ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে তড়িঘড়ি করে ‘সম্প্রচার কমিশন অধ্যাদেশ-২০২৬’ প্রণয়নের উদ্যোগকে গভীর উদ্বেগ হিসেবে দেখেছে ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট সেন্টার (বিজেসি)।
বিজেসির চেয়ারম্যান রেজোয়ানুল হক ও সদস্য সচিব ইলিয়াস হোসেন স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, মাত্র চারদিনের মধ্যে জনমত যাচাইয়ের সুযোগ দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আইন পাস করা উপযুক্ত নয়। সংগঠনটি প্রস্তাব দিয়েছে, আইনটি প্রণয়নের দায়িত্ব পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের ওপর ছেড়ে দেওয়া উচিত।
খসড়া অধ্যাদেশে সম্প্রচার প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে জরিমানা করার বিধান থাকায় অপপ্রয়োগের শঙ্কা রয়েছে বলে বিজেসি মনে করছে। তারা জানিয়েছে, অধ্যাদেশের কিছু ধারা ও শব্দ যেমন ‘জনস্বার্থবিরোধী’, ‘বিদ্বেষমূলক’ এবং ‘রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি’ অস্পষ্ট এবং এ ধরনের শব্দ ব্যবহার করে যেকোনো সমালোচনামূলক সংবাদ বা বিষয়কে অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
বিজেসি আরও বলেছে, বর্তমান ডিজিটাল যুগে সম্প্রচার খাত শুধু রেডিও-টেলিভিশনে সীমাবদ্ধ নয়; এটি আইসিটি, ইন্টারনেট সম্প্রচার ও সাইবার নিরাপত্তার সঙ্গে অবিচ্ছেদ্যভাবে যুক্ত। তবে খসড়া অধ্যাদেশে এসব আধুনিক বিষয় এবং সাংবাদিকদের বেতন-ভাতার নিরাপত্তার কোনো উল্লেখ নেই।
সংগঠনটি দাবি করেছে, নির্বাচনের মাত্র দুই সপ্তাহ বাকি থাকায় সব অংশীজনের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা ছাড়া এই অধ্যাদেশ জারি করা উচিত নয়। সাংবাদিক ও গণমাধ্যমের স্বার্থ রক্ষায় কার্যকর একটি কমিশন গঠনের জন্য তারা সরকারের প্রতি আরও সময় নিয়ে কাজ করার পরামর্শ দিয়েছে।