নিউজ ডেস্ক :
সদর উপজেলার ২নং দাদপুর ইউনিয়নের বারাহিপুর গ্রামে এক শিক্ষকের ভোগদখলীয় বসতভিটা জোরপূর্বক দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বাধা দেওয়ায় ওই শিক্ষকের পরিবারের উপর হামলা, থানায় মিথ্যা অভিযোগ দায়ের এবং বিভিন্ন ধরনের হুমকি-ধমকি দেওয়ার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। এতে পুরো পরিবার বর্তমানে আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
ভুক্তভোগী মাওলানা শফিক উল্যাহ জানান, সদর উপজেলার ২নং দাদপুর ইউনিয়নের ৫১ নম্বর বারাইপুর মৌজার ২৫৯৮ নম্বর দাগের মধ্যে তিনি দলিল অনুযায়ী জমি ক্রয় করে প্রায় ৩০ বছর ধরে বসতভিটায় বসবাস করে আসছেন। অন্যদিকে অভিযুক্ত সেকান্দার মিয়ার বাবা নাদরের জামান একই বাড়ির মোহাম্মদ উল্যার ছেলে নুর ইসলাম থেকে ২ দশমিক ৬৬ শতাংশ জমি ক্রয় করে বাড়ির বাগানে দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখল করে আসছিলেন। বিক্রেতা নুর ইসলাম বাগানের জমি বিক্রি করে সেখানেই দখল বুঝিয়ে দেন।
তিনি অভিযোগ করেন, সম্প্রতি সেকান্দার মিয়া তাদের বসতভিটার সম্পত্তির দাবি করে বিরোধ সৃষ্টি করেন। এর জের ধরে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি সেকান্দার মিয়া, তার ছেলে রাকিব ও মনির, বোন রাবেয়া আক্তারসহ কয়েকজন সন্ত্রাসী দলবল নিয়ে বসতভিটা দখলের অপচেষ্টা চালায় এবং দেশীয় অস্ত্রসহ হামলা চালিয়ে তাদের আহত করে।
এ ঘটনায় উল্টো সেকান্দার মিয়া বাদী হয়ে সুধারাম মডেল থানায় তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করেছেন বলেও দাবি করেন শফিক উল্যাহ। পাশাপাশি বিভিন্ন পত্রিকায় মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ করে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। প্রকাশিত সংবাদে স্থানীয় ইউপি সদস্য হারুনুর রশিদ সোহাগের বরাত দেওয়া হলেও এ বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না বলে দাবি করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, সুধারাম মডেল থানা পুলিশ উভয় পক্ষকে সমঝোতার জন্য থানায় বৈঠকে ডাকলেও তারা উপস্থিত থাকলেও বাদী সেকান্দার মিয়া উপস্থিত হয়ে পরে সময় নিয়ে চলে যান। এতে প্রকৃত ঘটনা আড়াল করতে তিনি কালক্ষেপণ করছেন বলে অভিযোগ করা হয়।
এছাড়া সেকান্দার মিয়া স্থানীয় ইউপি সদস্য হারুনুর রশিদ সোহাগের মাধ্যমে তাদের কাছে ২ লাখ টাকা দাবি করেছেন বলেও অভিযোগ করেন শফিক উল্যাহ। টাকা দিলে বিরোধ মীমাংসা করে দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে ইউপি সদস্য হারুনুর রশিদ সোহাগ বলেন, পত্রিকায় তার বরাত দিয়ে সংবাদ প্রকাশ করা হলেও এ বিষয়ে তিনি আগে কিছু জানতেন না। তবে সমঝোতার জন্য তার মাধ্যমে সেকান্দার মিয়া বিরোধীয় সম্পত্তি ছেড়ে দেওয়া অথবা ২ লাখ টাকা দেওয়ার প্রস্তাবের কথা বলেছিলেন।
বর্তমানে সেকান্দার মিয়ার ভয়ে ভুক্তভোগী পরিবার আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন বলে জানানো হয়েছে। তারা প্রশাসনের কাছে নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন।