• ঢাকা
  • সোমবার, ১৭ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ৩রা আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ১৬ নভেম্বর, ২০২৩
সর্বশেষ আপডেট : ১৬ নভেম্বর, ২০২৩

‘সুবর্ণচর এক্সপ্রেস’ নামে নতুন ট্রেন পাচ্ছে নোয়াখালীবাসী

নিজস্ব প্রতিবেদন: ঢাকা-নোয়াখালী রুটে নতুন এক জোড়া আন্তঃনগর ট্রেন চালু করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। নতুন ট্রেনটির নাম ‘সুবর্ণচর এক্সপ্রেস’ নির্ধারণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বুধবার (১৫ নভেম্বর) রেলপথ মন্ত্রণালয়ের উপসচিব তৌফিক ইমাম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। ফলে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর নোয়াখালীবাসী পাচ্ছে নতুন ট্রেন।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ঢাকা-নোয়াখালী রুটের নতুন আন্তঃনগর ট্রেনের নাম ‘সুবর্ণচর এক্সপ্রেস’ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক অনুমোদন হয়েছে। এ বিষয়ে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।

বুধবার (১৫ নভেম্বর) সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেন রেলপথ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও নোয়াখালী-১ আসনের সংসদ সদস্য এইচ এম ইব্রাহিম।

তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি। তিনি নোয়াখালীবাসীর জন্য সুখবরের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। নোয়াখালীবাসী আপনারা একটি নতুন আন্তঃনগর ট্রেন পাচ্ছে। সার্বিক সহযোগিতার জন্য আমি নোয়াখালীবাসীর পক্ষ থেকে তথা আমার নির্বাচনী এলাকা চাটখিল-সোনাইমুড়ীবাসীর পক্ষ থেকেও জননেতা ওবায়দুল কাদের ভাইকেও আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।

তিনি আরও বলেন, স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে আমি ইতোপূর্বে নোয়াখালীবাসীর জন্য নতুন ট্রেন বরাদ্দের জন্য জোর বক্তব্য উপস্থাপন করে এসেছি। আজ প্রধানমন্ত্রী অনুমোদন দিয়েছেন। যেকোনো মুহূর্তে এটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উদ্বোধন করতে পারেন। ইতোপূর্বে জননেতা ওবায়দুল কাদের ভাইয়ের সার্বিক সহযোগিতায় সোনাইমুড়ী রেলস্টেশন আধুনিকায়ণ করা হয়েছে। আমি জননেত্রী শেখ হাসিনা ও জননেতা ওবায়দুল কাদের ভাইয়ের জন্য দোয়া চাই।

এর আগে গত ২৯ অক্টোবর চট্টগ্রামের চিফ অপারেটিং সুপারিনটেনডেন্ট মোহাম্মদ আবু বরক সিদ্দিকী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, যাত্রী সাধারণের স্বাচ্ছন্দ্য ভ্রমণের নিমিত্তে ঢাকা-নোয়াখালী-ঢাকা রুটে চায়না কোচ দ্বারা ১ জোড়া নতুন আন্তঃনগর ট্রেন পরিচালনা করা যেতে পারে।

প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, নতুন এ ট্রেনের নম্বর ৮১৭/৮১৮। ১৪ কোচের নতুন এই ট্রেনে মোট আসন থাকবে ৬৭৯টি। সাপ্তাহিক বন্ধ শুক্রবার। প্রস্তাবিত ট্রেনের সময়সূচিতে বলা হয়েছে, ৮১৭ নম্বর ট্রেনটি নোয়াখালী ছাড়বে ২টা ৩০ মিনিটে ও ঢাকা পৌঁছাবে ৮টা ১০ মিনিটে। ৮১৮ নম্বর ট্রেনটি ঢাকা ছাড়বে সকাল ৮টায় ও নোয়াখালী পৌঁছাবে ১টা ৩০ মিনিটে।

প্রস্তাবিত স্টেশনের মধ্যে আছে ঢাকা বিমানবন্দর, নরসিংদী, ভৈরব বাজার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, আখাউড়া, কসবা, কুমিল্লা, লাকসাম, নাথের পেটুয়া, সোনাইমুড়ি, বজরা, চৌমুহনী ও মাইজদীকোট। এর আগে এ বছরের ৭ জুন রেলপথ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভায় নতুন একটি ট্রেন অনুমোদন দেওয়া হয়।

প্রসঙ্গত, ১৯৮৬ সালে নোয়াখালীবাসীর দাবির প্রেক্ষিতে ঢাকা-নোয়াখালী রেলপথে আন্তঃনগর উপকূল এক্সপ্রেস ট্রেন চালু হয়। চালু হওয়ার পর থেকে কয়েক বছর যাত্রী সেবা ভালো থাকলেও ১৯৯০ সালের পর থেকে শুরু হয় ভোগান্তি। নামে আন্তঃনগর এক্সপ্রেস হলেও নোয়াখালী থেকে ঢাকা পর্যন্ত ১৪/১৫ টি রেলস্টেশনে যাত্রাবিরতি ও পথিমধ্যে ট্রেনের গতি কমিয়ে যাত্রী ওঠানামার কারণে উপকূল এক্সপ্রেস ট্রেন কখনোই নির্দিষ্ট সময়ে গন্তব্যস্থলে পৌঁছাতে পারে না। অচল টয়লেট, ভাঙাচুরা বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি নিয়ে ধুঁকে ধুঁকে চলছে আন্তঃনগর উপকূল এক্সপ্রেস।

২০২২ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি দুপুরে ঢাকা-নোয়াখালী-ঢাকার মধ্যে চলাচলরত আন্তঃনগর উপকূল এক্সপ্রেস ট্রেনটি প্রতিস্থাপিত সাদা কোচ দিয়ে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে নতুনভাবে উদ্বোধন করেন রেলপথ মন্ত্রী মো. নূরুল ইসলাম সুজন। ৭৮৯ আসন বিশিষ্ট ১৬টি সাদা কোচ দিয়ে চলাচল করে ট্রেনটি। এর মধ্যে এসি চেয়ার ৩৪৯টি ও শোভন চেয়ার ৪৪০টি।

আরও পড়ুন