• ঢাকা
  • রবিবার, ১৯শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ৫ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ১৬ জানুয়ারি, ২০২৪
সর্বশেষ আপডেট : ১৬ জানুয়ারি, ২০২৪

মিশ্র ফলবাগান করে চমক লাগিয়েছে হাতিয়ার কৃষক খানসাবের

উপজেলা প্রতিনিধি, হাতিয়া : একই জামিতে ড্রাগন ফলের পাশাপাশি বারোমাসী পেয়ারা, পেপে ,মাল্টা, খোরমা খেজুর ও কুল সহ বিভিন্ন মিশ্র ফলের বাগান করে সাফল্যের চমক সৃষ্টি করেছেন এক সময়ের সবজি চাষী নুর নবী খান সাব। একই আঙ্গিনায় রয়েছে তার মাছ, মুরগী-গরুর খামারও। নিজ উদ্যোগে প্রত্যন্ত অঞ্চলে এমন মিশ্র ফলের বিশাল বাগান করে শুধু তৃপ্তি নয়, আত্মর্নিভরশীল হয়ে উঠেছেন নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার চরঈশ্বর ইউনিয়নের হামিদুল্লাহ গ্রামের এই বাগানচারী উদ্যোক্তা।

কোন মৌসুম নয়, এখন সারাবছর ধরেই তিনি ফলাচ্ছেন পেপে, পেয়ারা,টমেটো, শসা সহ নানান ফল। একই জমিতে আম, লিচু জাম্বুরার সঙ্গে শোভা পাচ্ছে বিভিন্ন জাতের রকমারী বরই। কী নেই খান সাবের মিশ্র বাগানটিতে। রয়েছে খোরমা খেজুর গাছও, তবে গাছগুলো এখনো পরিপক্ব হয়নি। ড্রাগনেরও ভাল ফলন হয়েছে ইতোপূর্বে। নতুন মুকুল আসবে ফাল্গুন মাসে। এরই মাধ্যমে গড়ে উঠছে খানসাবের প্রায় আড়াই একরের বিশাল ফলের বাগান। প্রায় ৫০ প্রজাতির ফলগাছ রয়েছে বাগানটিতে। বসত ঘরের পাশেই রয়েছে খান সাবের গরুর ও মুরগীর খামার। ফল বাগানের ভিতরকার পুকুর গুলোতে চলে রেনু উৎপাদন। সরকারী বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণ নিয়ে অর্জিত অভিজ্ঞতা এখন নিজের বাগানে প্রয়োগ করছেন খান সাব।

নিজের ফসলি জমি সহ বাৎসরিক ভাড়া করা ৮০শতক জমি নিয়ে তিনি গড়ে তোলেন প্রায় আড়াই একর বানিজ্যিক বাগান। খরচপাতি বাদে যা থেকে বছর প্রতি তার আয় হয় ৫ লাখের অধিক। বাগানের পুরো জমি যেন সব সময় কাজে লাগে সে জন্য মিশ্র ফলফলাদি, গবাদিপশু, পোনামাছ সহ শীতকালীন সবজি উৎপাদনে নিজের পরিকল্পনাকে কাজে লাগান বলে জানান এই বাগানচারী উদ্যোক্তা খানসাব। তিনি জানান ২০১২ সালে প্রথমে সবজি চাষ শুরু করেন। এবং গত ৩ বছর আগে থেকে শুরু করেন ফলফলাদি এবং বিভিন্ন খামার। স্থানীয় বাসিন্দা হৃদয় সহ একাধিক ব্যক্তি জানান, খান সাবের খামার এই এলাকায় খুব সারা ফেলেছে, আমরা সবসময় এখান থেকে প্রয়োজনীয় ফল-সবজি কিনে নিই। তাকে অনুকরণ করে পার্শ্ববর্তী আফছার আলাউদ্দিনও এ পেশায় জড়িত হয়েছে বলে জানান তারা।

খান সাবের খামার থেকে ফল কিনতে আসা সঞ্জয় সাহা নামের এক ক্রেতা জানান, খান সাহেব হাতিয়ার কৃষি ও ফল উৎপাদনে এক উজ্জ্বল ও আদর্শ কৃষক। হাতিয়া উপজেলা কৃষি অফিসার জানান, খান সাহেব’ কে কৃষি অফিস থেকে বিভিন্ন কৃষি উপকরণ ও প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। বেকার যুবকেরাও যদি খান সাহেবের মতো এমন উচ্চমূল্যের ফসল ফলায় তবে দেশের কৃষি অর্থনীতি সমৃদ্ধ হবে।

আরও পড়ুন

  • হাতিয়া এর আরও খবর