নুশরাত রুমু, মাইজদী :
মাইজদী হকার্স মার্কেট একটি পরিচিত ও জনপ্রিয় মার্কেট। বৃহস্পতিবার হকার্স মার্কেটের এক্সপার্ট গ্যালারির ম্যানেজারের ওপর সন্ত্রাসী হামলা, অপহরণের চেষ্টা, দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম এবং দোকানের কালেকশনের ১ লাখ ২০ হাজার টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে।
বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) ভুক্তভোগী থানায় উপস্থিত হয়ে বিবাদীদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগসূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী রকি (৩০) নোয়াখালী হকার্স মার্কেটের ১নং মোহাম্মদ করিম রাসেলের মালিকানাধীন “এক্সপোর্ট গ্যালারি” পাইকারি ও খুচরা দোকানের ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত। পাশাপাশি তিনি হকার্স মার্কেটের একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীও। স্থানীয়ভাবে বিবাদীরা পরিচিত চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী ও অপহরণকারী চক্রের সদস্য বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনার দিন রাত ১০ টার দিকে রকি মোটরসাইকেল যোগে দোকানের কালেকশনের টাকা নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। তিনি দাদপুর ইউনিয়নের খলিফার হাট খোনার মসজিদের সামনে পৌঁছামাত্রই অভিযুক্তরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে দেশীয় অস্ত্র রামদা ও ছেনি নিয়ে তার মোটর সাইকেলের গতিরোধ করে। এরপর তাকে অপহরণের উদ্দেশ্যে প্রথমে হেলমেট দিয়ে আঘাত করে।
ভুক্তভোগী তাদের চিনতে পারলে বিবাদীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে রকির ওপর এলোপাতাড়ি কোপাতে শুরু করে। এতে তার দুই হাতে ৩টি কোপ এবং দুই পায়ে ২টি কোপ লাগে। পরবর্তীতে হাসপাতালে তার হাতে ৩টি ও পায়ে বেশকিছু সেলাই দেওয়া হয়। হামলার এক পর্যায়ে মূল অভিযুক্তরা রকির জ্যাকেটের পকেট থেকে দোকানের ১ লাখ ২০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। পাশাপাশি তারা মোটরসাইকেল নেওয়ার চেষ্টাও করে। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, পালিয়ে যাওয়ার সময় হামলাকারীরা প্রকাশ্যে হুমকি দেয়।
যেকোনো সময় তাকে অপহরণ করে হত্যা করে লাশ গুম করে ফেলবে। পরে রকির চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে গেলে হামলাকারীরা দ্রুত সরে পড়ে। এরপর স্থানীয়রা তাকে নোয়াখালী ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। হাসপাতালের রেজিস্ট্রেশন নম্বর ৯১৮০/১৮, তারিখ : ২০/১১/২০২৫।
বর্তমানে ভুক্তভোগী রকি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানিয়েছেন। নিজের জীবন রক্ষায় এবং ঘটনার ন্যায়বিচারের আশায় তিনি থানায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করেছেন। এই ঘটনায় রকির বড়ভাই, স্ত্রী এবং এক্সপার্ট গ্যালারির মালিক ও হকার্স মার্কেটের কার্যনির্বাহী সদস্য করিম রাসেল প্রশাসনের কাছে আসামীদের দ্রুত গ্রেফতার, বিচার ও টাকা আদায়ের আবেদন করেন।
এই বিষয়ে সুধারাম থানার সাথে যোগাযোগ করলে জানা যায়, অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।