উপজেলা প্রতিনিধি, সদর : নোয়াখালী সরকারি কলেজে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে মূল গেইট ও সীমানা প্রাচীর নির্মাণের কাজে ব্যাপক অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, পুরানো সীমানা প্রাচীর এর উপরই নতুন সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করা হচ্ছে। যা নির্মাণের স্থায়িত্ব ও নিরাপত্তাকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। তবে এর চেয়েও বড় উদ্বেগের বিষয় হলো ঠিকাদার নির্বাচন প্রক্রিয়া।
১,৩৪,৪৭৬৭২ টাকা মূল্যের নির্মাণ কাজের দায়িত্ব পেয়েছে ‘সৈকত এন্টারপ্রাইজ (কুষ্টিয়া)’ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটি পলাতক শীর্ষ চরমপন্থী নেতা ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সন্ত্রাসী চিহ্নিত আমিনুল ইসলাম মুকুলের স্ত্রীর নামে নিবন্ধিত বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে। আমিনুল ইসলাম মুকুল বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসর হিসেবেও পরিচিত এবং বর্তমানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের খাতায় পলাতক আসামি হিসেবে তালিকাভুক্ত।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার নাজমুল ইসলাম এর সহযোগিতায় পুরানো এবং দুর্বল ভিত্তির উপরেই নতুন সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করা হচ্ছে। নির্মাণ সামগ্রীর গুণগত মান নিয়েও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন কলেজের শিক্ষক ও কর্মচারীরা। এছাড়া, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী ইনামুল হাসানের তত্ত্বাবধানেই এই অনিয়ম চলছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ আছে এই লাইসেন্স ম্যানেজ করে কাজ পেতে সহযোগিতা করেন ইনামুল হাসান।
ইনামুল হাসান এর সহযোগিতায় সৈকত এন্টারপ্রাইজ এর লাইসেন্স ভাড়া দেয়া হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে।
কলেজের একাধিক শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পলাতক সন্ত্রাসীর সঙ্গে জড়িত প্রতিষ্ঠানকে ঠিকাদার নির্বাচন করা সম্পূর্ণভাবে অযৌক্তিক ও দুর্নীতিগ্রস্ত সিদ্ধান্ত। এছাড়া নির্মাণ কাজের মানও খুব খারাপ।"
এ বিষয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর, জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী এর মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কোন মন্তব্য দেননি। নোয়াখালী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. জাকির হোসেন বিষয়টি জানার কথা বলেছেন এবং তিনি দ্রুত তদন্তের আশ্বাস দিয়েছেন।
কলেজ ক্যাম্পাসে এই ঘটনায় শিক্ষক সমিতি ও ছাত্র সংগঠনগুলোর মধ্যে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। তারা দাবি করেছেন, অবিলম্বে উক্ত বিতর্কিত ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে বাদ দিয়ে নতুন করে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় ঠিকাদার নির্বাচন করতে হবে এবং নির্মাণাধীন সীমানা প্রাচীরের ভিত্তি ও গুণগত মান স্বাধীন প্রকৌশলীদের কমিটি দ্বারা জরিপ করতে হবে। তারা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন ।
এ ঘটনায় জেলা প্রশাসন ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন কলেজ পরিবারের সদস্যরা। স্বচ্ছ তদন্ত ও দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হতে পারে বলে ছাত্রছাত্রীরা আশঙ্কা করছেন।