উপজেলা প্রতিনিধি, সদর :
জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৫–এ সদর উপজেলায় মোট ৭৭ জন শিক্ষার্থী ট্যালেন্টপুল এবং ১৬৪ জন শিক্ষার্থী সাধারণ বৃত্তি অর্জন করেছে। প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এ বৃত্তিতে নির্বাচিত হয়ে শিক্ষাক্ষেত্রে ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
ফলাফলে সবচেয়ে বেশি সাফল্য অর্জন করেছে হরিনারায়ণপুর ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠানটি থেকে ট্যালেন্টপুল ও সাধারণ বৃত্তি মিলিয়ে মোট ৫৯ জন শিক্ষার্থী নির্বাচিত হওয়ায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে আনন্দ ও উৎসাহের সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, নিয়মিত পাঠদান, শিক্ষার্থীদের নিবিড় তত্ত্বাবধান এবং অভিভাবকদের সহযোগিতার ফলেই এ সাফল্য সম্ভব হয়েছে।
ট্যালেন্টপুল বৃত্তিতে সরকারি বালিকা বিদ্যালয় থেকে ২০ জন, নোয়াখালী জিলা স্কুল থেকে ২০ জন, হরিনারায়ণপুর ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৭ জন, পুলিশ কেজি স্কুল থেকে ৭ জন, বালিকা বিদ্যানিকেতন থেকে ৫ জন, আলফারুক একাডেমি থেকে ২ জন, মোশাররফ গ্রামার স্কুল থেকে ২ জন, আবদুর রশিদ স্কুল থেকে ২ জন, জেলা প্রশাসন স্কুল থেকে ১ জন এবং অরুণ চন্দ্র স্কুল থেকে ১ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি অর্জন করেছে।
সাধারণ বৃত্তিতে সরকারি বালিকা বিদ্যালয় থেকে ৩১ জন, নোয়াখালী জিলা স্কুল থেকে ৩২ জন, হরিনারায়ণপুর ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৪২ জন, পুলিশ কেজি স্কুল থেকে ৫ জন, বালিকা বিদ্যানিকেতন থেকে ১৪ জন, আলফারুক একাডেমি থেকে ১৭ জন, আবদুর রশিদ স্কুল থেকে ২ জন, জেলা প্রশাসন স্কুল থেকে ২ জন, অরুণ চন্দ্র স্কুল থেকে ১ জন, পৌর কল্যাণ স্কুল থেকে ১ জন, কালিতারা মুসলিম গার্লস স্কুল থেকে ২ জন, আহমদিয়া আদর্শ হাই স্কুল থেকে ৩ জন, আল মদিনা একাডেমি থেকে ১ জন, রামবল্লভপুর হাই স্কুল থেকে ২ জন, বাধের হাট স্কুল থেকে ২ জন, নোয়ান্নই স্কুল থেকে ২ জন, ব্রাদার আন্দ্রে স্কুল থেকে ৩ জন, চরকাউনিয়া আনোয়ার হোসেন হাই স্কুল থেকে ১ জন এবং হাজী আমিন উল্লা বাজার হাই স্কুল থেকে ১ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি লাভ করেছে।
এবারের ফলাফলে শহরের পাশাপাশি গ্রামীণ এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর সাফল্য বিশেষভাবে দৃষ্টি কেড়েছে। বিশেষ করে হরিনারায়ণপুর ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন গ্রামের স্কুল থেকে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিক্ষার্থী বৃত্তি অর্জন করেছে। সীমিত সুযোগ–সুবিধা, শিক্ষক সংকট ও আর্থিক প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও গ্রামীণ শিক্ষার্থীরা যে মেধা ও অধ্যবসায়ের পরিচয় দিয়েছে, তা প্রশংসার দাবিদার বলে মনে করছেন স্থানীয় অভিভাবক ও শিক্ষানুরাগীরা।
শিক্ষাবিদরা মনে করছেন, গ্রামীণ স্কুলগুলোর এ সাফল্য নতুন প্রজন্মকে শিক্ষার প্রতি আরও উৎসাহিত করবে এবং ভবিষ্যতে ভালো ফলাফলের পথ সুগম করবে।