নুশরাত রুমু, মাইজদী :
জেলায় শনিবার (৩ জানুয়ারি) সকালে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ১১ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এটি চলতি শীত মৌসুমে জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রার রেকর্ড। তীব্র শীতের সঙ্গে ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়েছে। যে দিকেই চোখ যায় ঘন কুয়াশা ছাড়া কিছুই চোখে পড়ে না। দৃষ্টিসীমা নেমে এসেছে ৫০ থেকে ১০০ মিটারের মধ্যে। শনিবার সকাল আটটায় শহরের প্রধান সড়ক হয়ে মাইজদীর নতুন বাসস্ট্যান্ড, মাইজদী বাজার, টাউন হল মোড়, পৌর বাজার, বিশ্বনাথ ও লক্ষ্মীনারায়ণপুর এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ঘন কুয়াশা ও শীতের কারণে মানুষজন তেমন ঘর থেকে বের হননি। যাঁরা বের হয়েছেন, তাঁরা শীতের কাপড়ে নাক-মুখ বেঁধে ছুটে চলছেন গন্তব্যে। প্রধান সড়কে দূরপাল্লার যানবাহনগুলো হেডলাইট জ্বালিয়ে ধীরগতিতে চলাচল করছে। ৫০ থেকে ১০০ মিটার দূরের গাড়িও ঠিকভাবে চোখে পড়ছে না।
শীতের কারণে কষ্ট বেড়েছে রিকশাচালক, ভ্যানচালক, দিনমজুর, নির্মাণশ্রমিকসহ নিম্ন আয়ের মানুষদের। জেলা আবহাওয়া পর্যবেক্ষণকেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও উচ্চ পর্যবেক্ষক মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, নোয়াখালীতে আজ সকাল ছয়টায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১১ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এটিই জেলায় এ বছরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী আগামী কয়েক দিন তাপমাত্রা একই রকম থাকতে পারে।
জেলার ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. মাসুদুর রহমান বলেন, প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে আট হাজার কম্বল বরাদ্দ পাওয়া গেছে। এ ছাড়া ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকেও প্রায় ৪০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ওই টাকা দিয়ে কম্বল কিনে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বিতরণ শুরু হয়েছে। এদিকে সোনাপুর রেলস্টেশনে ঘুরে দেখা গেছে সেখানে অতিমাত্রার শীতে জবুথবু হয়ে আছে ৫০ জনেরও বেশি মানুষ। এদের অনেকের ঘরবাড়ি নেই, নেই ভালো কোনো বিছানা, গরম পোশাক। দিনভর বিভিন্ন স্থানে ভিক্ষা করে রাতে এসে স্টেশনেই ঘুমায়। কেউ কেউ দু একটি কম্বল পেয়েছেন বলে নোয়াখালীর কথাকে জানালেন। তবে সরকারিভাবে যখন কম্বল বিতরণ করতে এসেছিল তাই অনেকেই উপস্থিত ছিল না বলে ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা যায়।