• ঢাকা
  • বুধবার, ২২শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ৮ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ২৩ জানুয়ারি, ২০২৪
সর্বশেষ আপডেট : ২৩ জানুয়ারি, ২০২৪

বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৩, শিক্ষক ৫ জন

নিউজ ডেস্ক : নন্দীরপাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। সেনবাগ উপজেলার কাদরা ইউনিয়নে অবস্থিত এ বিদ্যালয়ে মাত্র তিনজন শিক্ষার্থী রয়েছে। আর এখানে শিক্ষক আছেন পাঁচজন।

অভিযোগ রয়েছে, একই শিক্ষার্থীর নাম বিভিন্ন শ্রেণিতে দেখিয়ে এবং অন্য বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নাম লিখে হাজিরা খাতায় দেখানো হয়েছে ৫০ জন। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকার সঙ্গে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির দ্বন্দ্বের জেরে এমন অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। এ বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠিত হলেও দীর্ঘদিনেও আলোর মুখ দেখেনি তদন্ত প্রতিবেদন।

১৮ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় নন্দীরপাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে কোনো শিক্ষার্থীকে দেখা যায়নি। অফিস রুমে অলস বসে থাকতে দেখা গেছে পাঁচ শিক্ষককে। ১৯৭৪ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টিতে পাঁচ শিক্ষকের বিপরীতে ২০০ জন শিক্ষার্থী থাকার কথা থাকলেও গেল বছর ছিল চারজন আর এ বছর আছে তিনজন। নিয়মিত ক্লাস করে মাত্র একজন শিক্ষার্থী।

জানা যায়, এ বিদ্যালয়ে প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ছয়টি শ্রেণিতে শিক্ষার্থী আছে মোট তিনজন। কিন্তু ওই দিন একজন শিক্ষার্থীও বিদ্যালয়ে আসেনি। বিদ্যালয়ের পাশের বাজারে পাওয়া গেছে পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে। যে এখনো নিজের নাম বানান করতে শেখেনি।

সহকারী শিক্ষকরা জানান, প্রতিদিনই তারা বিদ্যালয়ে আসেন। কিন্তু শিক্ষার্থী না থাকায় অলস বসে থাকতে হয়। বিষয়টি তাদেরও খারাপ লাগে।

ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা রাশেদা আক্তার বলেন, এমন অবস্থার জন্য ম্যানেজিং কমিটি দায়ী। তারা আমার কাছে বিভিন্ন সময় আপ্যায়নসহ নানা বিষয়ে টাকা দাবি করে আসছেন। না দেওয়ায় তারা অভিভাবকদের প্রভাবিত করে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অন্য বিদ্যালয় ও মাদরাসায় নিয়ে যাচ্ছেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে ম্যানেজিং কমিটির কাউকে পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, শিক্ষকদের উদাসীনতা আর পড়ালেখার মান না থাকায় শিক্ষার্থীরা সব চলে গেছে মাদরাসায়।

একজন অভিভাবক বলেন, আমার সন্তানসহ যে কয়েকজন লেখাপড়া করছে, তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন। এটার সমাধান না হলে সন্তানকে অন্য কোথাও নিয়ে যাব।

সেনবাগ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জিসান বিন মাজেদ জানান, ২০২২ সালে ম্যানেজিং কমিটি ও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকার দ্বন্দ্বের জেরে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। কয়েক মাস আগে এ বিষয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে।

বিদ্যালয়টিকে বিলুপ্তির হাত থেকে বাঁচানোর জন্য দ্রুত সব পক্ষকে নিয়ে আলোচনায় বসার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান এ কর্মকর্তা।

আরও পড়ুন

  • বিশেষ প্রতিবেদন এর আরও খবর