মোহাম্মদ হানিফ, সোনাইমুড়ী : সোনাইমুড়ী উপজেলার দেওটিতে ইমাম সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার ২২ মার্চ সকালে ডাঃ মোস্তফা-হাজেরা ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে দেওটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে এই আয়োজন করা হয়।
এসময় চাটখিল ও সোনাইমুড়ী উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নের ১ হাজার মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিনগণ উপস্থিত ছিলেন।
সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক খন্দকার ইশতিয়াক আহমেদ। এসময় তিনি মসজিদের ইমামদের বিভিন্ন সমস্যার কথা শোনেন ও সমাধানের আশ্বাস দেন। বক্তব্যে তিনি বলেন, ইমাম অর্থ নেতা। তারা সুধু নামাজের নয় সমাজেরও নেতা। তবে তারা আর্থিক অসচ্ছলতার মধ্যে রয়েছেন। আর্থিক ভাবে সহযোগিতার মাধ্যমে এর স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। বিভিন্ন ট্রেনিং রয়েছে, আইসিটি সেক্টরে বিভিন্ন মেয়াদি প্রশিক্ষণ রয়েছে। সেগুলো ইমামগণ নিতে পারেন। এছাড়া মোস্তফা-হাজেরা ফাউন্ডেশন ভোকেশনাল ট্রেনিং সেন্টার করছে যেটা খুবই ভালো উদ্যোগ। তিনি এই বিষয়ে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন। এছাড়া সকল ইমামদেরকে তাদের স্ব-অবস্থান থেকে সুদ-ঘুষ, ভেজাল, সিন্ডিকেটের মাধ্যমে পণ্যের মূল্যবৃদ্ধিসহ যাবতীয় অন্যায়ের বিরুদ্ধে আদর্শিক বক্তব্য রাখার আহবান জানান।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সোনাইমুড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাছরিন আকতার, চাটখিল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজানুর রহমান, বিশিষ্ট ইসলামি চিন্তাবিদ ব্যারিষ্টার নজরুল ইসলাম, ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও উপদেষ্টা অধ্যাপক গোলাম মাওলা, গোলাম মর্তুজা, জহিরুল ইসলাম, ধর্মীয় আলোচক নূরুল করিম বেল্লালী প্রমুখ।
অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন ডাঃ মোস্তফা-হাজেরা ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান উপদেষ্টা এ.কে.এম গোলাম কিবরিয়া। তিনি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ইমামদের উদ্দেশ্যে জোরালো বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, আজকে আমাদের নামাজ সমাজ পরিবর্তন করতে পারছে না। আমরা মোসলমানরা গুটিকয়েক ইহুদিদের হাতে নির্যাতিত হচ্ছি। এরপরেও আমাদের হুঁশ ফিরছে না। ইমামগণ শুধু নামাজের ইমাম তাদের কোন কথা সমাজে চলে না। অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বললে মসজিদ কমিটির রোষানলে চাকরি হারাতে হয়। এই অবস্থার পরিবর্তন করতে হলে ইমামদের জেগে উঠতে হবে। শিক্ষা ও জ্ঞানের মাধ্যমে নিজেদের যোগ্য করে তুলতে হবে। শিক্ষার কোন বয়স নাই। যেদিন থেকে শিক্ষা গ্রহণ বাদ দিবেন সেদিন থেকে আপনি মৃত। ইমামেরা যদি ট্রেনিং নিতে চান কিংবা ব্যবসা করতে চান তবে তাদের পাশে মোস্তফা-হাজেরা ফাউন্ডেশন ও এইচএম গ্লোবাল গ্রুপ সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবে বলেও জানান তিনি।
এসময় বিভিন্ন মসজিদের ইমাম ও আলেমগণ বক্তব্য রাখেন। তারা তাদের নানা সমস্যা ও দুরবস্থার কথা তুলে ধরেন। ইমামতির নামে কিভাবে মসজিদ কমিটির গোলামি করতে হচ্ছে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বললে তাদের চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়ার কথাও তুলে ধরেন তারা। এসময় ইমামগণ জেলা প্রশাসকের কাছে সরকারি স্কুলের প্রধান শিক্ষকের সমমানের বেতন ও মুয়াজ্জিনের জন্য সহকারী শিক্ষকের সমমানের বেতন বাধ্যতামূলক করার দাবি জানান।
এইচ এম গ্লোবাল গ্রুপের সার্বিক সহযোগীতায় আয়োজিত এই ইমাম সম্মেলনে ১ হাজার ইমাম-মুয়াজ্জিনদের মাঝে ইফতার সামগ্রী ও নগদ অর্থ বিতরণ করা হয়। বেতিক্রমী এমন উদ্যোগে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে এই ফাউন্ডেশনের উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করেন ইমাম ও মুয়াজ্জিনগণ।