খোকন আকন, মো. রাজু আহম্মেদ রিপন, মো. শাহাবুদ্দিন ফকির ওরফে শিশু ও মো. মিলন মিয়া। এ সময় তাদের কাছ থেকে আত্মসাৎকৃত নগদ ১০ হাজার ৫০০ টাকা উদ্ধার করা হয়।

ডিবি বলছে, প্রতারক চক্রটিতে রয়েছে ৬ থেকে ৭ জন। যাদের একজন মুরুব্বি। যাকে পীর সাজানো হয়। কথিত এই পীরকে ঘিরে গুণগান করতে থাকে বাকিরা। আর এসবের মাঝেই সুযোগ বুঝে প্রতারণার জাল পাতে চক্রের অন্য সদস্যরা। টার্গেট ব্যক্তির সঙ্গে হাত মেলানো, মাথায় হাত বুলিয়ে দেওয়া। এভাবে প্রতারণার কৌশল খুঁজতে থাকে প্রতারকরা। পথচারী কেউ এগিয়ে এলে তাকে বোঝানো হয় পীরের পারদর্শিতা। এভাবে গত পাঁচ বছরে দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রায় ২০০ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করেছে তারা। নানা ফন্দি-ফিকির করে হাতিয়ে নিয়েছে নগদ টাকাসহ মূল্যবান সামগ্রী।

গত ২২ জুলাই সকালে পূর্ব রামপুরা এলাকায় এক বয়স্ক মহিলার কাছ থেকে অর্থসম্পদ দ্বিগুণ করে দেওয়ার কথা বলে ১ লাখ ১৮ হাজার টাকা ও স্বর্ণালংকার আত্মসাতের ঘটনা ঘটে। প্রতারণার শিকার নারীর ছেলের অভিযোগের ভিত্তিতে রামপুরা থানায় গত ২ আগস্ট একটি মামলা হয়। মামলার ছায়াতদন্ত শুরু করে গোয়েন্দা-মতিঝিল বিভাগের খিলগাঁও জোনাল টিম। প্রযুক্তির সহায়তায় প্রতারক চক্রটিকে শনাক্ত করে ঢাকা মহানগরসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করে ৪ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়।

ডিবি জানায়, রাজধানীর রামপুরায় গত ২২ জুলাই সকাল সাড়ে ছয়টায় বোরকা পরা ওই মহিলার মাথায় হাত বুলিয়ে দেয় পীর বেশে থাকা প্রতারক। পাশের দুটি লোক জানান, এ মুরুব্বি অত্যন্ত পরহেজগার, কামেল লোক। যেকোনও সমস্যা তিনি সমাধান করতে পারেন। সেখানে ওই পীর তার ইমান পরীক্ষা করার কথা বলেন। বিষয়টি কারও কাছে বললে তার সন্তানদের ক্ষতি হবে বলেও জানানো হয়। পরে রাস্তায় পাঁচ থেকে দশ মিনিট আলাপচারিতার পর ওই নারী বাসায় গিয়ে ১ লাখ ১৮ হাজার টাকা এবং কানের এক জোড়া স্বর্ণের দুল এনে মুরুব্বির হাতে তুলে দেয়। পেছনে না তাকিয়ে ৩০ কদম হেঁটে বাড়ি ফেরার নির্দেশ দিয়ে কথিত পীর লাপাত্তা হয়ে যায়। বাড়িতে গিয়ে ওই নারী বুঝতে পারেন তিনি প্রতারণার শিকার হয়েছেন।

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের মতিঝিল বিভাগের উপ-কমিশনার রাজীব আল মাসুদ বলেন, চক্রটি ভোরে হাঁটতে বের হওয়া বয়স্ক ধর্মভীরু মহিলাদের টার্গেট করতো। টার্গেটকৃত মহিলাকে সালাম দিয়ে নিজেদের অত্র এলাকার বাসিন্দা হিসাবে পরিচয় দিয়ে গল্প শুরু করতো। একপর্যায়ে ভিকটিমকে চক্রের অপর সদস্য কথিত পীরের কাছে নিয়ে তার মাধ্যমে ভিকটিমের সম্পদ দ্বিগুণ করার প্রলোভন দেখাতো। ভিকটিমের বিশ্বাস স্থাপনের জন্য তাদের দলের অন্য সদস্যরা পীরের মাধ্যমে উপকৃত হয়েছে ও তাদের সম্পদ দ্বিগুণ হয়েছে মর্মে বর্ণনা করতো।

তিনি বলেন, কথিত পীরকে দেখে ও তার কথাবার্তা শুনে এবং চক্রের অন্য সদস্যদের অভিজ্ঞতার বর্ণনা শুনে ভিকটিম পীরের প্রতি দুর্বল হয়ে পড়ে এবং সাহায্য চায়। তখন কথিত পীর ভিকটিমকে তার অর্থসম্পদ দ্বিগুণ করে দেওয়ার প্রলোভন দেখায়। এরপর ভিকটিম তার সম্পদ দ্বিগুণ করার জন্য বাসায় গচ্ছিত নগদ অর্থ ও স্বর্ণ এনে পীরের হাতে দেয়। অর্থ হাতে পাওয়ার পর কথিত পীর ভিকটিমকে পেছনে না ফিরে ৩০ কদম হাঁটতে বলে। ভিকটিম হাঁটা শুরু করলে প্রতারক চক্রটি নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকার নিয়ে পালিয়ে যায়।

তিনি আরও বলেন, গত পাঁচ বছরের দেশের বিভিন্ন স্থানে এভাবে প্রায় ২০০ জন ব্যক্তির সঙ্গে প্রতারণা করেছে চক্রটি। রাজধানীতে ওই মহিলা ছাড়াও মালিবাগের এক ব্যবসায়ীর কাছে থেকে নগদ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে তারা। এমন লোকদের বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন ডিবির এই কর্মকর্তা।

আরও পড়ুন