নুশরাত রুমু, মাইজদী : এক বছরের বেশি সময় ধরে জেলা ছাত্রদলের কমিটি নেই। একইভাবে কমিটি জেলার ৯ উপজেলার চারটিতেও নেই । বাকি পাঁচ উপজেলায় আহ্বায়ক কমিটি থাকলেও তা মেয়াদোত্তীর্ণ। এমন অবস্থায় জেলাতে ছাত্রদলের সাংগঠনিক কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে।
দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ২১ আগস্ট জেলা ছাত্রদলের কমিটি বিলুপ্ত করে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল। ওই কমিটিতে সভাপতি পদে আজগর উদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক আবু হাসান মো. নোমান ছিলেন। সংগঠনের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ায় কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে।
শিগগিরই নতুন কমিটি গঠন করা হবে। তবে ১৪ মাসেও নতুন কমিটি গঠন করা হয়নি।
কমিটি না থাকার কারণে সংগঠনের ভেতর জবাবদিহির জায়গাও নষ্ট হচ্ছে। এ সুযোগে কেউ কেউ অনিয়মে জড়িয়ে পড়ছেন, যা সামগ্রিকভাবে দলের জন্য ক্ষতিকর।
সাবেক সহসভাপতি, জেলা ছাত্রদল জেলা ছাত্রদলের একাধিক সাবেক নেতার সঙ্গে কথা হলে তাঁরা বলেন, কমিটি না থাকায় নেতা-কর্মীদের মধ্যে বিভেদ বাড়ছে। যে যাঁর মতো দায়সারাভাবে সাংগঠনিক কর্মসূচি পালন করছেন। জেলা শাখার তদারকি না থাকায় অধীন ইউনিটগুলোর কার্যক্রমও ঝিমিয়ে পড়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে জেলা ছাত্রদলের সাবেক দুই নেতা বলেন, গত বছর কমিটি বিলুপ্তির পর নতুন কমিটি গঠন হবে এ আশায় নেতা-কর্মীদের মধ্যে উদ্দীপনা দেখা দিয়েছিল। তবে এসব নেতা-কর্মী এখন হতাশ হয়ে পড়েছেন। আগামী সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে দলের কার্যক্রমে গতি বাড়াতে দ্রুত কমিটি গঠন করা উচিত বলে জানান তাঁরা।
জানতে চাইলে জেলা ছাত্রদলের বিলুপ্ত কমিটির সাধারণ সম্পাদক আবু হাসান মো. নোমান বলেন, ‘আমাদের কমিটি মেয়াদোত্তীর্ণ ছিল, এটা সত্য। কিন্তু কী কারণে কমিটি হঠাৎ বিলুপ্ত করা হলো, তা আমরা জানি না। তবে দলের স্বার্থে বলব, দ্রুত নতুন কমিটি ঘোষণা করা উচিত। তা না হলে দল সাংগঠনিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’
নতুন কমিটিতে পদপ্রত্যাশীদের একজন আনোয়ার হোসাইন। তিনি বিগত কমিটিতে সহসভাপতির পদে ছিলেন। আনোয়ার হোসাইন বলেন, দীর্ঘদিন কমিটি না থাকার কারণে সংঘবদ্ধভাবে দলীয় কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না। এতে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা নষ্ট হচ্ছে। তা ছাড়া কমিটি না থাকার কারণে দলের ভেতর জবাবদিহির জায়গাও নষ্ট হচ্ছে। এ সুযোগে কেউ কেউ অনিয়মে জড়িয়ে পড়ছেন, যা সামগ্রিকভাবে দলের জন্য ক্ষতিকর।
চার উপজেলায় কমিটি নেই, পাঁচটিতে মেয়াদোত্তীর্ণ জেলার মতো জেলার চার উপজেলাতেও ছাত্রদলের কমিটি নেই। এসব উপজেলা হলো চাটখিল, কোম্পানীগঞ্জ, কবিরহাট ও সুবর্ণচর। এর বাইরে জেলার বাকি পাঁচ উপজেলার মধ্যে চারটিতে আহ্বায়ক কমিটি থাকলেও সেগুলো মেয়াদোত্তীর্ণ হয়েছে চার বছর আগে। এসব উপজেলা হলো সদর, বেগমগঞ্জ, সেনবাগ ও সোনাইমুড়ী। এ ছাড়া অপর উপজেলা হাতিয়ায় গত ১২ আগস্ট আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। এক মাসের জন্য গঠিত এই আহ্বায়ক কমিটির মেয়াদও শেষ হয়েছে।
