• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ১৮ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ৪ঠা আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৫ মার্চ, ২০২৪
সর্বশেষ আপডেট : ৫ মার্চ, ২০২৪

দক্ষিণ আফ্রিকায় অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীসহ নোয়াখালীর যুবককে গুলি করে হত্যা

উপজেলা প্রতিনিধি, সদর : দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গে বাংলাদেশি ব্যবসায়ী মো. মহিন ভূঞা (৩২) ও তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী রুনা আক্তারকে (২২) গুলি করে হত্যা করেছে সন্ত্রাসীরা। রোববার (৩ মার্চ) স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ৯টার দিকে জোহানেসবার্গের জু-লিস স্ট্রিটে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় দম্পতির সঙ্গে থাকা দুই শিশুসন্তান প্রাণে বেঁচে যায়।

নিহতরা হলেন, নোয়াখালীর সেনবাগের অর্জুনতলা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর মানিকপুর গ্রামের ইসলাম পাটোয়ারী বাড়ির মো. হোসেন ভূঞার ছেলে মো. মহিন ভূঞা ও তার স্ত্রী রুনা আক্তার। রুনা আক্তার একই উপজেলার কেশারপাড় ইউনিয়নেরে জমাদার বাড়ির মো.লিটনের মেয়ে।

মহিনের চাচা মো. মিলন ভূঞা বলেন, পাঁচ ভাই এক বোনের মধ্যে মহিন ছিল সবার বড়। জীবিকার তাগিদে ২০ বছর আগে দক্ষিণ আফ্রিকা পাড়ি জমান তিনি। রোববার বন্ধের দিন থাকায় মহিন সপরিবারে ঘুরতে বের হন। ঘুরাফেরা শেষে রাত সাড়ে ৯টা নাগাদ নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের গেটে আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা এক কৃষ্ণাঙ্গ সন্ত্রাসী মহিনকে গুলি করে। এ সময় মহিনের স্ত্রী তাকে জড়িয়ে ধরলে ওই সন্ত্রাসী তাকেও গুলি করে। এতে ঘটনাস্থলে দুজনে প্রাণ হারান। এ সময় তাদের ৫ ও ৩ বছরের দুই কন্যাসন্তান ছিল। তারা প্রাণে বেঁচে যায়। নিহত মহিনের স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। এ মাসেই তার সন্তান ডেলিভারির তারিখ ছিল।

মহিনের ছোট ভাই মো. মফিজ ভূঞা বলেন, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা আমার ভাই ও অন্তঃসত্ত্বা ভাবিকে গুলি করে। ওই সময় তারা স্বামী-স্ত্রী ঘটনাস্থলে মারা যায়। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করে। তখন ভাগ্যক্রমে তাদের সাথে থাকা তাদের দুই সন্তান বেঁচে যায়। আমার ভাবি ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিল।

দক্ষিন আফ্রিকা প্রবাসী আতাউস সালাম বলেন, এমন ঘটনায় কমিউনিটিতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। প্রবাসীরা বলছেন, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হতে পারে। এ ঘটনার সঙ্গে ডাকাতির কোনো সম্পর্ক নেই। আমরা প্রবাসীরা আমাদের নিরাপত্তা চাই ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।
অর্জুনতলা ইউনিয়ন পরিষদের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য (মেম্বার) আব্দুর জব্বার বলেন, গ্রামের বাড়ির মসজিদের মাইকে তাদের মৃত্যু সংবাদ এলাকাবাসীকে জানানো হয়েছে। এতে গোটা এলাকা জুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। রোববার দিবাগত রাত ২টার দিকে আফ্রিকায় থাকা নিহতের ছোট দুইভাই বিষয়টি দেশের বাড়িতে জানায়। ধারণা করা হচ্ছে পূর্ব শক্রতার জের ধরে এ ঘটনা ঘটেছে।

অর্জুনতলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাখাওয়াত হোসেন রিপন বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রায় সন্ত্রাসী ও ডাকাতের কবলে পড়ে প্রাণ হারান বাংলাদেশের রেমিট্যান্স যোদ্ধারা। অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীসহ মহিনের এমন বিদায় আমরা মেনে নিতে পারছিনা। এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবার তাদের মরদেহ দেশে ফেরত আনতে সরকারের সহযোগিতা কামনা করেছে।

আরও পড়ুন