• ঢাকা
  • সোমবার, ২৭শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ১৩ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪
সর্বশেষ আপডেট : ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪

সেই পেট জোড়া লাগানো যমজ শিশুর দায়িত্ব নিলেন এমপি ইব্রাহিম

উপজেলা প্রতিনিধি, চাটখিল : দিনমজুর বাবার ঘরে জন্ম নেওয়া পেট জোড়া লাগানো যমজ শিশু (কনজয়েন্ট টুইন বেবি) মায়মুনা ও মরিয়মের চিকিৎসার দায়িত্ব নিলেন নোয়াখালী-১ (চাটখিল-সোনাইমুড়ি) আসনের সংসদ সদস্য ও শ্রম মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এইচ এম ইব্রাহিম ।

বৃহস্পতিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে অর্থ সহায়তা নিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছুটে যান তিনি। এসময় তিনি পরবর্তীতে চিকিৎসকদের সাথে কথা বলেন। তারপর মায়মুনা ও মরিয়মের চিকিৎসা ও তাদের পরিবারের খোঁজ খবর নেন।

জানা গেছে, গত ২৬ জানুয়ারি ভোর ৪টায় ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে আফরোজা সুলতানা মেঘলা ও মো. শাহানুর ইসলাম দম্পতির যমজ দুই কন্যার জন্ম হয়। তবে নবজাতক দুজনের পেট জোড়া লাগা (কনজয়েন্ট টুইন) থাকায় কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়ে। আফরোজা সুলতানা মেঘলা নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলার বদলকোট ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের উত্তর বদলকোট গ্রামের দরগা বাড়ির মাহবুব আলমের মেয়ে। মো. শাহানুর ইসলামের বাড়ি ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলায়। শাহানুর মুন্সিগঞ্জের ভাটারচরে একটি কাপড়ের মিলে স্বল্প বেতনে দিনমজুরের কাজ করেন। নিরুপায় হয়ে শিশু দুটিকে নিয়ে নানার বাড়িতে চলে আসেন তারা। জনপ্রিয় অনলাইন গণমাধ্যম ঢাকা পোস্ট গত ৩ ফেব্রুয়ারি ‘পেট জোড়া লাগানো যমজ শিশু জন্ম নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিনমজুর বাবা’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এছাড়াও টাকার অভাবে তাদের দিনমজুর বাবা উন্নত চিকিৎসা করাতে পারছেন না এমন প্রতিবেদনও বিভিন্ন গণমাধ্যম প্রকাশ করে। বিষয়টি নোয়াখালী-১ (চাটখিল-সোনাইমুড়ি) আসনের সংসদ সদস্য ও শ্রম মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এইচ এম ইব্রাহিম এমপির নজরে আসলে তিনি চিকিৎসার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। পরে গত ৫ ফেব্রুয়ারি এইচ এম ইব্রাহিম এমপির সহযোগিতায় বিকেলে শিশু দুইটিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়।

নোয়াখালী-১ (চাটখিল-সোনাইমুড়ি) আসনের সংসদ সদস্য ও শ্রম মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এইচ এম ইব্রাহিম এমপি বলেন, মানবিক জায়গা থেকে আমি এই শিশুদের পাশে দাঁড়িয়েছি। তাদের চিকিৎসা চলাকালীন সময়ে সব ধরনের সহযোগিতা করবো ইনশাআল্লাহ। আমার বাবা মায়ের নামে প্রায় ২ শত কোটি টাকার উপরে সম্পদ ছিল। সব সম্পদ ওয়াকফ করা। সকল সম্পদ আমরা মানুষের কল্যাণে দান করেছি। আমার বাবা মায়ের জন্য মানুষ দোয়া করুক এটাই আমরা চাই।

তিনি আরো বলেন, চিকিৎসকেরা প্রাথমিকভাবে জানিয়েছেন অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে এই জোড়া লাগা শিশুদের আলদা করা যাবে। ইতোমধ্যে তাদের প্রয়োজনীয় পরীক্ষা নিরীক্ষা করা হয়েছে। আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি (শনিবার) রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর চিকিৎসকের আরো নিশ্চিতকরে সবকিছু বলতে পারবেন। তারপর যত টাকা প্রয়োজন হয় সব আমি দিবো। আজ আমি আমার স্ত্রীসহ এসেছি। তাদের হাতে নগদ অর্থ সহায়তা দিয়েছি। অপারেশন সুন্দরভাবে সফল হওয়ার পরও আমার সাহায্য সব সময় থাকবে।

শিশুদের বাবা মো. শাহানুর ইসলাম বলেন, এমপি স্যারের পরামর্শে শিশু দুটিকে ঢাকায় নিয়ে এসেছি। উনার সাথে সব সময় মুঠোফোনে যোগাযোগ হয়। আজ তিনি সরাসরি এসে আমাদের খোঁজ-খবর নিয়েছেন। যেকোনো ধরণের সমস্যায় পড়লেও জানাতে বলেছেন। তিনি আমাদেরকে নগদ টাকা দিয়েছেন। আমি বাচ্চাদের জন্য সকলের কাছে দোয়া চাই।

শিশুদের মা আফরোজা সুলতানা মেঘলা বলেন, বিয়ের পর যখন জানতে পারলাম আমার গর্ভে সন্তান এসেছে তখন অনেক আনন্দিত ছিলাম। সন্তান জন্মের পর এ অবস্থা দেখে সবাই চিন্তিত হয়েছিল। দুই শিশুকে নিয়ে আমি খুশি আছি। তবে তাদের চিকিৎসা করাতে আমাদের আর্থিক সক্ষমতা ছিল না। আমাদের এমপি ইব্রাহিম স্যার আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন সেইজন্য উনাকে ধন্যবাদ। সারাজীবন উনার জন্য নামাজ পড়ে দোয়া করবো। এছাড়াও অনেকেই আমাদের সাহস ও সহযোগিতা করেছেন তাদের প্রতিও কৃতজ্ঞ। আমার সন্তানদের অপারেশন যেনো সফল হয় সেজন্য সকলের দোয়া চাই।

আরও পড়ুন