• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ১৮ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ৪ঠা আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৪ নভেম্বর, ২০২৩
সর্বশেষ আপডেট : ৪ নভেম্বর, ২০২৩

দেশে ঠাঁই না পেয়ে বিদেশিদের ওপর ভর করেছে বিএনপি : হাসিনা

বিএনপি-জামায়াতকে ভোট চোর উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দেশের মানুষের কাছে ঠাঁই না পেয়ে বিএনপি এখন বিদেশিদের ওপর ভর করেছে। তাদের ঠাঁই বাংলাদেশ নাই।

তিনি বলেন, বিএনপি ষড়যন্ত্র ভালো বোঝে। তারা যেন ষড়যন্ত্র করে মানুষের ভাগ্য নিয়ে আর ছিনিমিনি খেলতে না পারে সেজন্য সতর্ক থাকতে হবে।

শনিবার বিকেলে মেট্রোরেলের আগারগাঁও-মতিঝিল অংশ উদ্বোধনের পর রাজধানীর আরামবাগে আওয়ামী লীগ আয়োজিত এক জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি যতো বার ধ্বংস করেছে, ততো বার সেই ধ্বংসযজ্ঞ থেকে বাংলদেশকে টেনে তুলেছে আওয়ামী লীগ। এমনকি বিএনপির সময় হারানো মর্যাদাও ফিরিয়ে এনেছে।

অগ্নিসন্ত্রাস বিএনপির চরিত্র মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জ্বালাও-পোড়াও এটাই তাদের উৎসব, এটাই তাদের চরিত্র। তাদের আন্দোলন হচ্ছে অগ্নিসন্ত্রাস, মানুষ খুন করা, ধ্বংস করা, পুলিশের ওপর হামলা করা। কীভাবে এটা বন্ধ করতে হয় সেটা আমাদের জানা আছে।

সরকারপ্রধান বলেন, আমি সোনার বাংলাদেশ গড়তে চাই। মাত্র ৩৮ মিনিটে উত্তরা থেকে মতিঝিলে পৌঁছানো যাবে, যানজটে কষ্ট পেতে হবে না। নারীরা নিরাপদে চলাচল করতে পারবেন। আকাশ রেল দেখলাম, এবার পাতাল রেলও দেখবো। সেই কাজও শুরু হলো। ঢাকাবাসীর জন্য এটা উপহার। তবে মেট্রোরেল যত্ন সহকারে ব্যবহার করতে হবে। বিদ্যুৎ, পানিতে অনেক খরচ হয়, ব্যবহারে মিতব্যয়ী হতে হবে।

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, খালেদা জিয়া বলেছিলেন আমি নাকি প্রধানমন্ত্রী তো দূরের কথা দলের প্রধানও হতে পারবো না। আজ কে কোথায় আছে। আমি জনগণের সেবা করতে চাই, দেশের উন্নয়ন করতে চাই। আমি দারিদ্র্য কমিয়ে এনেছি, খালেদার সময় দেশের ৪১ শতাংশ মানুষ দরিদ্র ছিল। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে দেশ উন্নত হয়, মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়।

তিনি বলেন, ২১ বছর মানুষ ছিল অন্ধকারে। আমি ক্ষমতায় এসে ব্রিজ করেছি, রাস্তাঘাট করেছি, স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোড়গোরায় পৌঁছে দিয়েছি।

শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধ্বংস করা হয়েছিলো। ১৯৭৫ এর পর যারা ক্ষমতায় ছিলো তারা নিজেদের ভাগ্যই গড়েছেন, মানুষের ভাগ্য গড়েনি। বার বার হত্যার চেষ্টা করলেও বাবার আদর্শ নিয়ে দেশকে সোনার বাংলাদেশ হিসেবে গড়তে চাই, যোগ করেন শেখ হাসিনা।

আওয়ামী যখন মানুষের উন্নয়নে কাজ করে, বিএনপি তখন মানুষ পুড়িয়ে আন্দোলন করে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারে থাকলে মানুষ নিরাপদ থাকে। বিএনপি যে নৃশংসতা চালিয়েছে তা কোনো মানুষ কী করে করতে পারে! পুলিশ যথেষ্ট সহনশীলতা দেখিয়েছে। পুলিশের হাসপাতালে আগুন দেওয়া হয়েছে, বিএনপির সন্ত্রাসীরা আওয়ামী লীগের নারী কর্মীদের ওপর হামলা করেছে। তারা বাসে আগুন দিয়ে ঘুমন্ত হেলপারকে মেরে ফেলেছে।

তিনি বলেন, গার্মেন্ট শ্রমিক অসন্তোষ হয়েছে, উসকানি দিয়েছে বিএনপি। তারা শ্রমিকদের মজুরি বিএনপি বাড়ায় নাই, বাড়িয়েছে আওয়ামী লীগ। তিন বারে এক হাজার ৬০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে আট হাজার ৩০০ টাকা করা হয়েছে।

পোশাক শ্রমিকদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, অন্যের কথায় নেচে কারখানা ভাঙলে নিজেদেরই ক্ষতি হবে। এমন হলে গ্রামে ফিরে যেতে হবে।

সন্ত্রাসের হুকুমদাতাদের বিদেশ থেকে ধরে এনে দেশে শাস্তি নিশ্চিত করা হবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ জনগণের ভোটে চার বার ক্ষমতায় এসেছে। আগামীতেও ক্ষমতায় এসে জনগণের সেবা করবে আওয়ামী লীগ।

বক্তৃতার শেষ পর্যায়ে দেশের উন্নয়নে আবারও আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় আনতে নৌকা মার্কায় ভোট চান শেখ হাসিনা।

আরও পড়ুন