সাব্বির ইবনে ছিদ্দিক, হাতিয়া : হাতিয়া উপজেলায় মহসিন নামের এক যুবক সোস্যাল মিডিয়ায় কিডনি বিক্রির ঘোষণা দিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছেন। ঋণের বোঝা, দারিদ্র্য আর সংসারের টানাপোড়নে অতিষ্ঠ হয়ে তিনি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানা গেছে। বিষয়টি ভাইরাল হতেই তার দোকানে ভিড় জমাচ্ছেন আশপাশের মানুষ। কেউ খোঁজখবর নিচ্ছেন, কেউ আবার সান্ত্বনা দিচ্ছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুড়িরচর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের গ্রাম পুলিশ আবুল কাশেমের ছেলে মহসিন। পড়াশোনা শেষ করে একটি ওষুধ কোম্পানিতে চাকরি করেন তিনি। পরবর্তীতে প্রেমের বিয়ের কারণে পরিবার থেকে আলাদা হয়ে সংসারের দায়িত্ব কাঁধে নেন। কিন্তু সংসারের বাড়তি খরচ, স্ত্রীর বিলাসিতা আর নিয়মিত কিস্তির চাপে তিনি ঋণের ফাঁদে জড়িয়ে পড়েন। এক এনজিওর ঋণ শোধ করতে আরেক এনজিও থেকে টাকা নিতে বাধ্য হন। পরে সংসার ভাঙন ঘটে, স্ত্রী ডিভোর্স দিয়ে চলে যান।
চাকরি ছেড়ে আত্মীয়-স্বজনের সহযোগিতায় ফার্মেসি ব্যবসা শুরু করলেও আর্থিক সংকট থেকে বের হতে পারেননি মহসিন। এনজিওর কিস্তি ও ধার শোধ করতে না পেরে একপর্যায়ে হতাশ হয়ে কিডনি বিক্রির ঘোষণা দেন তিনি।
স্থানীয় ফয়েজ উদ্দিন বলেন, “মহসিন একজন ভালো মানুষ। কিন্তু সংসারের চাপ আর এনজিও কিস্তির কারণে তিনি বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন। দোকানের সামনে প্রতিদিন এনজিওর লোকজন বসে থাকে, যা তাকে মানসিকভাবে ভেঙে দিয়েছে।”
আরেক স্থানীয় বাসিন্দা ছাইফুল ইসলাম জিহাদ বলেন, “মহসিনের মতো মানুষদের পাশে দাঁড়ানো এখন সময়ের দাবি। সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসতে হবে। না হলে হতাশা থেকে আরও ভয়াবহ কিছু ঘটে যেতে পারে।”
এ বিষয়ে মহসিন জানান, “আমি পালালেও ঋণ শোধ করতে হবে। ঋণ পরিশোধের সামর্থ্য আমার পরিবারের নেই। তাই নিরুপায় হয়ে কিডনি বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”
এলাকার সচেতন মহল মনে করছেন, শুধু ঋণ প্রদান নয়, মানবিক বিবেচনায় এনজিওগুলোরও দায়িত্ব রয়েছে। প্রয়োজনে ঋণ পুনঃনির্ধারণ কিংবা কর্জে হাসানা পদ্ধতিতে সমাধান দিলে মহসিনের মতো মানুষ বাঁচতে পারবে। তারা প্রশাসন, সমাজসেবী সংগঠন ও বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।