• ঢাকা
  • বুধবার, ২২শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ৮ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৩
সর্বশেষ আপডেট : ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৩

নোয়াখালী-৩/নৌকার গলার কাটা ট্রাক, ট্রাকে ধরাশায়ী হওয়ার আশঙ্কা নৌকার

নিজস্ব প্রতিবেদন : দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নোয়াখালী-৩ (বেগমগঞ্জ) আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী দুবারের সংসদ সদস্য মামুনুর রশীদ কিরণকে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছেন নিজ দলের স্বতন্ত্র প্রার্থী ট্রাক প্রতীকের মিনহাজ আহমেদ জাবেদ। দীর্ঘদিন ধরেই এলাকায় বিভিন্ন জনকল্যাণমুখী কাজের সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িত রয়েছেন মিনহাজ আহমেদ জাবেদ। বিপরীতে বর্তমান এমপি মামুনুর রশীদ কিরণও সরকারি উন্নয়নের পাশাপাশি বিভিন্ন জনকল্যাণমুখী কাজের সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িত রয়েছেন। তবে নারী নির্যাতন, কিশোর গ্যাং, মন্দির হামলাসহ নানান অভিযোগে অভিযুক্ত বর্তমান এমপি কিরণ। এছাড়াও উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ডা. জাফর উল্যাহসহ আওয়ামী লীগের একাংশ ট্রাক প্রতীকের পক্ষেই অবস্থান নিয়েছেন। ফলে নির্বাচনে নৌকার গলার কাটা হিসেবে স্পষ্ট অবস্থানে আছে ট্রাক।

জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, নোয়াখালী-৩ আসনে মোট ছয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন, আওয়ামী লীগের মো. মামুনুর রশীদ কিরন (নৌকা), স্বতন্ত্র মিনহাজ আহমেদ (ট্রাক), বাংলাদেশ সাম্যবাদী দলের মহি উদ্দিন (চাকা), জাতীয় পার্টির ফজলে এলাহী সোহাগ (লাঙ্গল), জাসদের জয়নাল আবেদিন (মশাল), বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক দলের মো. সুমন আল হোসাইন ভূঁইয়া (ছড়ি)। ১৬ ইউনিয়নের এই আসনে মোট ভোটকেন্দ্র রয়েছে ১৪৯টি এবং মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৭৩ হাজার ৭ জন।

চৌমুহনী বাজারের ব্যবসায়ী মতিউল ইসলাম বলেন, বেগমগঞ্জ সারাবছর জুড়ে আলোচনা- সমালোচনায় থাকে। নোয়াখালীর বানিজ্য কেন্দ্র হওয়ায় এটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী এলাকা। তাই ভোটাররা যেন নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে যেতে পারেন সেটা নিশ্চিত করতে হবে। তাহলেই ভোটাররা কেন্দ্রে যাবে।

ট্রাক প্রতীকের প্রার্থীর সমর্থক তারেক আজিজ বলেন,আমরা মনে করি ট্রাক প্রতিক অনেক এগিয়ে আছে। তবে সুষ্ঠু ভোটের জন্য সুষ্ঠু নিরপেক্ষ পরিবেশ জরুরি। আমাদের প্রার্থী যেখানেই যাচ্ছেন মানুষ সাড়া দিচ্ছেন। ফলে ট্রাকের পাল্লা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর সমর্থক আবু নাসের বলেন, নৌকার ব্যাপক কার্যক্রম মানুষ পেয়েছে। শেখ হাসিনার উন্নয়ন বলে শেষ করা যাবে না। কিরণ ভাই একজন ভাল মানুষ। তিনি কোনো ঝামেলার মধ্যে নাই। অত্যন্ত সহজ সরল মানুষের জয় হবে বলে আমরা আশাবাদী।

ট্রাক প্রতিকের প্রার্থী মিনহাজ আহমেদ জাবেদ বলেন, প্রশাসন যদি সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচনের নিশ্চয়তা দেয় তাহলে আমি জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা শতভাগ। কেননা ট্রাকের ভোট মানুষ করছেন। আমি অনেক স্থানে যেতেও পারি নাই। আমাকে সবাই মন থেকে চাচ্ছেন। যদি আমি জয়ী হই তাহলে ট্রাকে করে উন্নয়ন মানুষের মাঝে বিলিয়ে দিবো। গুরুত্বপূর্ণ এই আসনকে স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে কাজ করবো।

