নিজস্ব প্রতিনিধি : জেলার সদর উপজেলার এওজবালিয়া ইউনিয়নে মাদ্রাসা পরিচালকের কাছে দাবিকৃত চাঁদার টাকা না পেয়ে তার নির্মাণাধীন দোকানঘরে ভাঙচুর ও নির্মাণ সামগ্রী লুটের অভিযোগ ওঠেছে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে।
গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে সেনাবাহিনী ও পুলিশ সদস্যরা উপজেলার জমিদারহাট বাজারে ঘটনাস্থল থেকে একজনকে আটক করে সুধারাম থানায় হস্তান্তর করে। এর আগে সোমবার দিবাগত রাত ১টার দিকে ওই নির্মাণাধীন দোকানঘরে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে।
আটককৃত ব্যক্তির নাম জোবায়ের হোসেন নাঈম (২৪)। তিনি স্থানীয় নন্দনপুর গ্রামের ওমর ফারুক মিলনের ছেলে এবং একই এলাকার ছাত্রদল কর্মী।
ভুক্তভোগী হাজী রহমত উল্যাহ নূরানী তালিমুল কোরআন কওমী মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ক্বারী আতিক উল্যাহ অভিযোগ করে বলেন, স্থানীয় জমিদারহাট বাজারের পশ্চিম পাশে রাইস মিল সংলগ্ন আমার খরিদকৃত দীর্ঘ ৪০ বছরের দখলীয় সম্পত্তিতে সম্প্রতি আমি দোকানঘর নির্মাণের কাজ শুরু করি। গত ৫ জানুয়ারি সকালে স্থানীয় এওজবালিয়া ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মহিন উদ্দিন, ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি দেলোয়ার হোসেন লিটন, বিএনপি কর্মী আবদুল গনি বাবু, ওমর ফারুক মিলন, নছির আহমেদ ও ছাত্রদল কর্মী জোবায়ের হোসেন নাঈমের নেতৃত্বে ১০-১৫ জনের সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসীরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আমার নির্মাণাধীন দোকানঘরে প্রবেশ করে। এসময় তারা আমার নির্মাণ কাজে বাধা দিয়ে আমার নিকট থেকে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবী করে।
ক্বারী আতিক উল্যাহ আরো বলেন, আমি সন্ত্রাসীদের চাহিত চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা আমার সম্পত্তিতে কাজ করতে দিবে না হুমকি-ধমকি দিয়ে চলে যায়। পরে বিষয়টি স্থানীয়দের জানালে তারা সন্ত্রাসীরা ক্ষুব্ধ হয়ে পুনরায় আমার কাজ বন্ধ করে দেয় এবং আমিসহ আমার পরিবারের সদস্যদের প্রাণে হত্যার হুমকি দেয়। এরজের ধরে সোমবার দিবাগত রাত ১টার দিকে উল্লেখিত সন্ত্রাসীদের নেতৃত্বে সন্ত্রাসী গ্রুপ আমার নির্মাণাধীন দোকানঘরে ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়ে নির্মাণ সামগ্রী লুট করে নিয়ে যায়।
তিনি বলেন, সকালে আমি বিষয়টি সুধারাম থানা পুলিশ ও নোয়াখালী সেনা ক্যাম্পে জানালে সেনাবাহিনী ও সুধারাম থানার পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ঘটনাস্থল থেকে সন্ত্রাসী ছাত্রদল কর্মী জোবায়ের হোসেন নাঈমকে আটক করে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে স্থানীয় ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মহিন উদ্দিন ও ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি দেলোয়ার হোসেন লিটনের মুঠোফোনে কল করলে সংযোগ না পাওয়ায় তাদের বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুল ইসলাম জানান, ভুক্তভোগীর অভিযোগ পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। এসময় ঘটনাস্থল থেকে জোবায়ের হোসেন নাঈম নামের এক যুবককে আটক করা হয়েছে। এই ঘটনায় থানায় মামলার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।