কেউ মনে কষ্ট না নেওয়ার জন্য ধন্যবাদ দিয়ে শুরু করছি। আমরা আসলে নিজেরাই বেঈমান। স্বীকার করিনা কখনো কারো অবদান। যে যখন করেছে নোয়াখালীর উন্নয়ন। মৃত্যুর পরে নতুবা ক্ষমতার পালাবদলে হয়ে গেছে সব বুমেরাং। আমরা চোখ পল্টি দিতে একটুও দেরি করি না। যেই প্লেটে খাই, যেই বিছানায় ঘুমাই, সেখানেই পায়খানা করতেও লজ্জা করি না। বাস্তবতার প্রেক্ষাপটে সন্তানও আজ পিতা-মাতার অবদান অস্বীকার করে অকপটে। তাদেরকে সহি শুদ্ধ বাংলায় বেঈমান ছাড়া আর কি বলা যায়।নতুন কেউ ভূমিষ্ঠ হলে তাকে নিয়েই আমরা নাচতে নাচতে মত্ত হয়ে পড়ি হয়ে যাই টাল মাতাল। মাইক্রোফোন বা মঞ্চ কোন পেলেই বকতে বকতে হয়ে যাই বেসামাল। অন্যকে দোষারোপ করা এবং দোষ খোঁজা হয়ে গেছে আমাদের চরিত্রের মৌলিক বৈশিষ্ট্য। তাহলে থাকলো কি আর অবশিষ্ট!? ভূমিষ্ঠ হয়েই বনে যেতে চাই কাপড় পরা ছাড়াই নেতা। এইজন্য আসলে শীতের ভরা মৌসুমেও খুঁজে পাই না নিজের কাঁথা। আঘাত পেলে নিরাময় করতে পারি না নিজের ব্যথা।
নোয়াখালীর যখন যে ক্ষমতায় নতুবা চেয়ারে ছিল প্রত্যেকেই বৃহত্তর নোয়াখালীর জন্য নূন্যতম কিছু অবদান রেখেছে। আজ সময়ের প্রেক্ষাপটে তাদের সে সকল অবদানকে আমরা অস্বীকার করতে একটুও দ্বিধা করছি না। এত বড় অর্থনীতির চাকা ঘোরানোর ক্ষমতা ব্যবসায়ীরা যেভাবে পেল তাদের নিজের পরিশ্রমের পাশাপাশি ক্ষমতাসীন কারোর না কারোর একটু দাক্ষিণ্যতো অবশ্যই ছিলো। আমলাদের ভিতরে যারা সচিব পদে পদায়িত হয়েছে প্রত্যেকের জন্যই বৃহত্তর নোয়াখালীর উচ্চপদস্থ ব্যক্তিদের কোন না কোন ভাবে হাতের ছোঁয়া লেগেছে। সময়ের বিবর্তনে অনেকেই চেয়ারে বসে ভাবতে পারেন আমি আমার যোগ্যতায় অনেক বড় আমলা হয়েছি।
আসলে বিষয়টি তা নয়। আপনাদের চাইতে অনেক মেধাবীদেরকেও চাপা দিয়ে আপনাকে উচ্চ পদে আসিন করার পিছনে অনেকেই প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষভাবে কলকাঠি নেড়েছে। যার জ্বলন্ত সাক্ষী আমি আছি। এখনো অনেক জুনিয়র অফিসারদের বদৌলতে বৃহত্তর নোয়াখালীর কেউ না কেউ উপকৃত হচ্ছেন তারা কিন্তু থেকে যাচ্ছে পর্দার আড়ালেই নানান সমীকরণের কারণে। পক্ষান্তরে ব্যতিক্রমও আছে অনেকে সচিব হওয়ার পরে নোয়াখালীর পরিচয় দিতেও সংকোচ বোধ করে। না জানি তার চেয়ার নড়বড়ে হয়ে যায় এই ভয়ে। তখন ভাবনা শুধু একটাই করে" চাচা আপনা জান বাঁচা"শুধু নিজের আখের গুছা। স্মরণ রাখতে হবে গাছ কাটতে কুড়াল লাগে কিন্তু একটি দেহ কাটতে ছোট্ট একটি ব্লেড হলেই যথেষ্ট। লাখ টাকার নুপুর পায়ে লাগে এক টাকার একটা টিপ কপালেই বসে।
তাই ছোটকে কখনো অবহেলা করতে নেই। কখন কাকে কোন কাজে কিভাবে লাগে আপনি বুঝতেও পারবেন না। পেশাগত জায়গা থেকে বলতে পারি নোয়াখালীর সাংবাদিকরাও বৃহত্তর নোয়াখালীর উন্নয়নের জন্য কলম সৈনিক হিসেবে ভূমিকায় পিছিয়ে নেই। সেটিও স্মরণ করে না কেউ। আমার আরেকটি লেখাতে আমি লিখেছিলাম ডজনের উপরে এক জেলার প্রভাবশালী মন্ত্রীদের তাদের জেলাকে বিভাগ করার পদক্ষেপকে একজন মন্ত্রীই নস্যাৎ করে দিয়ে বাস্তবায়িত হতে দেয়নি। যেটি হয়তোবা অনেকেরই অজানা। আজ যেমনি বাকি আরো দুই গন্ডা উপদেষ্টা পাশাপাশি শুধু বৃহত্তর একটি জেলার প্রভাবশালী ১০ জন সচিবের (আমার কাছে সদ্য যেই তালিকা আছে সেই তালিকা মতে) নীল নকৃশাকে দাবিয়ে দিচ্ছে মাত্র একজন উপদেষ্টাই।
