উপজেলা প্রতিনিধি, চাটখিল :
চাটখিল উপজেলার পূর্ব পরকোট গ্রামের মাস্টার বাড়ি ওরফে রিফুজি বাড়ির আসমত আলীর মেয়ে তামান্না আক্তার সাথী ও তার বোন আসমা আক্তারসহ পুরো পরিবারের বিরুদ্ধে মিথ্যা ধর্ষণের মামলা দিয়ে একাধিক যুবককে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, পূর্বপরকোট গ্রামের রিফুুজি বাড়ির দিনমজুর আসমত আলীর মেয়ে তামান্না আক্তার সাথীর বড় ভাইয়ের সাথে ১নং সাহাপুর ইউনিয়নের সাহাপুর গ্রামের নাজমুল আলম নাঈমের সাথে বন্ধুত্ব ছিল। বন্ধুত্বের সুবাদে নাইম সরল মনে তাদের বাড়িতে আসা-যাওয়া করতো; এতে তাদের সাথে পারিবারিকভাবে সুসম্পকর্ তৈরি হয়। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে বিগত একবছর পূর্বে সাথীর পরিবার প্রতারণার ফাঁদে ফেলে নাইম ও সাথীর বিয়ে হয়েছে বলে ভূয়া কাগজপত্র তৈরি করে।
নাঈম তা অস্বীকার করায় তারা আদালতে যৌতুকের মিথ্যা মামলা দায়ের করে হয়রানি করতে থাকে। উক্ত মিথ্যা মামলা থেকে রেহায় পেতে নাইমের অপর বন্ধু চাটখিল মেডিনোভা হাসপাতালের ম্যানেজার সিরাজুল ইসলাম বাবু তাকে সহযোগিতা করে। এতে সাথীর পরিবার ক্ষিপ্ত হয়ে তার বড় বোন আসমা আক্তারসহ ধর্ষণের মিথ্যা নাটক তৈরি করে। পরিকল্পনা অনুযায়ী সাথীকে দিয়ে নাঈমের তিন বন্ধুকে ফাঁসিয়ে বিগত ১৭ অক্টোবর শুক্রবার ভোরে পরকোট ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ের একটি রুমে ধর্ষণ করেছে বলে সে নাটক মঞ্চস্থ করে। উক্ত মিথ্যা ধর্ষণের ঘটনায় নাইমের বন্ধু সিরাজুল ইসলাম বাবু, নাঈমের ছোট ভাই নাদিম ও দিলিপ চন্দ্র সিংহসহ অজ্ঞাতনামা ২/৩ জনকে আসামি করে সাথীর বোন আসমা আক্তার ১৭ নভেম্বর ২০২৫ বিজ্ঞ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-০১, নোয়াখালীতে আদালতে মিথ্যা মামলা দায়ের করে।
এছাড়া ধর্ষণের মিথ্যা ঘটনা সম্পর্কে চাটখিলের স্বনামধন্য বেসরকারি চিকিৎসালয় চাটখিল মেডিনোভা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জড়িয়ে ঘৃন্য মিথ্যা সংবাদ প্রচার করে। যা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, ১৭ অক্টোবর পরকোট ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ে ধর্ষনের কোন ঘটনা তারা শুনে নি। খোদ বাড়ির লোকই বলেন, এরকম কোন ঘটনা ঘটলে তারা জানতে পারতেন।
পরকোট ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য ও দশঘরিয়া বাজারের ব্যবসায়ী শহীদ উল্যাহ জানান, স্কুলে এমন কোন ঘটনা ঘটার সুযোগ নেই। কারণ ২ জন নাইটগার্ড সার্বক্ষনিক পাহারায় আছে। স্কুল ছুটির পর তালা বন্ধ করে দেয়া হয়। তাছাড়া আমি বাজারের একজন ব্যবসায়ী হিসেবে এমন কোন ঘটনা ঘটলেও তা জানতে পারতাম।
পরকোট ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বাকের হোসেন জানান, স্কুলে ধর্ষণের মতো কোন ঘটনাই ঘটে নি। স্কুলের যে রুমে ধর্ষণের কথা বলা হয়েছে সে রুমে যাওয়ার পূর্বে ৪ টি তালা রয়েছে। তাছাড়া স্কুলে নিয়মিত ২ জন নাইট গার্ড ও ২ জন সিকিউরিটিগার্ড রয়েছে। মিথ্যা ঘটনা রটিয়ে একটি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুন্ন করা ছাড়া আর কিছু নয়।
বিদ্যালয়ের সভাপতি আলমগীর হোসেন জানান, স্কুলের নামে মিথ্যা ঘটনা ছড়িয়ে পুরো স্কুলের সুনাম নষ্ট করছে। বন্ধের দিনে স্কুলের মেইনগেইটসহ সকল গেইটে তালা দেয়া থাকে তাই বাহিরের কেউ ঢুকার কোন সুযোগ নেই।
ভুক্তভোগী সিরাজুল ইসলাম বাবু জানায়, তার বিরুদ্ধে যে ধর্ষনের মামলা দেওয়া হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং বানোয়াট। ঘটনার দিন সেই চাটখিল মেডিনোভা হসপিটালে কর্মরত ছিল। তামান্না আক্তার সাথীর বড় বোন আসমা আক্তার ও তার সাথে চাকুরী করতো। বিভিন্ন সময় এই আসমা আক্তার তাকে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে তাকে বিরক্ত করতো। সাড়া না দেয়ায় আসমা ক্ষিপ্ত হয়ে বাবুকে প্রধান আসামি করে মিথ্যা মামলা দায়ের করে হয়রানি করছে।