উপজেলা প্রতিনিধি, সদর :
হাতিয়ায় গৃহবধূকে ধর্ষণ ও নির্যাতনের অভিযোগে মামলা করা হয়েছে। ঘটনার ৫ দিন পর বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৪টার দিকে জেলা জজ আদালতের নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনালে এ মামলা করেন ওই নারী। মামলায় ৬ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাত ৫০-১০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
চিকিৎসা শেষে গতকাল দুপুরেই ওই গৃহবধূকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতাল থেকে রিলিজ দেওয়া হয়।
ওই নারীর আইনজীবী নোমান সিদ্দিকি এসব তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, 'আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়েছেন।'
তিনি আরও বলেন, 'শুনানি শেষে আদালত অভিযোগটি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে হাতিয়া থানার ওসি মো. সাইফুল ইসলামকে নির্দেশ দিয়েছেন। একইসঙ্গে তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দেন।'
হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম মামলা নথিভুক্ত করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এদিকে, জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন-অর্থ) আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন ওই নারীর নিরাপত্তার বিষয়টিও নিশ্চিত করেছেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, পছন্দের প্রতীকে ভোট দেওয়ায় ওই নারীকে ধর্ষণ ও নির্যাতন করা হয়েছে।
এতে আরও বলা হয়, প্রধান অভিযুক্ত ধানসিঁড়ি আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা আবদুর রহমানের (৩২) নেতৃত্বে এমরান হোসেন ওরফে কালা এমরান (৩৫) ও বেলাল মাঝি (৩৮) গত ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের পরদিন শুক্রবার রাত ১১টার দিকে ওই নারীর ঘরে প্রবেশ করে। এরপর তারা তার স্বামীর দুই হাত বেঁধে ও মুখে টেপ লাগিয়ে একটি কক্ষে আটকে রাখে। পরে আবদুর রহমান ধর্ষণ করে। ওই সময় এমরান হোসেন ও বেলাল মাঝি পাহারা দেয়। বাকি আসামিরা বাইরে 'উল্লাস করে'।
ওই গৃহবধূ বলেন, 'আমি আমার ঘরে যেতে সাহস পাচ্ছি না। দুপুরে হাসপাতাল থেকে রিলিজ নিয়ে আদালতে মামলা দায়ের করি। বর্তমানে আমি আমার এক আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছি। আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতেছি।'
আসামিরা বর্তমানে পলাতক বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এর আগে তিনি বলেছিলেন, 'ঘটনার রাতে কড়া নাড়ার শব্দ পেয়ে দরজা খুলে রহমান, এমরান ও বেলালকে দেখতে পাই। তারা ঘরে ঢুকে পড়ে এবং এনসিপি প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার জন্য আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে।' হুমকি দিয়ে তারা বলে, 'এনসিপিকে ভোট দিয়েছ। আজ এর ফল পাবা।'
পরদিন সকালে তারা ফিরে এসে ওই নারী ও তার স্বামীকে ঘর থেকে বের করে লাঠি দিয়ে পেটায়, ঘুষি ও লাথি মারে বলে জানান তিনি। পরে বিকেলে তাকে জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় রোববার পুলিশ হাতিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি দায়ের করে এবং ওই নারীর ফরেনসিক পরীক্ষার নির্দেশ দেয়।