সাব্বির ইবনে ছিদ্দিক, হাতিয়া : হাতিয়ায় সুদের টাকার জন্য এক রিক্সাচালকের বসতঘরে তালা লাগিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তোফায়েল আহম্মদ নামের এক সুদি কারবারীর বিরুদ্ধে। এতে করে গত আটদিন ধরে রিক্সাচালক একরাম হোসেন তার স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে খোলা বারান্দায় ঝড়বৃষ্টি উপেক্ষা করে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার চরকিং ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের চরবগুলা গ্রামে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সরকারি প্রকল্পের একটি ঘরে বসবাস করা রিক্সাচালক একরাম নিজের প্রয়োজনে তোফায়েল আহম্মদের কাছ থেকে সুদের টাকায় ঋণ নেন। দারিদ্রতার কারণে দীর্ঘদিন সুদের টাকা পরিশোধ করতে না পারায় তোফায়েল সম্প্রতি তার ঘরে তালা ঝুলিয়ে দেন। এতে পরিবারটি খোলা বারান্দায় আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়।
রিক্সাচালক একরাম হোসেন জানান, ২০১৫ সালে রিক্সা দুর্ঘটনায় আহত দুজনের চিকিৎসার জন্য তিনি ৬০ হাজার টাকা সুদে নেন। পরে আবারও টাকা ধার করতে হয়। এ পর্যন্ত তিনি ১ লাখ ৮৬ হাজার টাকা পরিশোধ করেছেন। তবুও জোরপূর্বক তাকে ৩ লাখ ৩৩ হাজার টাকার স্ট্যাম্পে টিপসই করানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, “স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে বারান্দায় বৃষ্টিতে ভিজে রাত কাটাচ্ছি। রান্নাবান্না বন্ধ, পাশের বাড়ি থেকে ধার করা বিছানা-মশারী দিয়ে কোনরকমে দিন পার করছি।”
একরামের স্ত্রী বলেন, “ঘরে ঢুকতে না পেরে ছোট বাচ্চাদের নিয়ে বারান্দায় থাকছি। বৃষ্টিতে ভিজে বাচ্চাদের ঠান্ডা লেগে গেছে। কেউ আমাদের পাশে দাঁড়াচ্ছে না।”
পল্লী চিকিৎসক আব্দুল হালিম বলেন, “এমন অমানবিক ঘটনা মেনে নেওয়া যায় না। ছোট ছোট বাচ্চারা অসুস্থ হয়ে পড়ছে অথচ তাদের চিকিৎসারও সামর্থ্য নেই।”
অভিযোগ অস্বীকার না করে সুদি কারবারী তোফায়েল আহম্মদ বলেন, “সে আমার কাছ থেকে লাভের টাকায় ঋণ নিয়েছে। টাকা না দিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছিল। তাই ঘরে তালা দিয়েছি। টাকা পরিশোধ করলে তালা খুলে দেব।”
এ বিষয়ে চরকিং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাঈম উদ্দিন বলেন, “সুদের পাওনার জন্য কারো বসতঘরে তালা মারা আইনত অপরাধ। আমি চৌকিদার পাঠিয়ে এখনই তালা খুলে দেওয়ার ব্যবস্থা নিচ্ছি।”