• ঢাকা
  • বুধবার, ২২শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ৮ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ১৪ ডিসেম্বর, ২০২৩
সর্বশেষ আপডেট : ১৪ ডিসেম্বর, ২০২৩

ধানখেতে মিললো বিষধর রাসেল ভাইপার

উপজেলা প্রতিনিধি, হাতিয়া : দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার একটি ধানখেত থেকে বিষধর ‘রাসেল ভাইপার’ সাপ পাওয়া গেছে। জাতীয় জরুরী সেবা নম্বর ৯৯৯ থেকে কল পেয়ে বনবিভাগ সাপটি উদ্ধার করে। মাঝারি আকৃতির রাসেল ভাইপার সাপটিকে অজগর সাপ ভেবে উদ্ধার করে এলাকাবাসী।

মঙ্গলবার (১২ ডিসেম্বর) সাপটিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের ভেনম রিসার্চ সেন্টারে প্রেরণ করে উপকূলীয় বন বিভাগ নোয়াখালীর বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আবু ইউসুফ।

জানা যায়, বাংলাদেশে প্রায় বিলুপ্ত ভয়ংকর বিষধর সাপ রাসেল ভাইপারের সন্ধান মিলেছে। এর আগে রাজশাহী এবং পাবনায় কয়েকটি জেলায় দেখা মিললেও নোয়াখালীতে এবার প্রথমবারের মতো দেখা মিলল এই ভয়ঙ্কর সাপটির। হাতিয়া উপজেলা চানন্দী ইউনিয়নে সাঈদপুর গ্রামের আজাদের বাড়ির পাশে ধানখেতে অজগর সাপ ভেবে সাপটিকে ধরে স্থানীয়রা। পরবর্তী সময়ে ৯৯৯-এ কল দিয়ে বিষয়টি উপকূলীয় বন বিভাগ নোয়াখালীর বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আবু ইউসুফকে জানানো হয়। তিনি সুবর্ণচর উপজেলা বন কর্মকর্তা মো. আনোয়ার হোসেনকে ঘটনাস্থলে প্রেরণ করে। আনোয়ার হোসেন সাপটি উদ্ধার করে উপকূলীয় বন বিভাগ নোয়াখালীর বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আবু ইউসুফের কাছে হস্তান্তর করেন। পরবর্তী সময়ে সাপটি চট্রগ্রাম মেডিকেল কলেজের ভেনম রিসার্চ সেন্টারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

আরও জানা যায়, ‘রাসেল ভাইপার’ সাপটি খুবই বিষধর। ২০১৩ সালে চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলার বরেন্দ্র গ্রামে এক কৃষককে এবং গত বছর রাজশাহীর তানোর এবং নওগাঁর ধামইরহাটে আরও দুইজনকে এই সাপটি কামড় দেয়। চিকিৎসাধীন থাকার পরেও তাদের শরীরে পচন ধরে যায়। পচন ধরা অংশ কেটে ফেলার পরও তাদের বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

সুবর্ণচর উপজেলা বন কর্মকর্তা মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, কয়েকজন কৃষক খেতে ধান কাটছিলেন। এসময় তারা সাপটি দেখতে পান। পরে সবাই মিলে সাপটিকে আটক করে বস্তায় ভরেন। তারা অজগরের বাচ্চা মনে করে ৯৯৯ এ কল করেন। আমি উদ্ধার করে সাপটিকে উপকূলীয় বন বিভাগ নোয়াখালী অফিসে হস্তান্তর করি।

উপকূলীয় বন বিভাগ নোয়াখালীর বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আবু ইউসুফ বলেন, ‘রাসেলস ভাইপার’ সাপটি খুবই বিষধর এবং দুর্লভ সাপ। দেশের রাজশাহী, নাটর, নওগাঁ, দিনাজপুর, ফরিদপুর, শরীয়তপুর জেলায় এই ধরনের সাপ দেখতে পাওয়া গেলেও নোয়াখালীতে এটি দেখা যায়নি। হয়তো বন্যার পানির সঙ্গে ভেসে সাপটি এখানে চলে এসেছে।

তিনি আরও বলেন, এটি গবেষণার কাজে ব্যবহারের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের রিসার্চ সেন্টারে হস্তান্তর করা হয়েছে যাতে করে তারা রিসার্চ করে এই সাপে কাটার এন্টিডোর তৈরি করতে পারে। যারা এই সাপটি না মেরে বাঁচিয়ে রেখেছে আমি তাদের ধন্যবাদ জানাই। পাশাপাশি এই ধরনের বিষধর সাপ দেখতে পেলে বিশেষজ্ঞদের জানানোর পরামর্শ দিচ্ছি। সাধারণ মানুষকে সাপের নিকট না যাওয়ার অনুরোধ রইলো।

আরও পড়ুন

  • হাতিয়া এর আরও খবর