• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ১৮ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ৪ঠা আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ২২ ডিসেম্বর, ২০২৩
সর্বশেষ আপডেট : ২২ ডিসেম্বর, ২০২৩

৩০ বছর ধরে পিঠা বিক্রি করে পেট চলে সোলেমানের, বিয়ে দিয়েছেন ৬ মেয়েকে

উপজেলা প্রতিনিধি, কোম্পানীগঞ্জ : কোম্পানীগঞ্জের চর এলাহী ইউনিয়নে ৩০ বছর ধরে পিঠা বিক্রি করে পেট চলে মো. সোলেমানের (৫৫)। পিঠা বিক্রির করে ঘুরে দাঁড়িয়েছেন তিনি। আয় দিয়ে সাত মেয়ের মধ্যে ছয় মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন। মো. সোলেমান নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরএলাহী ইউনিয়নের চর এলাহী গ্রামের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা সোলেমান ভুলুগো বাড়ির আব্দুল মান্নানের ছেলে।

সরেজমিনে দেখা যায়, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরএলাহী ইউনিয়নের চর এলাহী বাজারে প্লাস্টিকে মোড়ানো ঘরে সোলেমানের পিঠার দোকান। প্রায় ৩০ বছর ধরে তিনি ১২ মাস পিঠা বিক্রি করে আসছেন। তিনি ধোঁয়াসহ গরম পিঠা নামাচ্ছেন আর সঙ্গে সঙ্গেই সে পিঠা বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। কেউ খাচ্ছেন, কেউবা কাগজের ঠোঙায় মুড়িয়ে পিঠা নিয়ে যাচ্ছেন বাড়িতে।

স্থানীয়রা জানায়, সোলেমানের পিঠা মানেই অন্য রকম স্বাদ। একের পর এক লাইন ধরে পিঠা কেনেন ক্রেতারা। দূর-দূরান্ত থেকেও আসেন অনেকে। তার পিঠার সুনাম নোয়াখালীসহ আশপাশের জেলায় ছড়িয়ে পড়েছে। গরম পিঠা খেতে বিকেল থেকে ভিড় লেগে থাকে দোকানে।

জানা যায়, নারিকেল ও খেঁজুর গুড়ের তৈরি ভাপা পিঠা, চিতই পিঠা, ঝাল-মসলা পিঠা, সাদা পিঠা, তেলের পিঠা, দুধ পিঠা, মাশকলাইয়ের রুটি, নানা রকম মসলার তৈরি ধনিয়া পাতার চাটনিসহ বাহারি সব পিঠা সোলেমানের দোকানে পাওয়া যায়। এছাড়া সারা বছর নোয়াখালীর আঞ্চলিক সব পিঠা বিক্রি করেন সোলেমান। শীতের শুরুতে বেশি জমে উঠে পুলি পিঠা বিক্রি। শেষ বিকেল থেকেই পিঠার স্বাদ নিতে ভিড় করেন বিভিন্ন বয়সের মানুষ।

লক্ষ্মীপুরের রামগতির জয়নাল মিয়া বলেন, সোলেমানের পিঠা ভালো হয়। তার বানানোও ভালো হয়। আমরা রামগতি থেকে আসি এইখানে কাজের জন্য। দীর্ঘদিন ধরে আমরা তার দোকানের পিঠা খাই।

পিঠা খেতে আসা মনিরুল হক বলেন, এই বাজার টা ছোট এবং গ্রাম্য এলাকা। এখানে নদী অধ্যুষিত হওয়ায় সবাই ছোট ছোট কোনো না কোনো ব্যবসা করে জীবিকা নির্বাহ করেন। আবার অনেকে মাছও ধরেন। আমি এই বাজারে আসলেই সোলেমানের দোকানে বসি। যেকোনো একটা আইটেম খাই। তার ব্যবহারও ভালো এবং পিঠা গুলোও সুস্বাদু।

মোহাম্মদ ওয়ালি উল্লাহ নামের আরেকজন বলেন, আমি আসছি বসুরহাট থেকে ঘুরার জন্য। এখানে এসে পিঠা খেয়েছি। এখন পেয়াজু খাচ্ছি। খুব ভাল লাগতেসে।

পিঠা নিতে আসা কামরুন নাহার বলেন, অনেক সময় ঘরে পিঠা বানানো হয় না। এই পিঠা গুলো স্বাদ অনেক। তাই বাসায় নিয়ে যাচ্ছি।

পিঠা বিক্রেতা সোলেমান বলেন, ছোট বেলায় কাজ কর্ম করতাম। এরপর আজ ৩০ বছর ধরে পিঠা বিক্রি করি। অন্যসময় আর কাজ করতে পারি না। আগে নদীতে নৌকায় পিঠা বিক্রি করেছি। অন্য কাজ করতে পারি না। এই দোকানের উপর ভর করে ছয়টা মেয়ে বিয়ে দিয়েছি। আর একটা মেয়ে আছে।

সোলেমান আরও বলেন, অনেক দূর দূরান্তের মানুষ পিঠা খেতে আসে। নতুন চালের গুড়ো ও নারিকেল চিনি গুড় দিয়ে যত্ন সহকারে পিঠা তৈরি করি। পিঠা প্রতি পিস পাঁচ/দশ টাকা করে বিক্রি করি। প্রতিদিন ৮-১০ কেজি চালের পিঠা বিক্রি হয়। শীতের পুলি-পিঠার সঙ্গে বাড়তি হিসেবে ভাপা-চিতই পিঠাও তৈরি করি। এছাড়াও নোয়াখালীর জনপ্রিয় পিঠাগুলো সারা বছর বিক্রি করি। কিন্তু শীত এলে পিঠা বিক্রির চাপ বেড়ে যায়।

চর এলাহী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবদুর রাজ্জাক বলেন, সোলেমান দীর্ঘদিন ধরে পিঠা করে স্বাবলম্বী হয়েছে। তার আয় থেকে ছয়টা মেয়েকে সে বিয়ে দিয়েছে। আমরাও তার দোকানের পিঠা খাই। সুন্দরভাবে যেনো পিঠা বিক্রি করতে পারে সেইজন্য আমি তাকে সহযোগিতা করি। সামনে যদি কোনো সরকারি সুযোগ সুবিধা আসে আমি তাকে দেওয়ার চেষ্টা করবো।

আরও পড়ুন