• ঢাকা
  • সোমবার, ১৭ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ৩রা আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ২৭ নভেম্বর, ২০২৩
সর্বশেষ আপডেট : ২৭ নভেম্বর, ২০২৩

পুরো জেলা জুড়ে জমে উঠেছে শীতের পিঠা বিক্রি

স্টাফ রিপোর্টার : জেলা জুড়ে শীতের সাথে পাল্লা দিয়ে বিক্রি হচ্ছে শীতের পিঠা। মোড়ে মোড়ে বাহারি রকমের পিঠা তৈরি করছেন ভ্রাম্যমাণ দোকানিরা। পিঠার দোকানগুলোতে বাড়ছে ভিড়। গভীর রাত পর্যন্ত চলে পিঠা বিক্রি ও খাওয়ার পালা।

বিকেলে থেকেই হিমেল হাওয়ায় ধোয়া ওঠা শীত আর পিঠা যেন একই সূত্রে গাঁথা হয়ে দাঁড়িয়েছে মানুষের। গরম চিতই ও ভাপা পিঠার স্বাদ নিতে ভিড় করছেন বিভিন্ন বয়সের নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ। জেলা শহর মাইজদীর পাশাপাশি উপজেলার রাস্তার মোড়, হাট-বাজারগুলোতে বিক্রি হয় বাহারি রকমের শীতের পিঠা। একই সঙ্গে সিরিয়াল ধরে পিঠা খেতে মেতেছে সকল পেশা-শ্রেণির মানুষ।

সরেজমিনে দেখা যায়, শীতের পিঠার চাহিদাকে কেন্দ্র করে জেলা শহর মাইজদীর পাশাপাশি উপজেলা সমূহের বিভিন্ন রাস্তার মোড়ে গড়ে উঠেছে অসংখ্য পিঠাপুলির দোকান। শীত আসার সঙ্গে সঙ্গে অনেকেই মৌসুমি পেশা হিসাবে সড়কের পাশে অস্থায়ীভাবে পিঠা বিক্রি করছেন। গরম গরম পিঠা নামছে চুলা থেকে। ক্রেতারা সারিবদ্ধ হয়ে পিঠা কিনছেন। কেউ নিয়ে যাচ্ছেন। কেউ আবার দাঁড়িয়ে খাচ্ছেন।

কোনো চুলায় ভাপাপিঠা, কোনোটিতে চিতই, কোনোটিতে ডিম বা অন্য কোনো পিঠা। শীত যতই বাড়ছে এসব পিঠাপুলির দোকান গুলোতে ভিড় বাড়ছে। দোকানগুলোয় পিঠার পাশাপাশি থাকছে হরেক রকম ভর্তা।

প্রতিদিন বিকাল থেকেই পিঠা বিক্রির ধুম পড়ে সড়কের পাশে অস্থায়ীভাবে গড়ে ওঠা দোকানগুলোয়। সন্ধ্যা হলেই বেড়ে যায় ক্রেতা সমাগম, যা মধ্যরাত পর্যন্ত থাকে। রসুন-মরিচবাটা, ধনিয়াপাতা বাটা, শুঁটকি, কালোজিরা, সর্ষে ভর্তাসহ নানা রকম উপকরণ মিলিয়ে বিক্রি করা হয় চিতই পিঠা। এর মধ্যে ভাপা আর চিতই পিঠার কদর বেশি। প্রতিটি বিক্রি হয় ৫ থেকে ১০ টাকা আর ডিম পিঠি ২৫ টাকা করে।

চৌমুহনী বাজারে ভ্রাম্যমাণ দোকানে পিঠা খেতে আসা ফাইয়াজ ইফতি বলেন, শীত বাড়ার সাথে সাথে পিঠার দোকানে ভীড় ভেড়ে গেছে। আগে সন্ধ্যার পর পিঠার দোকানে ভীড় হলেও এখন বিকেল থেকেই ভিড় হচ্ছে। কেউ কেউ দাঁড়িয়ে খাচ্ছে কেউ আবার বাসায় নিয়ে যাচ্ছে।

সরকারি চাকরিজীবী ফাহমিদা সুলতানা বলেন, চাকরী করে বাসায় ওভাবে সময় হয়না চালের গুঁড়ি করে নানা রকমের পিঠা বানানোর। রাস্তার পাশে বিভিন্ন রকমের পিঠা পাওয়া যায়। নিজে না বানালেও এসব দোকানে পিঠা খাওয়ার অন্যরকম ভালো লাগে।

বাবা মায়ের সাথে পিঠা খেতে এসেছেন নিসর্গ (৭)। সে বলেন, শীতের পিঠার মজাই আলাদা। আমরা এখানে আসি, নানান রকমের পিঠা খাই। আমার কাছে খুব ভাল লাগে।
বান্ধুবিসহ নিজে পিঠা খেতে এবং বাসায় নিয়ে যেতে ভ্রাম্যমাণ পিঠা দোকানে এসেছেন কলেজ ছাত্রী নওশিন তাবাসসুম। তিনি বলেন, বাসায় সব রকমের ভর্তা পাওয়া যায় না। এখানে সকল ভর্তা পাওয়া যায়। রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে ভর্তা দিয়ে চিতই পিঠা খাওয়ার মজাই আলাদা। বাসায় ও নিয়ে যাবো।

টাউনহল মোড়ে আত্মীয় স্বজনদের সাথে পিঠা খেতে এসেছেন মাহাদী হাসান। তিনি বলেন, আমার আত্মীয় স্বজনসহ পিঠা খেতে এসেছি। এখানে অনেক রকমের পিঠা পাওয়া যায়। অনেক রকমের ভর্তাও পাওয়া যায়। এগুলো দিয়ে গরম গরম পিঠা খেতে খুব ভাল লাগছে।

ইয়াসমিন সুলতানা নামের এক কলেজ শিক্ষার্থী বলেন, শীতকাল যেহেতু তাই বাঙালির প্রিয় হলো পিঠা। বিভিন্ন পিঠার জন্য নোয়াখালী বিখ্যাত। আম্মু চাকরিজীবী তাই বাসায় তেমন পিঠা বানানো হয়না। তাই গরম গরম পিঠা খেতে এসেছি।

সোনাপুর জিরো পয়েন্টের পিঠা বিক্রেতা আবদুল হাকিম বলেন, আমি প্রতিবছর শীতে পিঠা বিক্রি করি। শীতের সাথে সাথে পিঠার চাহিদা বেড়েছে। বানিয়ে শেষ করতে পারছিনা। মালপুয়া, পাটি সাপটা, ভাপা, চিতই, তেলের পিঠাসহ নানা ধরনের মুখরোচক পিঠা বিক্রি করছি।

টাউনহল মোড়ের পিঠা বিক্রেতা আনিসুর রহমান বলেন, বিকেল চার টা থেকে রাত ১২ টা পর্যন্ত পিঠা বিক্রি করি। এ বছর শীতে প্রচুর পিঠা বিক্রি হচ্ছে। দিন কমপক্ষে ১০ হাজার টাকা বিক্রি হয় আবার কখনো কখনো বেশিও বিক্রি হয়। সন্ধ্যার পর থেকে রাত ১০ টা পর্যন্ত প্রচুর ভীড় হয়

আরও পড়ুন