• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ২১শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ৭ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ২৭ জানুয়ারি, ২০২৪
সর্বশেষ আপডেট : ২৭ জানুয়ারি, ২০২৪

জেনেটিকা ইন্ডাষ্ট্রিজের কীটনাশকে হাতিয়ার ৫০ তরমুজ চাষীর কপাল পুড়ল

উপজেলা প্রতিনিধি, হাতিয়া : হাতিয়া উপজেলায় তরমুজ ক্ষেতে জেনেটিকা ইন্ডাষ্ট্রিজ লি: এর এগবেন ৫০% তরল কীটনাশক ব্যবহার করায় নষ্ট হয়ে গেছে ১ হাজার একর জমির তরমুজ। তরল এই কীটনাশক ব্যবহারে তরমুজ ক্ষেত নষ্ট হওয়ার অভিযোগ করেছেন উপজেলার চরকিং ইউনিয়নের ২২ নম্বর গ্রামের ৫০ জন কৃষক।

কীটনাশক কোম্পানির স্থানীয় ডিলার যুবরাজ এবং শামীমের বিরুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বরাবর একটি অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ পত্রে বলা হয় স্থানীয় জনতা বাজার কীটনাশক দোকান থেকে ঔষধ ব্যবহারের কিছুদিন পর থেকে তরমুজগাছ জট বেঁধে গেছে। কোম্পানির প্রতিনিধির সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তারা মোবাইল রিসীভ করছেনা।

অভিযোগ সম্পর্কে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান নাইম উদ্দিন আহমেদ জানান, সমস্যা সমাধানের পথ খোঁজার জন্য উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা, উপসহকারী কৃষি এবং স্থানীয় ওয়ার্ড মেম্বারসহ একটা সমন্বয়টিম গঠন করা হয়েছে।

বুধবার সরেজমিনে ক্ষতিগ্রস্ত তরমুজ ক্ষেত পর্যবেক্ষণ করে চাষীদের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে।

চাষীরা জানায়, এই এলাকায় প্রায় একশ কানির (১ হাজার ৬০০ একর) উপরে তরমুজ চাষ হয়। এরমধ্যে তারা প্রায় ৫০ জন চাষী ৬০ কানি( ৯ হাজার ৬০০ একর) জমিতে এই এগবেন ৫০% ব্যবহারের পর তাদের তরমুজগাছ জট বেঁধে গেছে। যা আর সেরে উঠার নয়। এতে তাদের হিস্যা হারে দেড় থেকে ২ লাখ টাকা করে ক্ষতি হবে বলে জানান। কিন্তু যে ক্ষেতগুলোতে এই কীটনাশক দেওয়া হয়নি সে ক্ষেতের তরমুজ খুব ভাল রয়েছে। তারা আরো জানান, যুবরাজের দাসপাড়া বাজারের কীটনাশকের দোকান এবং শামীমের জনতা বাজারের কীটনাশকের দোকান থেকে প্রতিবছর আমরা লাখ লাখ টাকার কীটনাশক ক্রয় করি। ঔষধও আমরা সঠিক নিয়মে এবং সঠিক মাত্রায় দিয়েছি। কিন্তু কোম্পানির ভেজাল কীটনাশকের কারণেই আমাদের সব চালান শেষ।

এই তরল কীটনাশক ব্যবহারে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক আবুল কালাম জানান, সে ব্রাক থেকে ৫০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে বর্গা জমিতে তরমুজ চাষ করেছে। খবির, তুহিন ও রায়হান নামের তরমুজ চাষীও একই কথা জানান। একই এলাকার জামাল নামের আরেক তরমুজ চাষী জানায়, বছরে ২৪ হাজার টাকা কিস্তিতে মহাজন থেকে ১ লাখ টাকা ঋণ নিয়েছি। অথচ এই ভেজাল কীটনাশক আমাদের সব আশা শেষ করে দিয়েছে।

উপজেলা কৃষিসম্প্রসার কর্মকর্তা সুবাস চন্দ্র পাল জানান, কীটনাশক কোম্পানির প্রতিনিধি এবং ডিলারা বৃহস্পতিবার (২৫ জানুয়ারী) ঘটনাস্থলে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা করবে। এবং তরমুজ গাছের জট সারার জন্য নতুন করে কীটনাশক সরবরাহ করতে বলা হয়েছে।

কিন্তু জেনেটিকা ইন্ডাষ্ট্রিজের স্থানীয় ডিলার যুবরাজ এবং শামীম ভেজাল কীটনাশকে ফসল নষ্টের দায় অস্বীকার করেন।

এছাড়া কোম্পানির দায়িত্বশীল কারো সাথে যোগাযোগের উপায় না পেয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাদে পেইজে দেওয়া মোবাইল নাম্বারে কথা হয়। জনৈক কর্মকর্তা মোবাইল ফোনে এই প্রতিবেদককে বলেন, এবিষয়ে আমরা স্থানীয় কৃষি অফিসের সাথে যোগাযোগ রাখছি, আপনাদের সাথে কথা বলার দরকার মনে করিনা।

আরও পড়ুন

  • হাতিয়া এর আরও খবর