এ বিষয়ে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন বলেন, ‘ডাকসুসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচন নিয়ে এত দিন আমাদের ব্যস্ততা ছিল। এ কারণে জেলা কমিটিগুলোর দিকে নজর দেওয়া সম্ভব হয়নি। বর্তমানে জেলা কমিটি দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। শিগগিরই নোয়াখালীতে নতুন কমিটি দেওয়া হবে।’
জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী ও জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি সজীব রহমান বলেন, ‘ছাত্রদল মানে দেশের ভবিষ্যৎ, গণতন্ত্রের প্রথম কণ্ঠস্বর। আমি সেই কণ্ঠস্বরকে আরও শক্তিশালী করতে চাই, প্রিয় সংগঠনকে আধুনিক, সুশৃঙ্খল ও আদর্শিকভাবে গড়ে তুলতে চাই। আমার লক্ষ্য হচ্ছে তৃণমূলের কর্মীদের অধিকার নিশ্চিত করা। ছাত্র রাজনীতিকে শিক্ষাবান্ধব ও গঠনমূলক পথে এগিয়ে নেওয়া। আমার হাতে যদি দায়িত্ব আসে, তবে সব স্তরের নেতাকর্মীর সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করব এবং গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে সাহসী নেতৃত্ব প্রদান করবো ইনশাআল্লাহ।’
নোয়াখালী কলেজ ছাত্রদলের সদ্য সাবেক সভাপতি ও জেলা ছাত্রদলের সভাপতি পদপ্রত্যাশী আকবর হোসেন বলেন, ‘দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ছাত্র রাজনীতিতে আমি মোট ১১টি মামলার আসামি হয়েছি এবং ৩ বার কারাবরণ করেছি। আমি রাজনীতিকে ক্ষমতার হাতিয়ার হিসেবে নয় বরং সেবার মাধ্যম মনে করি।
জেলার প্রতিটি শিক্ষার্থীর স্বার্থ রক্ষায়, ক্যাম্পাসে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় এবং শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলবো। কারণ ছাত্রসমাজ গণতন্ত্রের মূল চালিকাশক্তি। ২৮ অক্টোবর ২০২৩ পরবর্তী সময়ে দলের আন্দোলন সংগ্রামে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের নিয়ে সর্বোচ্চ উপস্থিতি ছিলাম এবং দলীয় সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে এক কদমও পিছপা হইনি।’
জেলা ছাত্রদলের সভাপতি পদপ্রার্থী ও বর্তমান শহর ছাত্রদলের আহবায়ক মো. ওয়াসিম বলেন, 'আমি ওয়ার্ড ছাত্রদল থেকে শুরু করে শহর ছাত্রদলের সহ-সভাপতি, সিনিয়র যুগ্ন আহবায়ক এবং বর্তমান আহবায়ক হিসেবে শহর এবং জেলায় সততা ও নিষ্ঠার সাথে সাংগঠনিক দায়িত্ব ও সকল আন্দোলন সংগ্রাম করে যাচ্ছি। ১৭ বছর ধরে রাজপথে আন্দোলন করতে গিয়ে ৬ বার কারাবরণসহ ১৯ টা মামলার আসামী হয়েছি। আমার ত্যাগের মূল্যায়নে আমি জেলা ছাত্রদলের সভাপতি পদ প্রত্যাশা করি।’
জেলা ছাত্রদলের সভাপতি পদপ্রার্থী ও জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি আনোয়ার হোসেন রকি বলেন, ‘দীর্ঘ ১৯ বছরের বেশি সময় ধরে ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছি। তৃণমূল থেকে জেলা পর্যায় পর্যন্ত সক্রিয় থেকে দলের সংকটময় সময়ে নেতাকর্মীদের পাশে দাঁড়িয়েছি এবং সংগঠনের স্বার্থে জেল-জুলুম, নির্যাতনসহ নানা ত্যাগ স্বীকার করেছি। সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের পাশে থাকার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা আমাকে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি পদে সবচেয়ে যোগ্য প্রার্থী করে তুলেছে। আমি জেলা ছাত্রদলকে ঐক্যবদ্ধ ও আরও শক্তিশালী করার প্রত্যয় ব্যক্ত করছি।’