কিন্তু প্রশ্ন হলো তার এই অবদানকে আমরা অস্বীকার করতে কতক্ষণ লাগবে? নোয়াখালীতে একটি কথিত কথা আছে "খাওয়াই দিলে কয় তুই কে মূই কে তোর দুয়ারে যায় কে" ।বাংলায় একটি প্রবাদ আছে কোদাল বুকের দিকে টানে। কিন্তু কোদালকে আমরা দেখি কোন মানে। এর মধ্যে দুই একটি ব্যতিক্রম বিষয় দিয়ে শত সফলতার দৃষ্টান্তকে আড়াল করে কলঙ্ক লেপনের অপচেষ্টা বা কোন সুযোগ আছে বলে আমি মনে করি না। ব্যবসায়ীদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আছে বলেই নোয়াখালীর লাখ লাখ লোক নোয়াখাইল্লা পরিচয়ে ঐ সকল ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে কর্ম করে জীবিকা নির্বাহ করতে পারছে যোগ্যতা অনুসারে। কিন্তু দুঃখ ও পরিতাপের বিষয় যে, ইদানিং বিভাগ নিয়ে আন্দোলনের ডামা ঢোলে অনেকেই অনেক ভাবে অতীতকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য এবং বিভিন্ন রং তুলি দিয়ে সাজানোর অপচেষ্টা করছে বিধায় আমাদের মাঝে অনেক বিভ্রান্তি, বিভক্তি সৃষ্টি হচ্ছে।
যার যোগ্যতা নেই যে ব্যক্তিকে নিয়ে সমালোচনা করার বা তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করার সেও অনেক দুঃসাহস দেখাচ্ছে। এটিকে বলব কালের বিবর্তনে কলির কাল। যদিও আমি কোন কালেই কোন ক্ষমতাসীন ব্যক্তির আশীর্বাদপুষ্ট বা লাভবান নয়। কারণ দারস্তই হইনি সেটি ব্যর্থতা, অযোগ্যতা আমার নিজের। কাউকে আমি খাটো করে বা দোষারোপ করে বলতে রাজি নই যে আমার কেউ উপকার করেনি। আমরা সকলেই দলমত নির্বিশেষে রাজনৈতিক মতাদর্শের উর্ধ্বে উঠে, বৃহত্তর নোয়াখালীর উন্নয়ন সমৃদ্ধির বিষয়ে সব সময় ঐক্যবদ্ধ থাকবো কাউকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য না করে সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় নিয়ে এবং শিষ্টাচারের সর্বোচ্চ পরিচয় দেবো । ঐতিহ্যকে ধরে রাখবো। অন্যের প্রতি শ্রদ্ধাশীল পাশাপাশি সহনশীল হবো।
প্রতিপক্ষ, সমকক্ষ বা ঔদ্ধত্য দেখায়ে নিজেকে জাহির করা থেকে বিরত থাকবো। এটা আমার একান্তই অনুরোধ অগ্রজ, অনুজ, নবাগত সকলের প্রতি অনুরোধ। আশা করি আমার এই লেখায় কেউ ব্যক্তিগত ভাবে আহত না হয়ে সাদা দৃষ্টিভঙ্গির পরিচয় দিবেন। একজন উপদেষ্টার প্রচেষ্টাকে পূর্ণাঙ্গ সফলতায় না দেখে আমাদের নিজস্ব মৌলিক দাবি-দাওয়া য় আমরা অটল এবং অব্যাহত ভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাবো। কেননা অনেক সময় অনেক কিছু রাতের আঁধারেও পরিবর্তন হয়ে যায় আন্তর্জাতিক থেকে শুরু করে দেশীয় চক্রের ষড়যন্ত্রের মধ্য দিয়ে। এজন্য সজাগ দৃষ্টি আমাদের সকলের থাকবে। আমরা কাউকে প্রতিপক্ষ ভাববো না, নিজেদের দাবিকে সামনে রাখবো।
অটুট থাক আমাদের ঐক্য।
সকলের সুস্বাস্থ্য ও শুভকামনা।
লেখক : সাংবাদিক ও কলামিস্ট