উপজেলা প্রতিনিধি, চাটখিল :
জেলার সোনামুড়ির চাষির হাট ইউনিয়নের রথী গ্রামের জনসাধারণের চলাচলের গ্রামীন সড়কের রাস্তা দখল করে টয়লেটসহ অবৈধ স্থাপনা গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে।
অন্য দিকে জনসাধারণের চলাচলের রাস্তাটি রথী গোবিন্দপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠের দক্ষিণ পাশ দিয়ে করা হয়েছে। এতে করে বিদ্যালয়ের মাঠ সংকীর্ণ হয়ে গেছে। শিক্ষার্থীরা খেলাধুলা করতে সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। অনদিকে টয়লেটের দুর্গন্ধে বিদ্যালয়সহ এলাকার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে এবং শিক্ষার্থীরা স্বাস্থ্য ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। এ অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের জন্য জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে ৯ মাস আগে নির্দেশ দেওয়া হলে বিভিন্ন স্থাপনা উচ্ছেদ করে, কিন্তু রহস্য জনক কারণে টয়লেটটি উচ্ছেদ করা হয়নি। এতে করে এ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিবেশ মারাত্মক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে।
জানা গেছে, চাষির হাট ইউনিয়ন পরিষদে জনগণের যাওয়া আসার একমাত্র রাস্তা এ রথী সড়ক। এ সড়ক দিয়ে প্রতিনিয়ত শত শত লোকজন এবং হালকা ও ভারী যানবাহন চলাচল করে। রাস্তার সাথেই রথী গোবিন্দপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ২০২৪ সালে রাস্তাটি সম্পূর্ণ দখল করে টয়লেটসহ অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করে স্থানীয় একশ্রেণি প্রভাবশালী ব্যক্তি। রাস্তা দখল করে টয়লেটসহ স্থাপনা নির্মাণ করায় এ রাস্তাটি জনসাধারণ এখন রথী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠ চলাচলের রাস্তা হিসাবে ব্যবহার করছে। এতে বিদ্যালয়ের মাঠ সংকোচিত হয়ে গেছে। শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা করতে সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে এবং বিদ্যালয়ের পরিবেশ মারাত্মক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। ২০২৪ সালে রাস্তা বন্ধ করে টয়লেট নির্মাণ আরম্ব করলে বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষিকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকতা, জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশন বরাবরে লিখিত ভাবে অভিযোগ করেন।
বিভাগীয় কমিশন বিষয়টি আমলে নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সোনাইমুড়ি উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) দ্বীন আন জান্নাত টয়লেটসহ অবৈধ স্থাপনা গুলো রাস্তার মধ্যে পড়ায় ৩ ফেব্রুয়ারীর মধ্যে এগুলো অপসারণের জন্য নোটিশ পাঠায়। অবৈধ দখলদাররা এ নোটিশে কর্ণপাত না করায় ৮ ফেব্রুয়ারী তিনি এ সমস্ত অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের অভিযান চালান এ সময় দখলকারীরা ১৫ দিনের মধ্যে নিজ দায়িত্বে এ গুলো অপসারণ করে নিবে বলে মুছলেখা প্রদান করলেও দীর্ঘ ৯ মাস অতিবাহিত হলেও এটি অপসারণ করা হয় নাই।
এতে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বাধ্য হয়ে ২৪ নভেম্বর নোয়াখালী জেলা প্রশাসক বরাবরে অভিযোগ করেছেন। স্থানীয় অধিবাসী মোঃ হোসেন জানান, এটা জনসাধারণের জন্য নির্ধারিত পথ, নির্ধারিত পথের জায়গায় দখল করার উদ্দেশ্যে মূলক এ টয়লেটটি নির্মাণ করা হয়েছে। বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি সাব্বির হোসেন জানান, টয়লেট নিমার্ণ করার ফলে সড়কটি বিদ্যালয় মাঠের উপর চলে এসেছে। বিদ্যালয় পরিবেশ রক্ষার্থে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করা দরকার। রাস্তা দখল হওয়ার পরে বিদ্যালয় মাঠ এখন রাস্তা হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা নাজমুন আরা জানান, উক্ত টয়লেটটি নির্মাণ করার আগে তার সাথে আলোচনা করা হয়েছে। টয়লেটটি বিদ্যালয়ের মাঠ এবং রাস্তা থেকে দূরে থাকার কথা ছিল।
কিন্তু বিদ্যালয়ের জায়গা এবং পাশের মাঠে অন্তত ২ একর জায়গা দখল করার উদ্দেশ্যে প্রভাবশালী মহলটি পরিকল্পিত ভাবে এ কাজটি করেছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাসরিন আক্তার জানান, উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনায় নানা ধরনের সীমাবদ্ধতা রয়েছে, এটা জানিয়ে তিনি দায় এড়ানোর চেষ্টা করেছেন।