• ঢাকা
  • সোমবার, ২৭শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ১৩ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪
সর্বশেষ আপডেট : ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪

দিনমজুরের ঘরে পেটে জোড়া লাগানো যমজ কন্যা শিশুর জন্ম, দুশ্চিন্তায় পরিবার

উপজেলা প্রতিনিধি, সদর : দিনমজুর বাবার ঘর আলোকিত করে জন্ম নেওয়া পেট জোড়া লাগানো দুই কন্যাশিশু এখন সবার দুশ্চিন্তার কারণ। তবে ভালবাসা কমতি নাই তাদের প্রতি। একজনের নাম মায়মুনা অন্যজনের নাম মরিয়ম। এদিকে টাকার অভাবে হচ্ছে না উন্নত চিকিৎসা। নিজের সামর্থ্য না থাকায় স্ত্রী ও দুই কন্যাশিশুকে নিয়ে এসেছেন নোয়াখালীর চাটখিলের শ্বশুর বাড়িতে।

গত ২৬ জানুয়ারি (শুক্রবার) ভোর ৪টায় ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ছোট অস্ত্রপোচারের মাধ্যমে তাদের জন্ম হয়। জোড়া লাগা পেটের যমজ (কনজয়েন্ট টুইন) কন্যাশিশুর জন্ম দিয়ে কপালে চিন্তার ভাজ পড়েছে আফরোজা সুলতানা মেঘলা ও মো. শাহানুর ইসলাম দম্পতির।

আফরোজা সুলতানা মেঘলা চাটখিল উপজেলার বদলকোট ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের উত্তর বদলকোট গ্রামের দরগা বাড়ির মাহবুব আলমের মেয়ে। মো. শাহানুর ইসলামের বাড়ি ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর উপজেলায়। শাহানুর মুন্সিগঞ্জের ভাটারচরে একটি কাপড়ের মিলে স্বল্প বেতনে দিনমজুরের কাজ করেন। শিশু দুটি বর্তমানে তাদের নানাবাড়িতেই অবস্থান করছেন। জোড়া লাগানো যমজ শিশুর জন্ম হওয়ার খবরে বাড়িতে ভিড় করছেন প্রতিবেশীসহ আশপাশের কয়েক গ্রামের মানুষ মেঘলার মা ফাতেমা আক্তার বলেন, দশ মাস আগে শাহানুর ইসলামের সাথে মেঘলার বিয়ে হয়। জমজ সন্তান হয়েছে তাতে আমাদের কোনো আফসোস নাই। সামর্থ্য না থাকায় জামাই আমাদের বাড়িতে আসছে। এখন আমরাও যে কিছু করমু সেই সামর্থ্য আমাদের নাই। অর্থের দিক থেকে আমরা নরম। কেবল দেখা শুনা করতে পারুম। এর বাহিরে কিছুই করার মতো আমাদের পরিস্থিতি নাই।

প্রসূতী আফরোজা সুলতানা মেঘলা বলেন, বিয়ের পর যখন জানতে পারলাম আমার গর্ভে সন্তান এসেছে তখন অনেক আনন্দিত ছিলাম। সন্তান জন্মের পর এ অবস্থা দেখে সবাই চিন্তিত। দুই শিশুকে নিয়ে আমি খুশি আছি। তাদের এখন চিকিৎসার জন্য অর্থের প্রয়োজন। আমাদের আর্থিক সক্ষমতা নেই। দেশবাসীর কাছে আবেদন করছি আমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতা করার জন্য।

শিশু মায়মুনা-মরিয়মের বাবা শাহানুর ইসলাম বলেন, আমি নিজে একজন দিনমজুর। ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা বেতন পাই। আর্থিক অবস্থা ভালো না। যে বেতন পাই নিজের সংসার চালাতে কষ্ট হয়। বাচ্চাদের চিকিৎসা করাবো আর তাদের মায়ের চিকিৎসা করাবো কি। বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন ডাক্তারের কাছে যাচ্ছি। ডাক্তাররা বলছেন ঠিক হবে ঢাকায় নিয়ে গেলে। কিন্তু আর্থিক সক্ষমতা না থাকায় ঢাকায় নিতে পারছিনা ।

নোয়াখালী মা ও শিশু হাসপাতালের নবজাতক ও শিশু-কিশোর রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মোদাশ্বের এম হোসেন বলেন, এই কনজয়েন্ট টুইনের পেটের মেক্সিমাম অংশই লাগানো। সার্জারির মাধ্যমে দুজনকে আলাদা করতে হবে। তার আগে দেখতে হবে তাদের অর্গানগুলো ঠিক আছে কিনা। এগুলো প্রত্যেকের আলাদা কিনা! নাকি দুজনের একটা! সেটা দেখেই তারপরে সার্জারির দিকে এগুতে হবে। অর্গানগুলো সেফারেট থাকলে সার্জারিটা অপেক্ষাকৃত সহজ হবে।

২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. হেলাল উদ্দিন বলেন, আমাদের হাসপাতালে আসার পর সার্জারি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. মো. সাইফুদ্দিন ও শিশু বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. জহিরুল ইসলামসহ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের একটি দল শিশু দুটিকে দেখেছেন। তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল অথবা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করার জন্য পরিবারকে বলা হয়েছে। কিন্তু এই মুহূর্তে ঢাকা নিয়ে যাওয়ার মতো পরিবারটির আর্থিক অবস্থা নেই।

নোয়াখালী-১ (চাটখিল-সোনাইমুড়ী) আসনের সংসদ সদস্য এইচ এম ইব্রাহিম এমপি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দেখে তাদের পরিবারের নম্বর চেয়েছি। কিন্তু কোথাও নম্বর পাইনি। পরবর্তীতে তাদের নম্বর পেয়ে যোগাযোগ করেছি। আমি তাদের ঢাকায় নিয়ে উন্নত চিকিৎসা করানোর বিষয়ে পরমর্শ দিয়েছি। জনপ্রতিনিধি হিসেবে তাদেরকে আমার জায়গা থেকে সর্বোচ্চ সহায়তা করবো ইনশাআল্লাহ।

আরও পড়ুন

  • নোয়াখালী সদর এর আরও খবর