উপজেলা প্রতিনিধি, চাটখিল : মসজিদের সামনে নিজের অটোরিকশা রেখে যোহরের নামাজে গিয়েছিলেন বাবু। কিন্তু নামাজ শেষে বাইরে এসে দেখেন তার আয়ের অবলম্বন রিকশার ব্যাটারি ২টি নেই। খোঁজাখুঁজির পর বুঝতে পারলেন তার সম্পদটি হারিয়ে গেছে। তখন ডুকরে কাঁদতে কাঁদতে হাউমাউ করে কাঁদতে শুরু করেন বাবু।
বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) বিকেলে চাটখিল উপজেলার সরকারি হাসপাতাল মসজিদের সামনে এ ঘটনা ঘটে। নামাজ পড়া শেষ করে বাইরে এসে অটোরিকশার ২টি ব্যটারি না দেখতে পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন ওই রিকশা চালক। আয়ের একমাত্র উৎস হারিয়ে তিনি বিপাকে পড়েছেন।
বাবু চাটখিল উপজেলার সাত্রাপাড়া গ্রামের ইউসুফের ছেলে। তিনি কয়েক মাস আগে পরিবার নিয়ে চাটখিলের ৬নং ওয়ার্ডে ভাড়া থাকতেন। সেখানে থেকে অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন।
বাবু জানান, পরিবার নিয়ে চাটখিল পৌরসভায় এসে একটি বাসা ভাড়া নিয়ে ৯২ হাজার টাকা লোন করে একটি অটোরিকশা কেনেন। অটোরিকশা কেনার কয়েক মাসের মধ্যে ব্যাটারি নষ্ট হয়ে গেলে কর্মহীন হয়ে পড়েন। স্থানীয়দের পরামর্শে সাপ্তাহিক ২৬০০ টাকা কিস্তিতে আশা এনজিও থেকে ১ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে অটোরিকশার ব্যাটারি কিনে তা সচল করেন। অটোরিকশা চালাতে থাকেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোস্তাক আহমেদ বিষয়টি শুনে দু:খ প্রকাশ করে বলেন, চাটখিল সরকারি হাসপাতালে প্রায় এমন ঘটনা ঘটছে। এসব বিষয়ে সবাইকে সর্তক থাকার আহবান জানান। এছাড়াও তিনি তার সিসি ক্যামেরা দেখতে সহযোগিতা করেন।
স্থানীয়রা বলছেন, নামাজে এসে যে অটোরিকশার ব্যাটারি হারাতে হবে এটা মানা খুব কষ্টকর। বিত্তবানদের তার পাশে দাঁড়ানো উচিত।