• ঢাকা
  • শুক্রবার, ২৪শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ১০ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ১৭ নভেম্বর, ২০২৩
সর্বশেষ আপডেট : ১৭ নভেম্বর, ২০২৩

চলে গেছে ঘূর্ণিঝড় মিধিলি রেখে গেছে ক্ষত চিহ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদন : বঙ্গোপসাগরে গভীর নিম্নচাপ থেকে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ‘মিধিলি’ নোয়াখালীর উপকূল অতিক্রম করেছে। তবে ঘূর্ণিঝড় মিধিলি চলে গেলেও রেখে গেছে ক্ষত চিহ্ন।

মিধিলির প্রভাবে উপকূলীয় এলাকার গাছপালা ও ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

জানা গেছে, জেলার সুবর্ণচর, কোম্পানীগঞ্জ, কবিরহাট ও দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় মিধিলির প্রভাব পড়েছে। জেলার বেশিরভাগ এলাকায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। উপকূলজুড়ে সড়কের বিভিন্ন অংশে গাছ ভেঙে পড়েছে। এতে সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। এছাড়াও কৃষি খাতে তার ক্ষত চিহ্ন রেখে গেছে।

হাতিয়ার নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়নের বাসিন্দা কেফায়েত হোসেন বলেন, নিঝুমদ্বীপে আমন ধানের ব্যাপক ফলন হয়েছে। আমরা বেশিরভাগ ধান তুলতে পেরেছি তবে অনেকের ধান রয়ে গেছে। যাদের ধান হেলে পড়েছে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কৃষি বিভাগ যদি কৃষকের পাশে দাঁড়ায় তাহলে খুব উপকার হবে।

হাতিয়ার আরেক বাসিন্দা মো. আবু সালেহ সাদ বলেন, ঘূর্ণিঝড় মিধিলির প্রভাবে হাতিয়ায় সারাদিন টানা বর্ষণ ও দমকা হাওয়া বয়ে যায়। উত্তাল সমুদ্রের বড় বড় ঢেউ জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। মিধিলি চলে গেলেও এর ক্ষত চিহ্ন রেখে গেছেন। আমন ধানের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এছাড়াও বিভিন্ন এলাকায় বেশ কিছু গাছপালা উপড়ে গেছে। অনেক কাঁচা ঘরবাড়ির ক্ষতি হয়েছে।

সুবর্ণচর উপজেলার বাসিন্দা আরিফুর রহমান বলেন, ঘূর্ণিঝড়ে সূবর্ণচরের ব্যপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। অনেক গাছ উপড়ে পড়েছে। ফসল হেলে পড়েছে। ঘর-বাড়ি উড়িয়ে নেয়ে গেছে। আমাদের বিদ্যুৎ নেই। কারো সাথে যোগাযোগ করা যাচ্ছেনা। সংশ্লিষ্টদের এগিয়ে আসা উচিত। যারা ক্ষতিগ্রস্ত তাদের পাশে দাঁড়ানো উচিত।
জেলা আবহাওয়া অধিদপ্তরের কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, মিধিলি ইতোমধ্যেই উপকূল অতিক্রম করেছে। তবে এর কিছুটা প্রভাব রয়ে গেছে। যা নিম্নচাপ আকারে আছে। ফলে বৃষ্টিপাত হচ্ছে। এ বৃষ্টি ধীরে ধীরে শনিবার নাগাদ কমে যাবে।

হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুরাইয়া আক্তার লাকী বলেন, যেসব স্থানে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তাৎক্ষণিক ভাবে সেগুলোর তালিকা সংগ্রহ করেছি। এখন পর্যন্ত ৩১০ টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তার মধ্যে সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৯০ টি এবং আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ২২০ টি।

নোয়াখালী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি নোয়াখালীর জেনারেল ম্যানেজার মো. জাকির হোসেন বলেন, ঘূর্ণিঝড় চলে গেলেও বাতাস কমে নাই। খবর পেয়ে আমাদের কর্মীরা সেখানে যাচ্ছে এবং সেসব স্থানে গিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে। আশাকরি খুব দ্রুতই আমরা বিদ্যুৎ সেবা পৌঁছে দিতে পারবো।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহিদ হাসান খান বলেন, এখনো দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া বিরাজ করায় ক্ষতিগ্রস্তের সঠিক হিসাব জানানো সম্ভব হচ্ছে না। তবে কবিরহাট উপজেলার ১৩০ টি আধাপাকা ও কাঁচা ঘরের ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমাদের আরও তথ্য প্রতিনিয়ত আসছে।

জেলা প্রশাসক দেওয়ান মাহবুবুর রহমান বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের মাধ্যমে বিতরণের জন্য আমাদের ২৪ লাখ টাকা এবং ৪৭৯ মেট্রিক টন চাল প্রস্তুত আছে। ঝড়ো বাতাসে কিছু কাঁচা ঘরবাড়ি, আধাপাকা বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে আমরা জেনেছি। ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য আমরা কাজ করছি। এছাড়াও সেসব সড়কে গাছ উপড়ে পড়েছে আমাদের ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা সেসব গাছ সড়ক থেকে সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করছে।

আরও পড়ুন

  • বিশেষ প্রতিবেদন এর আরও খবর