বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য আন্তর্জাতিক ভিসা পাওয়া দিন দিন কঠিন হয়ে উঠছে। একসময় যে দেশগুলোতে সহজে পড়াশোনা, চিকিৎসা কিংবা কর্মসংস্থানের সুযোগ পাওয়া যেত, এখন সেখানে নানা শর্ত, দীর্ঘসূত্রিতা এবং প্রত্যাখ্যানের ঝুঁকি বেড়ে গেছে। এর ফলে তরুণদের উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন ভেঙে যাচ্ছে, রোগীরা চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে পারছেন না, আর শ্রমবাজারে প্রবেশের পথ সংকুচিত হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে নতুন নিয়মের কারণে কর্মসংস্থানের সুযোগ কমছে, যা যা রেমিট্যান্স প্রবাহে চাপ সৃষ্টি করছে। একইভাবে ভারত, থাইল্যান্ড বা সিঙ্গাপুরে চিকিৎসা ভিসা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ায় অনেক পরিবার দুশ্চিন্তায় পড়ছে। পর্যটনেও দেখা যাচ্ছে একই সমস্যা সমস্যা-বাংলাদেশি নাগরিকরা আন্তর্জাতিক ভ্রমণে বাধার মুখে পড়ছেন। এসব সীমাবদ্ধতা শুধু ব্যক্তিগত জীবনে নয়, জাতীয় অর্থনীতিতেও বড় ফেলছে।
বিদেশে কর্মসংস্থান কমে গেলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে চাপ পড়বে, শিক্ষা ও চিকিৎসায় সীমাবদ্ধতা মানবসম্পদ উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করবে, আর সাংস্কৃতিক বিনিময় দুর্বল হয়ে পড়বে । শিক্ষার্থী ভিসার ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, অনেক দেশ এখন অতিরিক্ত নথি চাইছে, যেমন আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ, দীর্ঘ মেয়াদি ব্যাংক স্টেটমেন্ট বা স্পন্সরের নিশ্চয়তা। ফলে সাধারণ পরিবারের সন্তানরা বিদেশে পড়াশোনার সুযোগ হারাচ্ছেন।
চিকিৎসা ভিসার ক্ষেত্রেও একই সমস্যা-জরুরি রোগীরা সময়মতো ভিসা না পেয়ে ভিসা না পেয়ে চিকিৎসা বিলম্বিত করছেন, যা অনেক সময় জীবন-মৃত্যুর প্রশ্ন হয়ে দাঁড়াচ্ছে। কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে নতুন নিয়মে দক্ষতা যাচাই, ভাষা পরীক্ষা এবং অতিরিক্ত ফি আরোপ করা হচ্ছে। এতে অনেক শ্রমিক বিদেশে যেতে পারছেন না, পারছেন না, ফলে । রেমিট্যান্স আসছে। অর্থনৈতিক দিক থেকে বিষয়টি আরও আরও গুরুতর। বাংলাদেশি নাগরিকরা মাত্র কয়েক ডজন দেশে ভিসা-মুক্ত না-মুক্ত বা ভিসা-অন-অ্যারাইভাল সুবিধা পান, যা আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে খুবই সীমিত। এর ফলে । এর ফলে বৈদেশিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও সাংস্কৃতিক বিনিময় দুর্বল হয়ে পড়ছে।
হয়ে পড়ছে। বিশ্বায়নের যুগে যখন । যখন অন্যান্য দেশ নিজেদের নাগরিকদের জন্য সুযোগ বাড়াচ্ছে, তখন বাংলাদেশিদের জন্য ভিসা কঠোর হওয়া নিছক প্রশাসনিক জটিলতা বড় ধাক্কা নয়; এটি জাতীয় উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক সংযোগকে সংযোগকে দুর্বল করছে ।
এই সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশ সরকারকে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা বাড়াতে হবে। দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার চেষ্টা জরুরি। একইসঙ্গে দেশের অভ্যন্তরে শিক্ষা, চিকিৎসা ও কর্মসংস্থানের মানোন্নয়ন করলে বিদেশ নির্ভরতা কমবে। পাসপোর্টের আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে নিরাপত্তা তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবস্থায় উন্নয়ন অপরিহার্য। পাশাপাশি নাগরিকদের ভিসা আবেদন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও দক্ষতা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে আন্তর্জাতিক আস্থা তৈরি হয়।