টি-টোয়েন্টিতে শেষ দিকের ওভারে দ্রুত রান তোলায় মনোযোগি হন ব্যাটাররা। কুড়ি ওভারের ক্রিকেটে এই সময়টায় ম্যাচের মোড়ও ঘুরে যায় অনেক সময়। বোলারদের জন্য তাই স্লগ ওভারে বোলিং করা কঠিন পরীক্ষাও বটে। আর কঠিন সেই কাজই কি অবলিলায় করে যাচ্ছেন বাংলাদেশের পেসার মোস্তাফিজুর রহমান।
আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি বোলার মোস্তাফিজ। শুধু উইকেট নেওয়াতেই নয়, শেষ দিকে ব্যাটারদের রান তোলার কাজটা রীতিমতো অসম্ভবই করে তোলেন ৩০ বছর বয়সী এই পেসার। ডেথ ওভারে বর্তমানে দ্বিতীয় সেরা ইকোনোমিকাল বোলার এখন তিনি। ১৬-২০ ওভারে ৭.৯৪ ইকোনোমিতে ৭০ উইকেট নিয়েছেন মোস্তাফিজ।
সবশেষ এশিয়া কাপের সুপার ফোরে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৩ উইকেট নিয়ে দলের জয়ে বড় অবদানে রাখেন মোস্তাফিজ। বিশেষ করে লঙ্কানদের বিপক্ষে ১৯তম ওভারে বল হাতে নিয়ে রানের গতি একেবারেই থামিয়ে দেন ‘কাটার মাস্টার’। ওই ওভারে মাত্র চার রান দিয়ে দুই উইকেট তুলে নেন তিনি।
গত ১৮ মাসে মোস্তাফিজের ডেথ ওভারের পরিসংখ্যান দেখলে তো রীতিমতো চোখ কপালে ওঠবে। ১৯তম ওভারে ব্যাটারদের নাভিশ্বাস তুলে ছেড়েছেন তিনি। শেষ দিকের এই ওভারে মাত্র ৩ রান দিয়েছেন বাংলাদেশি পেসার। অনেকের মতে এই সময়ের সেরা পেসার জাসপ্রিত বুমরাহও ধারে-কাছে নেই মোস্তাফিজের। ভারতীয় এই পেসার একই সময়ে ৬.৫ করে রান দিয়েছেন।
বৈচিত্র্যতায় ভরপুর মোস্তাফিজের অন্যতম অস্ত্র অফ-কাটার। ২০১৫ সালে ভারতের বিপক্ষে অভিষেকের সময়ই ক্রিকেটবিশ্বে হইচই পড়ে যায় তার এই দক্ষতায়। ভারতের সাবেক ক্রিকেটার রবিচন্দন অশ্বিন তো বিস্ময়ই প্রকাশ করেছিলেন, কীভাবে এই ডেলিভারি উইকেটকিপারের হাতে পর্যন্ত বল পৌঁছে যায়!
মাঝে কাঁধের চোটে হারিয়ে যেতে বসেছিলেন মোস্তাফিজ। বোলিংয়ে চিরচেনা সেই ধারও ভোঁতা হয়ে এসেছিল। তারপর নিজের দক্ষতার ভাণ্ডার আরও সমৃদ্ধ করতে হয়েছে তাকে। ওটিস গিবসন ও অ্যালান ডোনাল্ডের সঙ্গে কাজ করে বলকে ভেতরে আনার কৌশল রপ্ত করেন তিনি। সাম্প্রতিক সময়ে ডানহাতি ব্যাটারের বিপক্ষে গতিময় বলের সঙ্গে অফকাটার মিশেলে কার্যকরী বল করেছন মোস্তাফিজ।
২০১৫ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেকের পর থেকে মোস্তাফিজের ক্যারিয়ারে উত্থান-পতন দুই-ই এসেছে। টেস্টে আর ওয়ানডে থেকে এখন ক্রিকেটের সংক্ষীপ্ততম সংস্করণেই বাংলাদেশ দলের মূল ভরসা তিনি।
আজ এশিয়া কাপে সুপার ফোরের দ্বিতীয় ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে মোস্তাফিজের পরীক্ষাটা কঠিনই। বিশেষ করে ভারতের পেস বোলিং অলারাউন্ডার হার্দিক পান্ডিয়া বাংলাদেশি পেসারকে পেলেই তুলোধুনো করার রেকর্ড আছে। ২০২৪ সালের পর থেকে মোস্তাফিজের বিপক্ষে ২১২.৫০ স্ট্রাইক রেটে ব্যাট করছেন পান্ডিয়া। এরপরও মোস্তাফিজেই তো আস্থা বাংলাদেশের।