শীত পড়েছে দেশে। ভোরের কুয়াশায় পথঘাট ঢেকে যায় সাদা পর্দায়। দূরের গাছপালা, পুকুরের ঘাট—সবই যেন ধোঁয়াশার ভেতর লুকিয়ে থাকে। ঠিক সেই সময়েই প্রতিদিন হাঁটতে বের হন ঠাকুর বাড়ির অজিত ঠাকুরের বোন গিরিবালা।গিরিবালা পরেন সাদা কামিজ, সাদা সালোয়ার আর মাথায় হালকা ওড়না। তার পোশাকের মতোই তার মনটাও শান্ত আর পরিষ্কার। গ্রামের পাকা রাস্তা ধরে হাঁটার সময় তাকে দূর থেকে দেখলে মনে হয়, কুয়াশার ভেতর দিয়ে হেঁটে আসছে কোনো সাদা আলো।
চত্রার বিলের ধারে পৌঁছালে সে একটু থামে। তখন সূর্য ধীরে ধীরে উঠতে থাকে। কুয়াশা সরে গিয়ে দেখা দেয় সরষে ক্ষেতের হলুদ রং। সবুজ আর হলুদ মিলেমিশে এক অপূর্ব দৃশ্য তৈরি করে। সেই দৃশ্য দেখে গিরিবালার মুখে হালকা হাসি ফুটে ওঠে। প্রকৃতির এই পরিবর্তন তার খুব প্রিয়। বিলের ধারে তখন সাদা বকগুলো উড়ে বেড়ায়। তারা শামুক খোঁজে, আবার কখনো ডানা মেলে উড়ে যায় আকাশে। গিরিবালা দাঁড়িয়ে সেই উড়ান দেখে। তার মনে হয়, জীবনও বকের মতো—কখনো থামে, আবার নতুন করে উড়ে চলে। গ্রামের ছোট ছেলেমেয়েরা তাকে দেখে সম্মান করে। কেউ কেউ দৌড়ে এসে বলে, দিদি, আজও হাঁটতে এসেছ? গিরিবালা হাসিমুখে মাথা নাড়ে। সে জানে, প্রতিদিনের এই হাঁটা শুধু শরীরের জন্য নয়, মনের জন্যও দরকার। হাঁটা শেষে বাড়ি ফেরার সময় কুয়াশা পুরোপুরি কেটে যায়। চারদিক পরিষ্কার হয়ে ওঠে। গিরিবালার মনে হয়, শীতের সকাল যেমন ধীরে ধীরে আলোকিত হয়, মানুষের জীবনও তেমনই ধৈর্য আর আশা নিয়ে এগিয়ে গেলে সুন্দর হয়ে ওঠে।