• ঢাকা
  • বুধবার, ১৯শে জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ৫ই আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪
সর্বশেষ আপডেট : ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪

মেয়েদের ছবি তোলার কারণ জিজ্ঞেস করায় দফায় দফায় মা-মেয়েকে মারধর, মেলেনি বিচার

উপজেলা প্রতিনিধি, সদর : সদর উপজেলার কাদির হানিফ ইউনিয়নের পশ্চিম মাইজদী গ্রামে ঘরের ভেতরের মেয়েদের ছবি তোলায় মা কারণ জিজ্ঞেস করায় দফায় দফায় মা-মেয়েকে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। বর্তমানে মা ঢাকা মেডিকেল কলেজে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছেন। রোববার (১১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে কাদির হানিফ ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে। এঘটনার এতদিনেও আসামি আইনের আওতায় না আসায় শঙ্কায় কাটছে ভুক্তভোগী পরিবারের জীবন।

ভুক্তভোগীর স্বামী গাজী নুর আলম সুধারাম মডেল থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। এবিষয়ে গাজী নুর আলম বলেন, গত ৯ ফেব্রুয়ারি সকাল ১১ টার সময় আমাদের বসত ঘরে বিদ্যুৎ না থাকায় আমার মেজো মেয়ে (১৭) ও আমার ছোট মেয়ে (১৫) ঘরের জানালা খুলে, জানালার পাশে পড়ালেখা করছিল। আবুল কালামের ছেলে সাফিদ (১৩) দেখে তার ব্যবহৃত স্মার্ট ফোন দ্বারা আমার মেয়েদের ছবি ধারণ করে। ছবি ধারণ করার সময় আমার মেয়েরা দেখলে উক্ত বিষয় নিয়ে প্রতিবাদ করলে ক্ষিপ্ত হইয়া আমার মেয়েদের ও আমার পরিবারের সদস্যদের অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করে এবং বেধড়ক মারধর করে। পরবর্তীতে উক্ত বিষয় আমরা স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গদের অবগত করিলে, বিবাদীগন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠে।

গাজী নুর আলম আরও বলেন, আবুল কালাম, হাজেরা বেগম ও আব্দুর রশিদ হাতে করে দা, বটি, লোহার রড ও দেশীয় অস্ত্র সন্ত্র নিয়া অন্যায় অনধিকারে আমার বসত বাড়িতে প্রবেশ করে আমাকে ও আমার পরিবারের সদস্যদের গালি-গালাজ করতে থাকে। তখন আমার মেজো মেয়ে নিষেধ করলে

তাদের হাতে থাকা লোহার রড দ্বারা আমার মেজো মেয়েকে প্রাণে হত্যা করার উদ্দেশ্যে মাথায় বাড়ি দেয়। তারপর আমার স্ত্রীর চুলের মুষ্টি ধরে টানাহেছড়া করে এলোপাতাড়ী কিল ঘুসি লাথি মেরে, আমার স্ত্রীর মাথায়, পিঠে ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলাফুলা জখম করে। তারপর তাদের হাতে থাকা শক্ত লাঠি দ্বারা আমাকে প্রাণে হত্যা করার উদ্দেশ্যে মাথায় বাড়ি মারলে লক্ষ ভ্রষ্ট হয়ে আমার বাম হাতে পড়ে রক্তাক্ত জখম হয়। আমাদের শৌর চিৎকারে আশেপাশে লোকজন ঘটনাস্থলে দৌড়ে এসে আমাদের উদ্ধার করে।

গাজী নুর আলম আরও বলেন, পরবর্তীতে আমি, আমার স্ত্রী ও আমার মেজো মেয়ে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালের উদ্দেশ্যে রওনা দিলে আগের লোকজনসহ ৪/৫ সন্ত্রাসী আমাদের উপর অতর্কিত ভাবে হামলা করে। তারপর আব্দুল মোতালেব স্বজোরে আমার স্ত্রীর তলপেটে লাথি মারে। ফলে সেখানেই আমার স্ত্রী রক্তবুমি করে। তারপর আমির হোসেন তার হাতে থাকা শক্ত কাঠ দ্বারা আমাকে এলোপাতাড়ী মারধর করে আমার মাথায়, ডান চোখের নিচে ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলাফুলা জখম করে। মারধরের একপর্যায়ে আমার স্ত্রী গলায় থাকা ০১করি ওজনের স্বর্ণের চেইন জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেয়। আমার শৌর চিৎকারে। আশেপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে আসলে তারা আমাদের প্রাণ নাশের ভয়ভীতি দেখিয়ে পালিয়ে যায়।

আশেপাশের লোকজন চিকিৎসার জন্য আমাকে, আমার স্ত্রী ও আমার মেজো মেয়েকে নোয়াখালী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসে। বর্তমানে আমার স্ত্রী ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি আছে। তার অবস্থা ভালো না। আমি বিচার চাই।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্তদের সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয় নাই।

সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর জায়েদুল হক রনি বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। আমরা সেভাবে তদন্ত করছি। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আরও পড়ুন