নিজস্ব প্রতিবেদক :
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও নোয়াখালী-৪ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী মো. শাহজাহান বলেছেন, বিএনপিকে খাটো করার জন্য নানা অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। আগস্টের বিপ্লবের মধ্য দিয়ে দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরে এসেছে, তবে সেই সুযোগে কিছু ব্যক্তি লুটপাটে জড়িয়ে পড়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, “কিছু লোক সরকারি অফিস-আদালতে মব সৃষ্টি করে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জিম্মি করে অবৈধভাবে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। কথা বেশি বলবেন না, সময় যখন আসবে সেই টাকার হিসাব কড়ায়-গণ্ডায় বুঝে নেওয়া হবে।”
শুক্রবার বিকেলে নোয়াখালী পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের এম. এ. রশিদ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মো. শাহজাহান আরও বলেন, “যারা বিএনপির বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্রে লিপ্ত, জনগণ তাদের পাশে নেই। তাই তারা দিশেহারা হয়ে অপপ্রচারে লিপ্ত হচ্ছে।” তিনি দাবি করেন, নোয়াখালী দেশের অন্যতম শান্তিপূর্ণ শহর এর পেছনে বিএনপি নেতাকর্মীদের ধৈর্যশীল ও শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
তিনি বলেন, “বিএনপি কখনো সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজিকে প্রশ্রয় দেয়নি। দলের নেতাকর্মীরা কারও বাড়িঘরে হামলা বা লুটতরাজে জড়িত নয়। অথচ অনেকেই তলে তলে আপোষ করে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়াচ্ছে।” প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলের প্রতি তিনি আহ্বান জানান, “উত্তেজনা সৃষ্টি না করে শালীনতা বজায় রেখে শান্তিপূর্ণ নির্বাচনে সহযোগিতা করুন। নোয়াখালীর মানুষ দুর্বল নয়।”
নির্বাচনী জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সম্পাদক মো. নাছির উদ্দিন বলেন, “একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী ও রাজনৈতিক দল আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে। তারা বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে ইচ্ছাকৃতভাবে গন্ডগোল সৃষ্টি করে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি করতে চায়, যার নজির শেরপুরে দেখা গেছে।”
তিনি আরও বলেন, “বিএনপি একটি শান্তিপূর্ণ দল এবং নেতাকর্মীরাও শান্তিপূর্ণ। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দেশের জনগণ শান্তিপূর্ণভাবেই ধানের শীষে ভোট দিয়ে তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী করবেন।”
নোয়াখালী পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি সিরাজ উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জনসভায় আরও বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মাহবুব আলমগীর আলো, সদস্য সচিব হারুনুর রশিদ আজাদ, যুগ্ম আহ্বায়ক এবিএম জাকারিয়া, জাসাস নোয়াখালীর আহ্বায়ক লিয়াকত আলী খান প্রমুখ।