• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ২১শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ৭ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৬ এপ্রিল, ২০২৪
সর্বশেষ আপডেট : ৬ এপ্রিল, ২০২৪

হাতিয়ায় স্যাকমোর ভুল চিকিৎসায় মৃত্যুশয্যায় ছাত্রলীগ নেতা

উপজেলা প্রতিনিধি, হাতিয়া
দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার মানছুরুল হক নামের এক উপ সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসারের বিরুদ্ধে ভুল চিকিৎসার অভিযোগ উঠেছে। বাঁচার আকুতি জানানো ভুক্তভোগী ছাত্রলীগ নেতা মো. রমজান আলী (২২) মৃত্যু শয্যায়৷ বর্তমানে সে ঢাকার সেন্ট্রাল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছে।

মো. রমজান আলী হাতিয়া উপজেলার তমরদ্দি ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের তমরদ্দি গ্রামের মো. আহসান উল্যাহর ছেলে। সে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ তমরদ্দি ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসা শাখার সাধারন সম্পাদক। অভিযুক্ত মনছুরুল হক হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপ সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার হিসেবে কর্মরত আছে।

জানা যায়, গত ২৫ জানুয়ারি মসজিদের টয়লেটে পড়ে বাম পায়ের গোড়ালী ছিড়ে যায় মো. রমজান আলীর। দ্রুত তাকে হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য আনা হয়। হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক রমজান আলীর জখম গুরুতর হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য হাতিয়ার বাহিরে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। কিন্তু ফরহাদ আলী নামের এক দালাল আলাপ করে জানায় উপ সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার মানছুরুল হক ভালো করতে পারবে। তাই সে বেসরকারি হাসপাতাল মাহি মেডি কেয়ারে নিয়ে আসে। তারপর মানছুরুল হক ও তার সহকারী নাছিম উদ্দিন জিল্লু অপারেশন ও ওষুধসহ ত্রিশ হাজার টাকা দাবি করে।

টাকা দেওয়া শেষে অপারেশন করে ৮টি সেলাই করে প্রতিদিন ৩টি করে ইনজেকশন ১৪ দিন দেওয়ার কথা বলে ও ৩ দিন পর পর ড্রেসিং করানোর কথা বলে। নিয়ম অনুযায়ী ১৪ দিনে ৪২টি ইনজকেশন প্রদান করে। এরপর রমজান আলীর সমস্ত শরীরে ফোসকা ফুটে যায় এবং সমস্ত শরীর বিকলাঙ্গ হয়ে পড়ে।

রমজান আলীর বাবা আহসান উল্যাহ বলেন, আমার ছেলে রমজান মাসে হয়েছে তাই রমজান আলী নাম রেখেছি। বর্তমানে রমজান মাস চলে অথচ আমার ছেলে মৃত্যুশয্যায়। মানছুর ডাক্তার আমার ছেলেকে ১৪ দিনে ৪২ টা ইনজেকশন দিয়ে পঙ্গু করে ফেলসে। সে এখন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে। আমার ঘরে খানা নাই দানা নাই। আমি মানছুর ডাক্তারের বিচার চাই। আমার ছেলে আমার কাছে ফিরে আসুক। আমি আল্লাহর কাছে দোয়া করি। কি যে কষ্টেএ মধ্যে আছি তা বলে বুঝাতে পারবো না।

রমজান আলীর ভাই ইয়াসিন আরাফাত বলেন, মানছুরুল হক হাতিয়ার বিভিন্ন প্রান্তের সর্বসাধারনকে ভুল চিকিৎসার মাধ্যমে দীর্ঘ দিন যাবৎ হয়রানী করে আসছে এবং তার ভুল চিকিৎসার কারনে বহু মানুষ পঙ্গুত্বসহ মানবেতর জীবন যাপন করছে। মানছুরুল হকের অবৈধ কার্যকলাপে হাতিয়ার স্বাস্থ্য বিভাগ ধ্বংসের মুখে। সে আবাসিক এলাকায় অবৈধ ক্লিনিক খুলে অবৈধ ভাবে মাহি মেডি কেয়ার নামকরন করে মানুষকে ভুল চিকিৎসা প্রদান করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।