আওয়ামী লীগের প্রার্থী মামুনুর রশীদ কিরণ বলেন, নৌকা স্বাধীনতার মার্কা বঙ্গবন্ধুর মার্কা। বঙ্গবন্ধুর কন্যা আমাকে নৌকা দিয়ে পাঠিয়েছেন। আমি স্মার্ট বাংলাদেশ বাস্তবায়নের জন্য উন্নত স্মার্ট বেগমগঞ্জ গড়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছি। একইসঙ্গে দেশে চলমান উন্নয়নগুলোকে টেকসই উন্নয়ন করতে ভূমিকা পালন করবো। তাই সাধারণ মানুষের উদ্দেশ্যে বলব, আপনার ৭ তারিখে কেন্দ্রে আসুন। যাকে ইচ্ছা তাকে ভোট দিন। তবে মানুষ নৌকায় ভোট দিবে, নৌকার পক্ষে গণজোয়ার হচ্ছে।

নৌকা ও ট্রাক প্রতিকের বাহিরে এই আসনে জনপ্রিয়তা আছে বাংলাদেশ সাম্যবাদী দলের মহি উদ্দিন (চাকা), জাতীয় পার্টির ফজলে এলাহী সোহাগ (লাঙ্গল) ও জাসদের জয়নাল আবেদিন (মশাল) এর প্রার্থীদের৷

মশাল প্রতিকের জাসদের প্রার্থী জয়নাল আবেদিন বলেন, বেগমগঞ্জের গণমানুষের মার্কা মশাল। এই এলাকার মানুষ সবসময়ই প্রগতির চাকাকে সামনের দিকেই নিয়ে গেছেন। আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন করতে এসে সে চেতনার জাগ্রত রূপ লক্ষ্য করলাম। মানুষ অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে পরিবর্তনের অঙ্গীকার নিয়ে ‌। আমরা যদি মানুষের সাহসকে মূল্যদিতে পারি এবং মানুষের আকাঙ্ক্ষার সম্মান রাখতে পারি তবে পরিবর্তন সময়ের ব্যাপার মাত্র। তাই সকলকে বলবো আপনি ভোট কেন্দ্রে আসুন। আপনার ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটান। যাকে খুশি তাকে ভোট দিন। হয়ত আপনার স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথ খুঁজে পাবে।

লাঙ্গল প্রতিকের জাতীয় পার্টির প্রার্থী ফজলে এলাহী সোহাগ বলেন, ভোটের দিন যত ঘনিয়ে আসছে ততল উত্তাল হচ্ছে বেগমগঞ্জ। বেগমগঞ্জ উপজেলায় জাতীয় পার্টির অবস্থান ভাল। বিশাল একটা ভোট ব্যাংক আমাদের আছে। আমরা কাজ করে যাচ্ছি জনগণ তার রায় দিবে। যদি সুষ্ঠু ভোট হয় তাহলে মানুষ কেন্দ্রে যাবে ভোট দিবে। পরিবেশ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ রাখা জরুরি।

চাকা প্রতিকের বাংলাদেশ সাম্যবাদী দলের প্রার্থী মহি উদ্দিন বলেন, সকল মানুষের জন্য গণতান্ত্রিক ও সম্মানজনক বাচাঁর অধিকার কালো টাকা, অর্থ পাচার, ঘুষ দুর্নীতি দুর্বৃত্তায়ন লুণ্ঠন, নিপীড়ন মুক্ত বাংলাদেশ। নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য মূল্য শ্রমিক, কৃষক, শ্রমজীবী মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখতে সম্পূর্ণ বিনা খরচে শিক্ষা, চিকিৎসা, ছিন্নমূল মানুষের বসতঘর ব্যবস্থা করতে। শ্রমিক কৃষি শ্রমিক, মেহনতি মানুষের ন্যায্য মজুরি। অবিলম্বে ভূমি সংস্কার ও ভূমিহীন ক্ষেতমজুর গরীব কৃষকদের মধ্যে খাস, উদ্বৃত্ত জমিন বিতরন। কৃষিপণ্যের ন্যায্য মূল্য নির্ধারণ শ্রমিক ক্ষেতমজুর গরীব কৃষক, নিম্নমধ্যবিত্তদের জন্য পূর্ণ রেশনিং ব্যাবস্থা চালু। অসহায় নারী শিশু বয়স্কদের রাষ্ট্রীয় পরিচর্যা ও সুরক্ষা। প্রবাসীদের যথাযথ মূল্যায়নের জন্য প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ। শিক্ষিত অশিক্ষিত বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে আমি প্রার্থী হয়েছি। আমি জয়ী হয়ে সবার দাবি পূরণ করতে চাই। তাই আগামী ৭ জানুয়ারি বেগমগঞ্জবাসীর কাছে চাকা মার্কায় ভোট চাই।

আরও পড়ুন

  • বিশেষ প্রতিবেদন এর আরও খবর