নিজস্ব প্রতিবেদক : ‘সাম্য ও সমতায় দেশ গড়বে সমবায়’ এই প্রতিপাদ্যকে ধারণ করে জেলায় উৎসবমুখর পরিবেশে পালিত হয়েছে ৫৪তম জাতীয় সমবায় দিবস। শনিবার (১ নভেম্বর) সকালে জেলা প্রশাসন ও সমবায় বিভাগের যৌথ উদ্যোগে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে থেকে এক বর্ণাঢ্য র্যালির আয়োজন করা হয়।
জেলা প্রশাসক খন্দকার ইসতিয়াক আহমেদের প্রতিনিধি অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট শান্তনু কুমার দাশ র্যালির ফিতা কেটে উদ্বোধন করেন। র্যালিতে অংশ নেয় বিভিন্ন সমবায় সমিতির সদস্য, সরকারি কর্মকর্তা, শিক্ষার্থী, নারী সমবায়ী সদস্যসহ নানা শ্রেণিপেশার মানুষ। র্যালিটি জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে শুরু হয়ে জেলা শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়।
এরপর শিল্পকলা একাডেমির অডিটোরিয়াম হলে পতাকা উত্তোলন, আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা সমবায় অফিসার মুরাদ আহাম্মদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন নোয়াখালী সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার হোমায়রা ইসলাম, সিভিল সার্জন ডা. মরিয়ম সিমির প্রতিনিধি ডা. ফয়সাল মোঃ তৌহিদুজ্জামান, মেডিকেল অফিসার, সিভিল সার্জন অফিস, নোয়াখালী। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন সদর উপজেলা সিনিয়র সমবায় অফিসার মোঃ মনির হোসেন।
অনুষ্ঠানে জেলার বিভিন্ন সমবায় সমিতিকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। এর মধ্যে ‘সহযোগিতার সমবায় সমিতি’ শ্রেষ্ঠ সমবায় সমিতি হিসেবে পুরস্কার লাভ করে। সমিতির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মোঃ আবুল হাসান রিপন সম্মাননা গ্রহণ করেন।
সরকারি ট্রেনিং প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ ও সাফল্যের জন্য ‘আলো সমবায় সমিতি’র সভাপতি মোহাম্মদ আলাউদ্দিন সর্বোচ্চ সম্মাননা স্মারক পান।
এছাড়া সদর উপজেলার একমাত্র মৎস্য প্রজেক্ট ‘স্বপ্নপূরণ মৎস্য চাষী সমবায় সমিতি লি.’ জেলা পর্যায়ের সম্মাননা স্মারক অর্জন করে। সমিতির সভাপতি রুমানা ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ আলাউদ্দিন পুরস্কার গ্রহণ করেন।
এ সময় বক্তারা তাদের বক্তব্যে মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা ড. মোহাম্মদ ইউনুসের উদ্ধৃতি তুলে ধরে বলেন “দেশ ও জনগণের উন্নয়নে গৃহীত যেকোনো কার্যক্রম সফলভাবে বাস্তবায়নে সামাজিক সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করা অপরিহার্য। সমবায়ের অমিত সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে আমরা সহজেই এই লক্ষ্য অর্জন করতে পারি। সমবায় সমিতিগুলো শুধু আর্থিক প্রতিষ্ঠান নয়, বরং সমাজের নানা সমস্যা সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখে।”
তারা আরও বলেন, “দেশের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, দক্ষ জনশক্তি তৈরি ও অর্থনৈতিক অগ্রগতি ত্বরান্বিত করতে সমবায় আন্দোলনের বিকল্প নেই। একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, ন্যায়ভিত্তিক ও টেকসই সমাজ গঠনে সমবায়ের ভূমিকা অনন্য। আসুন, সমবায়ের চেতনাকে ধারণ করে সাম্য ও সমতায় আমরা সকলে মিলে গড়ে তুলি নতুন বাংলাদেশ।”