• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ২১শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ৭ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ২০ নভেম্বর, ২০২৩
সর্বশেষ আপডেট : ২০ নভেম্বর, ২০২৩

ঘূর্ণিঝড় মিথিলি: মোবাইল চার্জ দিতে জেনারেটরের দোকানে ভিড়

নিজস্ব প্রতিবেদন : ঘূর্ণিঝড় মিধিলির প্রভাবে জেলার উপকূলজুড়ে সড়কের বিভিন্ন অংশে গাছ ভেঙে পড়ে যাওয়ায় বিচ্ছিন্ন রয়েছে বিদ্যুৎ সংযোগ। বিদ্যুৎ না থাকায় মোবাইল নেটওয়ার্কের ভোগান্তিতে রয়েছে মানুষ। তাই বাধ্য হয়ে মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক যন্ত্র চার্জ দিতে জেনারেটরের দোকানে ভিড় করছেন সাধারণ মানুষ।

সোমবার (২০ নভেম্বর) সন্ধ্যায় সুবর্ণচর উপজেলার পূর্ব চর বাটা ইউনিয়ননের পূর্ব চর মজিদ এলাকার সেলিম বাজারে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যুৎ না থাকায় হাসিফ পোল্ট্রি এবং সেলস সেন্টারে ডিজেলচালিত জেনারেটর দিয়ে মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন ইলেকট্রিক যন্ত্র চার্জ দেওয়ার ভিড় করছেন স্থানীয়রা। স্মার্টফোন ফুল চার্জ দিতে নেয় ২০ টাকা এবং বাটন ফোন চার্জ দিতে নেয় ১০ টাকা। এমন চিত্র আশপাশের প্রতিটি বাজারেই।

মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় বাজারে তিন পর চার্জ দিতে এসেছেন আরমান হোসেন অপু। তিনি বলেন, ঘূর্ণিঝড় মিধিলি যাওয়ার তিন দিনেও আমাদের এলাকায় বিদ্যুৎ আসে নাই। ঝড়ে গাছ পড়ে অসংখ্য বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে গেছে। দুর্ভোগের মধ্যে নেই বিদ্যুৎ। আবার মোবাইলের নেটওয়ার্কও নেই। বাধ্য হয়ে জেনেরেটরে চার্জ দিতে এসেছি। এখানে স্মার্টফোন চার্জ দিতে নিচ্ছে ২০ টাকা এবং বাটন ফোন চার্জ দিতে নিচ্ছে ১০ টাকা।

চার্জ দিতে আসা জাহাঙ্গীর নামের আরেকজন বলেন, সকালে ২০ টাকায় চার্জ দিয়ে গেছি। ভাই বিদেশে থাকে আমাদের নিয়ে চিন্তায় থাকে। তাই ভিডিও কলে কথা বলেছে। এছাড়াও আত্মীয় স্বজনের সাথে কথা বলেছি৷ আবার চার্জ দিতে এসেছি। টাকার থেকে জরুরি টা বেশি তাই জেনেরেটর একমাত্র ভরসা।

একই অবস্থা আশপাশের ইউনিয়ন গুলোর। চরক্লার্ক ইউনিয়নেরও। মধ্যম কেরামত পুরের বাসিন্দা দেলোয়ার হোসেন শরিফ বলেন, গত চার দিন এলাকায় কারেন্ট নাই।এখনো কবে আসবে সেটাও বুঝতেছিনা। আমরা অসহায় অবস্থায় আছি। বিদ্যুৎ অফিসে ফোন দিলে তারা বলে কাজ হচ্ছে। আসলে কি কাজ হচ্ছে এটা কেবল তারাই জানে।

হাসিফ পোল্ট্রি এবং সেলস সেন্টারের সত্ত্বাধিকারী মো. হাসিফ বলেন, বিদ্যুৎ নেই। তাই জেনারেটরের মাধ্যমে মোবাইল ফোন, ব্যাটারি, চার্জার লাইটে চার্জ দেওয়ার ব্যবস্থা করেছি নির্দিষ্ট সময়ে জেনেরেটর চালু করি আবার নির্দিষ্ট সময়ে বন্ধ করি । এতে দিন শেষে হাজারখানেক টাকা লাভ হয়ে থাকে।

পূর্ব চর বাটা ইউনিয়ননের চেয়ারম্যান আবুল বাসার মঞ্জু বলেন, উপকূলীয় উপজেলা সুবর্ণচরে ঘূর্ণিঝড় মিধিলির ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। গাছপালা উপড়ে যানচলাচল ব্যহত হয়েছে। বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙ্গে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে আছি। তাই জেনেরেটর দোকানে মোবাইল ফোনে চার্জ দিতে লম্বা লাইন পড়ছে।

নোয়াখালী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি সুবর্ণচর জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মো. ফসিউল হক জাহাঙ্গীর বলেন, প্রথমে আমরা মেইন লাইন চেক করেছি। পরবর্তীতে অন্য লাইন গুলো দেখা হচ্ছে। আজ পর্যন্ত আমাদের সুবর্ণচরের ৮০ শতাংশ লাইন সংযোগ দেওয়া হয়েছে। বাকি গুলো খুব দ্রুতই দেওয়া হবে। আসলে সুবর্ণচরে প্রচুর গাছ ভেঙে পড়েছে। এতে আমাদের কাজ করতে খুব অসুবিধা হচ্ছে।

আরও পড়ুন

  • বিশেষ প্রতিবেদন এর আরও খবর