• ঢাকা
  • সোমবার, ২৭শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ১৩ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪
সর্বশেষ আপডেট : ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪

সদরে বিদ্যালয়ের জায়গা দখলের চেষ্টা

স্টাফ রিপোর্টার : জরিপ কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের যোগসাজসে ভুয়া খতিয়ান করে জেলা প্রশাসনের খাস খতিয়ান ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৮ একর ৫ শতাংশ ভূমির মালিকানা দাবির পর এবার ওই ভূমির ওপর প্রতিষ্ঠিত উত্তর ওয়াপদা উচ্চ বিদ্যালয়ের খাস দখলীয় ভূমি জবরদখল চেষ্টার অভিযোগ ওঠেছে স্থানীয় মোসলেহ উদ্দিন ও মহি উদ্দিন নামের দুই ভূমিদস্যুর বিরুদ্ধে।

গত রোববার (১১ ফেব্রুয়ারী) এই অভিযোগ তুলে ভূমিদস্যুদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি জানিয়ে সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং পানি উন্নয়ন বোর্ড নির্বাহী প্রকৌশলী বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন মো. নুর হোসেন নামের এক স্থানীয় বাসিন্দা।

অভিযোগকারী মো. নুর হোসেন ও স্থানীয় উত্তর ওয়াপদা বাজারের ব্যবসায়ী এবং এলাকাবাসী জানান, বছরের পর বছর উত্তর ওয়াপদা বাজার ও আশপাশের ভূমিতে বসবাস করছেন কয়েক’শ পরিবার। বাজারে রয়েছে ৮ শতাধিক দোকান, দুইটি মসজিদ ও একটি হাইস্কুল, ১টি দিঘি ও ১টি পুকুর। ১৯৬৩-৬৪ সালে বাজারসহ ভূমিগুলো পানি উন্নয়ন বোর্ড অধিগ্রহণ করে। পরবর্তীতে ২০১২-১৩ সালে জেলা প্রশাসক ওই ভূমির ২ একর ৬৪ শতাংশ ভূমি পূন:অধিগ্রহণ করে অধিগ্রহনকৃত ভূমিতে জেলা প্রশাসক স্থানীয় বসবাসকারী ও বাজার ব্যবসায়ীদের বন্দোবস্ত দিয়ে রাজস্ব আদায় করে আসছে। বিগত আর.এস হাল জরিপের সময় ওই ৮ একর ৫ শতাংশ ভূমি ১নং খাস খতিয়ানে জেলা প্রশাসক ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের নামে রেকর্ড না হয়ে জরিপ কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের যোগসাজসে ভূমিগ্রাসী মহিন উদ্দিন ও মোছলে উদ্দিন নামের জনৈক দুই ব্যক্তির নামে রেকর্ডভুক্ত করা হয়। এর পর থেকেই ভূমিগ্রাসীরা বাজারের ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসীকে হুমকি দিয়ে ওই ভূমি থেকে উচ্ছেদের পায়তারা করছে।

ভূমিদস্যুরা ওই হুমকির অংশ হিসেবে গত ৮ ফেব্রুয়ারী বৃহস্পতিবার থেকে স্থানীয় উত্তর ওয়াপদা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আতিক উল্যাহ এবং সভাপতিকে মোটা অংকের টাকা ঘুষ প্রদান করে তাদের যোগসাজসে বিদ্যালয়ের খাস দখলীয় জায়গায় মাটি ভরাট করে জোর জবর-দখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। বিদ্যালয়ের সরকারি খাস জায়গা দখলের বিষয়ে স্থানীয় লোকজন ও ব্যবসায়ীগন দখলকারীদের বাঁধা প্রদান করলে তারা কারো বাঁধা না মেনে বরং বাঁধা প্রদানকারীদের বিভিন্ন রকম মামলা-হামলার হুমকি দেয়। এতে বিদ্যালয়ের জায়গা বেদখল হওয়া এবং জায়গা সংকটে এলাকায় শিক্ষার আলোকবর্তিকা নিভে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত মোসলেহ উদ্দিন ও মহি উদ্দিনের মুঠোফোনে একাধিক বার কল করে সংযোগ না পাওয়ায় তাদের মন্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. বায়েজীদ বিন আখন্দ বলেন, সরেজেমিনে তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দিতে ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড নির্বাহী প্রকৌশলী মুন্সি আমির ফয়সাল বলেন, ওই জায়গার বিষয়ে আদালতে একটি মামলা চলমান রয়েছে। কেউ জোর করে জায়গাটির কোন অংশ দখলে নেয়ার চেষ্টা করলে সরেজমিনে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আরও পড়ুন

  • বিশেষ প্রতিবেদন এর আরও খবর