• ঢাকা
  • বুধবার, ২২শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ৮ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ১৪ মার্চ, ২০২৪
সর্বশেষ আপডেট : ১৪ মার্চ, ২০২৪

নির্যাতনে প্রাণ যাওয়া নারীর পরিচয় আড়াল করলো স্বামী

উপজেলা প্রতিনিধি, হাতিয়া : স্বামী, শ্বশুর-শাশুড়ীর নির্মম নির্যাতনে অজ্ঞান হওয়া গৃহবধূকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতাল এবং অবস্থার অবনতি ঘটলে ঢামেকে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

ঢামেক এর রেজিস্ট্রিতে রোগীর প্রকৃত পরিচয় গোপন করে নরপিশাচ স্বামী ইরাক উদ্দিন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় নির্যাতিত গৃহিণীর মৃত্যু ঘটলে পালিয়ে যায় স্বামী, পরে লাশ গ্রহনে বিপত্তিতে পড়তে হয় স্বজনদেরকে।

এমন পৈশাচিক ঘটনার সূত্রপাত ঘটেছে হাতিয়া উপজেলার চরইশ্বর ইউনিয়নের তালুকদার গ্রামের জমিদার পঞ্চায়েত বাড়িতে। নির্যাতনে মৃত ফারছিনা আক্তার নিপার(২০) স্বজনরা জানান, বুধবার (২৮ ফেব্রুয়ারী) সকালে স্বামী, শ্বশুর-শ্বাশুড়ির ব্যাপক মারধরে অজ্ঞান হয়ে পড়লে প্রতিবেশীরা প্রথমে তাকে হাতিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান। পরে নোয়াখালী মাইজদীর একটি বেসরকারী হাসপাতালে স্ট্রোকের রোগী দেখিয়ে ভর্তি করান স্বামী পরিবার। এবং আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেলে ভিক্টিম ও তার নাম ঠিকানা ভুল লিপিবদ্ধ করে ভর্তি করে। অবস্থা খারাপ দেখলে এবং রোগী (স্ত্রী) র মৃত্যু ঘটলে পালিয়ে যায় স্বামী ইরাক উদ্দিন।

নির্যাতনের ১২ দিন চিকিৎসাঅবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (১০ মার্চ) গৃহবধূ ফারসিনা আক্তার নিফার মৃত্য হয়। নিহতের শরীরে গলা, বুক ও পিঠসহ বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। যেমনটি ঢামেক এর পোস্টমর্টেম রিপোর্ট ও শাহবাগ থানা পুলিশ সুরতহালে উল্লেখ করা হয়েছে।

ঢাকা মেডিকেলে ময়নাতদন্ত শেষে মঙ্গলবার (১২ মার্চ) সকালে নিহত গৃহবধূর পিতার নিজ গ্রাম হাতিয়ার দক্ষিন বিরবিরি গ্রামে লাশ দাফন করা হয়।

এদিকে নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালে পারিবারিক ভাবে উপজেলার চরঈশ্বর ইউনিয়নের জমিদার পাঞ্চায়েত বাড়ির আলাউদ্দিনের ছেলে আজমীর হোসেন ওরপে ইরাক উদ্দিনের সাথে দক্ষিণ বিরবিরি গ্রামের খবির উদ্দিনের মেয়ে নিহত গৃহবধুর বিয়ে হয়। তাদের সংসারে ২টি সন্তান রয়েছে।

বিয়ের পর থেকে মোটা অঙ্কের টাকার দাবী করে আসছে স্বামী পরিবার। টাকা, স্বর্ণালঙ্কার প্রায় দেওয়া হয়েছে। স্বামী ঔষধ কোম্পানিতে চাকরি করে বিধায় বারবার তার টাকার দরকার হয়। ফলে টাকাসহ বিভিন্ন ছুতানাতায় স্বামী ইরাক, শুশুর আলাউদ্দিন ও শাশুড়ী প্রায়ই নির্যাতন করে আসছে।

ঘটনারদিন গৃহবধূ তাদের অন্যায় দাবীর প্রতিবাদ করলে স্বামীসহ সবাই তাকে এ অবর্ণনীয় নির্যাতন করে। এবং শ্বশুর পরিবার এ ঘটনাকে ভিন্নখাতে নেওয়ার চেষ্টা করছে বলেও জানান নিহতের স্বজনরা।

ঢামেকে ফারছিনার মৃত্য হলে তার বাবা বাদী হয়ে ঢাকা শাহবাগ থানায় জিডি করেন। জিডি নং-৬৮৭, ১০/০৩/২০২৪। এঘটনায় হাতিয়া থানা অফিসার ইনচার্জ জিসান আহমেদ জানান, ঘটনাটি ঢাকা মেডিকেল থেকে জানানো হয়েছে কিন্তু নিহতের স্বজনদের কেউ এখন পর্যন্ত অভিযোগ দেয়নি। তবে নিহতের মামা ইরাকসহ বাকিস্বজনরা জানান ওদের আত্মীয়রা প্রভাবশালী,থানায় মামলা দিলে বিচার পাবো না। তাই বুধবার (১৩ মার্চ) নোয়াখালী জেলা কোর্টে মামলার দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি। নিহতের স্বামী অভিযুক্ত আজমীর হোসেন ওরপে ইরাক উদ্দিনের মুঠোফোনে ঘটনা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি কলটি কেটে দেন। তিনি হাতিয়ায় বায়ো ফার্মা ঔষধ কোম্পানিতে চাকুরি করেন।

আরও পড়ুন

  • হাতিয়া এর আরও খবর