মোহাম্মদ হানিফ, স্টাফ রিপোর্টার : দীর্ঘদিন ধরে জলাবদ্ধতার অভিশাপ থেকে মুক্তির জন্য সোনাইমুড়িতে চলছে এক যুগান্তকারী উচ্ছেদ অভিযান। সেনবাগ থেকে সোনাইমুড়ি পর্যন্ত পানি নিষ্কাশনের পথ দখল করে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা গুঁড়িয়ে দিয়ে প্রকৃতিকে তার নিজস্ব পথে ফিরিয়ে দিচ্ছে উপজেলা প্রশাসন। এই অভিযানকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে দেখা দিয়েছে স্বস্তি ও আশার আলো। দত্তের পুকুরপাড়, মকিল্যা বিজয়নগর এবং বাবুর দোকানের পাশে থাকা অবৈধ স্থাপনাগুলো উচ্ছেদের ফলে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা আবারও সচল হতে শুরু করেছে।
এই পদক্ষেপ শুধু দখলদারদের বিরুদ্ধে একটি কঠোর বার্তা নয়, বরং জনগণের স্বপ্ন পূরণের একটি বাস্তব চিত্র। দীর্ঘদিন ধরে যারা দখলমুক্ত সোনাইমুড়ির স্বপ্ন দেখেছেন, তাদের সেই স্বপ্ন আজ বাস্তবে রূপ নিচ্ছে।
সোনাইমুড়ির জলাবদ্ধতার আরেকটি প্রধান কারণ ছিল খাল দখল। সোনাইমুড়ি চৌরাস্তা থেকে পশ্চিম দিকে হাই স্কুল রোডের উত্তর পাশে দীর্ঘ ৯০-এর দশক থেকে দখল হয়ে থাকা খালগুলো পুনরুদ্ধার করা হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ খলিলুর রহমান বলেন, “বহু চেষ্টা করেও এই খালটি পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। প্রশাসনের এমন বলিষ্ঠ পদক্ষেপের ফলে খালটি আবারও তার পুরোনো রূপ ফিরে পাচ্ছে। আমরা আন্তরিকভাবে প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। উপজেলা পৌরসভার বাসিন্দা মোঃ ইব্রাহিম খলিলের মতে, উপজেলা প্রশাসনের এই পদক্ষেপ সত্যিই প্রশংসার দাবিদার। এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্তের জন্য আমরা তাদের অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই। এই অভিযান সোনাইমুড়ির ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে, যেখানে আইন ও জনস্বার্থ সবার উপরে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাসরিন আক্তার জানিয়েছেন, আমাদের উচ্ছেদ অভিযান চলমান থাকবে। যতদিন না পর্যন্ত সব অবৈধ দখলদারকে উচ্ছেদ করে পানি নিষ্কাশনের পথ পুরোপুরি উন্মুক্ত করা যাচ্ছে, ততদিন এই অভিযান চলবে।
এই উচ্ছেদ অভিযান শুধু জলাবদ্ধতা দূর করবে না, বরং অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে একটি কঠোর বার্তা দেবে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের দখল রোধে ভূমিকা রাখবে।