• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ১৮ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ৪ঠা আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪
সর্বশেষ আপডেট : ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪

সার্কিট হাউজ জুড়ে নজরকাড়া বাহারি ফুল

উপজেলা প্রতিনিধি, সদর : সার্কিট হাউজের নজরকারা ফুলের বাগান আলোচিত সেই রবীন্দ্র সংগীত “ফুলে ফুলে ঢলে ঢলে বহে কিবা মৃদু বায়” মনে করিয়ে দিচ্ছে। শীতে নজর কাড়ছে দেশি বিদেশি বাহারি ফুল। নানান ফুলে সেজে উঠেছে সরকারি প্রতিষ্ঠানের চারিপাশ। পরিবেশের মুগ্ধতা আরো প্রাণবন্ত করে তোলে ফুল বাগান। বাহারি ফুলে যে কারো মন ভালো হয়ে যাবে সার্কিট হাউজে আসলে।
সরকারি দফতরের গুরুত্বপূর্ণ সভা কিংবা বিশিষ্টজনের অবকাশ যাপনের কেন্দ্র নয়, নোয়াখালী সার্কিট হাউজ ধরা দিয়েছে এক ভিন্ন রূপে। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বিভিন্ন প্রজাতির ফুল গাছ রোপন করা হয়েছে। সময়ের সাথে সাথে ফুলে ফুলে সেঁজে উঠেছে সার্কিট হাউজ কম্পাউন্ড। সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে এরকম ফুলের বাগান কমই দেখা মেলে। ফুল ফুটনোর প্রাকৃতিক উদ্যোগ বস্তুতপক্ষেই আলোর মুখ দেখে না। নেহায়েত কর্তৃপক্ষের উন্নত রুচিবোধ ব্যতীত। এ ব্যাপারে সরকারি বরাদ্দ থাকলেও তা কার্যকর হয় না।

দেখা গেছে, পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা ব্যস্ত সময় পার করছেন ফুল গাছের পরিচর্যা করতে। সার্কিট হাউজের মূল প্রবেশ পথসহ চারিপাশে ঘুরে বাহারি ফুলের দোল খাওয়ার দৃশ্য দেখার পর যেকোন মানুষের মন ভালো হয়ে যায়। সার্কিট হাউজের সাজানো বাগানে এখন বাহারি ফুলের সামরোহ। কোথাও হলদে গাঁদা, কোথাও কালচে লাল। রয়েছে সানফ্লাওয়ার ব্যান্ডেজ, চায়না জাম্বুসহ নানান রকমের ফুলের গাছ। সার্কিট হাউজে আসা ব্যক্তিরাও ফুলের সঙ্গে ছবি তুলতে ভুল করছেন না।
সার্কিট হাউজের দায়িত্বরতরা জানিয়েছেন, অনেকেই ফুল ও ফুল গাছ দেখতে আসেন। বিগত বছরের তুলনায় এ বছর ফুলের সমারোহ বেশি বলে জানিয়েছেন তারা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, শিল্পীর আঁকা কোন ফুল বাগানের ছবি নয়; বাস্তবে ফুলে ফুলে সেঁজে উঠেছে নোয়াখালী সার্কিট হাউজ কম্পাউন্ড। ফলে প্রতিনিয়ত শহরের প্রকৃতি প্রেমিরা ছুটে আসছেন ফুল বাগানে। বিগত বছরের তুলনায় এবছর ফুলের সমারহ বেশি থাকায় শীতে সার্কিট হাউজের পরিবেশের মুগ্ধতা আরো প্রাণবন্ত করে তুলেছে। ফুলের ঘ্রানে যেকোনো মানুষের মন ভালো হয়ে যায় সার্কিট হাউজে আসলে। বাহারী ফুলের সাজানো বাগান নোয়াখালী সার্কিট হাউজকে একটি ভিন্ন রূপ দিয়েছে।

শিক্ষার্থীদের নিয়ে সার্কিট হাউজে ঘুরতে আসা আমেনা খাতুন বলেন, সার্কিট হাউজের ফুলগুলো দেখলে মন জুড়িয়ে যায়। মনের ভেতরে অন্য এক অনুভূতির জন্ম দেয়। আমাদের বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে ঘুরতে এসেছে। তার খুবই আনন্দ করছে। ফুলের সাথে পরিচিত হচ্ছে। সারা বছরজুড়ে এ রকম ফুলে ফুলে সুশোভিত থাকুক, চারিদিকের রং-বেরঙের এসব ফুলের গন্ধ সার্কিট হাউজকে মাতিয়ে রাখুক এটাই আমরা চাই।

নোয়াখালী প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আবু নাছের মঞ্জু বলেন, সার্কিট হাউজ সংরক্ষিত এলাকা হিসেবে অনেকেই আসতে ভয় পায়। কিন্তু দৃষ্টিনন্দন ফুলে ফুলে সুরভিত সার্কিট হাউজ দেখতে শিশুরা ফুল দেখতে আসার মাধ্যমে সেই ভয় দূর হবে। স্বপ্ন পূরণে কাজ করবে। এসব শিশুরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ।

জেলা প্রশাসনের নেজারত ডেপুটি কালেক্টর (এনডিসি) মেহরাব হোসেন বলেন, ফুলকে ভালবাসেন না এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া যাবেনা। জেলা প্রশাসক দেওয়ান মাহবুবুর রহমান স্যারের নির্দেশনায় সার্কিট হাউজের ফুলের বাগানকে সাজানো হয়েছে। এখানে দেশী-বিদেশী বাহারী ফুলের অসংখ্য গাছ রোপন করা হয়েছে। সম্প্রতি সময়ে রোপন করা ফুল গাছে ইতোমধ্যে প্রচুর ফুল ফুটেছে। মনোরম পরিবেশের তৈরি হয়েছে। যারা আসছেন তাদের আশা করি ভালো লাগছে।

জেলা প্রশাসক দেওয়ান মাহবুবুর রহমান বলেন,ফুল সৌন্দর্যের প্রতীক। মানুষের সৌন্দর্যপ্রেম সহজাত। সহজাত সৌন্দর্যপ্রেম থেকেই সৌন্দর্যের প্রতীক ফুলের প্রতি মানুষের আকর্ষণ। এর পাপড়ির বিন্যাস, রঙের বৈচিত্র্য ও গন্ধের মাধুর্য মানুষের মনকে ভরে তোলে স্বর্গীয় আনন্দে। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে কোমলমতি শিশুরা ফুল দেখতে আসছে। ফুলের সাথে পরিচিত হচ্ছে। ফুলকে যারা ভালবাসে তারা সবাইকে ভালবাসতে পারবে।

আরও পড়ুন