মোহাম্মদ হানিফ নিজস্ব প্রতিনিধি : নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে লাল সবুজ বাসের এক যাত্রীকে মারধরের ঘটনায় দেশজুড়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই বর্বরোচিত হামলার ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে দুই মূল অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে। তবে পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে হামলার পেছনের 'ভুল পরিচয়' জড়িত থাকার বিষয়টি সামনে আসায় ঘটনার রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন আরিফুল ইসলাম আরিফ (৩৩) ও জাহিদুল ইসলাম হৃদয় (২৬)। বুধবার (১৬ জুলাই) দুপুরে তাদের নোয়াখালী চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হয়। মঙ্গলবার গভীর রাতে প্রযুক্তি ব্যবহার করে তাদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
হামলার শিকার যাত্রী মো. তরিকুর ইসলাম (৩১) ময়মনসিংহ জেলার টাংগাব ইউনিয়নের বাসিন্দা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত সোমবার (১৪ জুলাই) ঢাকা থেকে মাইজদীর উদ্দেশ্যে যাচ্ছিল লাল সবুজ পরিবহনের একটি বাস। সোনাইমুড়ীর বাইপাস এলাকায় বাসটি পৌঁছালে আরিফ, হৃদয় এবং তাদের সহযোগীরা বাসটি থামায়। মুখে মাস্ক পরে তারা বাসে ঢুকে হেলমেট দিয়ে তরিকুল ইসলামকে বেধড়ক মারধর করে এবং তার সঙ্গে থাকা মূল্যবান জিনিসপত্র ছিনিয়ে নেয়। এই হামলার ভিডিও দ্রুত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। ঘটনার পর ভুক্তভোগী তরিকুল সোনাইমুড়ী থানায় মামলা দায়ের করেন।
সোনাইমুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোরশেদ আলম জানান, আত্মগোপনে থাকা আওয়ামী লীগ নেতা কিং মোজাম্মেলের এক অনুসারী সবুজ নামের ব্যক্তির সঙ্গে যাত্রী তরিকুলের চেহারায় মিল থাকায় হামলাকারীরা ভুল করে তাকে সবুজ ভেবে মারধর করে।
ওসি আরও জানান, দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং হামলার সময় তাদের পরা চকলেট কালারের লোফার জুতো ও হাতে থাকা হেলমেট জব্দ করা হয়েছে। বাকি আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চলছে।
একজন সাধারণ যাত্রী শুধুমাত্র চেহারার মিলের কারণে এমন ভয়াবহ হামলার শিকার হতে পারেন, এই ঘটনায় জনমনে গভীর উদ্বেগ ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপ প্রশংসনীয় হলেও, এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে এবং সমাজের অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণে আরও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি উঠেছে।