হাতিয়া উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. সাজেদ উদ্দিন বলেন, রমজান আলীকে ভুল চিকিৎসা দেওয়ায় সে আজ মৃত্যু শয্যায়। হাতিয়ার মানুষ সহজ সরল। এই সহজ সরল মানুষ যখন ডাক্তার দেখাতে আসে তখন ফার্মেসির পেছনে চেম্বারে কিছু নামধারী চিকিৎসক সার্জন না হয়েও অপারেশন করে আসছে। যেগুলো হাসপাতালে হওয়ার কথা থাকলেও তারা চেম্বারে করছে। আমি ঊর্ধ্বতন কর্তপক্ষের কাছে অনুরোধ করবো যেনো হাতিয়ার মানুষ সুচিকিৎসা পায় এবং ব্যাঙের ছাতার মতো ফার্মেসির পেছনের অবৈধ চেম্বার বন্ধ হয়।

হাতিয়া উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আবদুর রাজ্জাক বলেন, ভুল চিকিৎসার কারণে রমজান আলী মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে। তাদের আর্থিক অবস্থা এতই খারাপ যে চিকিৎসার ভার তারা বহন করতে পারছে না। আমরা হাতিয়া উপজেলা ছাত্রলীগ মর্মাহত। ছাত্রলীগের একজন কর্মী হিসেবে আমি ঊর্ধ্বতন কর্তপক্ষের কাছে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি। নাহয় ছাত্র সমাজ আন্দোলনের মাধ্যমে এসব ভুয়া চিকিৎসককে প্রতিরোধ করবে।

হাতিয়ার বাসিন্দা আবু সালেহ মো. সাদ বলেন, হাতিয়া একটি জনবহুল দ্বীপ এলাকা। এখানে ৫০ শয্যার হাসপাতাল অপ্রতুল। এখানে রোগীর তুলনায় ডাক্তারের সংখ্যা যথেষ্ট কম। ১০০ শয্যার হাসপাতাল খুবই দরকার। রোগী যখন বিপদে হাসপাতালে আসে ভালো ডাক্তার না থাকায় তারা অপচিকিৎসার শিকার হয়। তাই দ্রুত ৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালকে ১০০ শয্যায় করলে হাতিয়ার মানুষ উপকৃত হবে।

অভিযোগের বিষয়ে উপ সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার মানছুরুল হক বলেন, কয়েকদিন ধরে আমি ফেসবুকে আমার বিরুদ্ধে নানা অপপ্রচার দেখছি। এটা দিন দিন বাড়ছে। রমজান আলী আমার চিকিৎসায় অসুস্থ হয়নি। তার পরিবারের কেউ আমার বিরুদ্ধে বলে না। আমি তাদেরকে হাতিয়ার বাহিরে যেতে বলি। তাদের আর্থিক অবস্থা ভালো না হওয়ায় আমার দায়িত্ব না পড়ার পরও আমি মানবিক কারনে চিকিৎসা টা করেছি। আমার চিকিৎসায় কোনো অসুবিধা হয়নাই এটা আমি হলপ করে বলতে পারি। আমি হাতিয়ার ছেলে তাই মানবিক জায়গা থেকে রমজান আলীর চিকিৎসার সকল দায়িত্ব নিয়েছি। আমি চাই রমজান আলী সুস্থ হোক।

হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভারপ্রাপ্ত স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. খাদিজা রহমান বলেন, আমরা এখন পর্যন্ত উপ সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসারের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাইনি। আপনার মাধ্যমে মাত্র জানতে পারলাম। এমন অভিযোগ যার বিরুদ্ধেই হবে সে যেই হোক আমরা তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। পাশাপাশি অবৈধ ক্লিনিক ও ফার্মেসির পেছনে অবৈধ চেম্বারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবো। আমি এসব অনিয়মের বিষয়ে সোচ্চার আছি। আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্তপক্ষ সোচ্চার আছে। আমি আবারও বলছি যদি কোনো অভিযোগ পাই তাহলে আমরা দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

আরও পড়ুন

  • হাতিয়া এর আরও খবর