নুশরাত রুমু , মাইজদী : দশম গ্রেডে বেতনসহ তিন দফা দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত সারা দেশে প্রাথমিকের শিক্ষকরা অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতিতে থাকবেন। ফলে সারা দেশের প্রায় ৬৫ হাজারের বেশি বিদ্যালয়ে বন্ধ রয়েছে পাঠদান কার্যক্রম। পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী আজ রবিবার সকাল থেকে তাদের এই কর্মসূচি শুরু হয়েছে।
গত শনিবার (৮ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৬টায় প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সংগঠন ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক ও প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতির কেন্দ্রীয় সভাপতি শামসুদ্দিন মাসুদ অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির ঘোষণা দিয়ে বলেন, দাবি বাস্তবায়ন ও পুলিশের হামলার প্রতিবাদে রবিবার থেকে শহিদ মিনারে অবস্থানের পাশাপাশি সারা দেশের সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পূর্ণদিবস কর্মবিরতি চলছে। এর আগে শনিবার দুপুরে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি শেষে শিক্ষকরা কলম বিসর্জন কর্মসূচি পালনের জন্য শাহবাগের দিকে পদযাত্রা শুরু করলে পুলিশের বাধার মুখে পড়েন। সেখানে উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়।
শিক্ষকরা পুলিশের ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা করলে পুলিশ জলকামান, সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ার শেল ব্যবহার করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়শিক্ষক নেতাদের দাবি এই হামলায় শতাধিক শিক্ষক আহত হয়েছেন এবং বেশ কয়েকজন শিক্ষক নেতাকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদ’-এর ব্যানারে আন্দোলনকারী শিক্ষকদের প্রধান তিনটি দাবি হলো: সহকারী শিক্ষকদের বেতন দশম গ্রেডে উন্নীতকরণ, ১০ বছর ও ১৬ বছর চাকরি পূর্তিতে উচ্চতর গ্রেড প্রদান-সংক্রান্ত জটিলতা ও সমস্যার স্থায়ী সমাধান, সহকারী শিক্ষকদের জন্য শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতি প্রদান।
পরিষদের সমন্বয়ক শামসুদ্দিন মাসুদ অভিযোগ করেন, বিনা উসকানিতে পুলিশ তাদের শান্তিপূর্ণ পদযাত্রায় হামলা চালিয়েছে।
তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, কর্মকর্তারা আলোচনা করতে চাইলেও এবার আর তাঁরা যাবেন না। প্রজ্ঞাপন ছাড়া কোনোভাবেই ঘরে ফিরবেন না এবং প্রয়োজনে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণার ইঙ্গিত দেন। নোয়াখালী সদরের ১ নং চরমটুয়া ইউনিয়নের নেয়াজের ডগি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে খবর নিয়ে জানা যায় সেখানেও শিক্ষকরা কর্মবিরতিতে রয়েছেন। শিক্ষকগণ বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকলেও শ্রেণি কার্যক্রম বন্ধ। দৈনিক নোয়াখালী কথা পত্রিকা থেকে জানতে চাইলে এ বিষয়ে ঐ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ফারহানা আক্তার ক্ষোভের স্বরে বলেন, আমাদের এই কর্মবিরতি যুক্তিযুক্ত। অনেক বছর ধরেই এই দাবি চলে আসছে৷ অতীতের সরকার তা আমলে নেয়নি। শিক্ষকদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে পুলিশের এই নির্যাতন, শিক্ষকের গায়ে হাত তোলা কখনোই কাম্য নয়। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই।
শিক্ষার্থীদের সামনে ফাইনাল পরীক্ষা। তাদের প্রতি আমাদের যেমন দায়বদ্ধতা আছে তেমনি শিক্ষকদের নির্যাতনের জন্য বিবেকের তাড়নাও রয়েছে। সরকার যদি আমাদের এই দাবিগুলো মেনে নেন। তাহলে আমরাও ক্লাসে ফিরে দ্রুত শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ঘাটতি কাটাতে সচেষ্ট হবো।