উপজেলা প্রতিনিধি, কোম্পানীগঞ্জ :
কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় বসতবাড়ির শতবর্ষী চলাচলের রাস্তা পুনরুদ্ধারকে কেন্দ্র করে এক স্কুল শিক্ষিক ও তার ছেলেকে কুপিয়ে এবং পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করার অভিযোগ উঠেছে। গত ২৪ মার্চ সকালে উপজেলার চরফকিরা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের তবারক আলী মাস্টার বাড়িতে এই হামলার ঘটনা ঘটে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, চরফকিরা ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ফাতেমা খাতুনের পরিবারের সাথে চলাচলের রাস্তা নিয়ে প্রতিবেশী মো. শাহজাহান ও সেলিম উল্যাহ গংদের দীর্ঘদিনের বিরোধ চলছিল। গত ১৫ ফেব্রুয়ারি অভিযুক্তরা গায়ের জোরে ১০০ বছরের পুরনো ওই চলাচলের পথে মাটি ভরাট করে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ বারবার মাটি সরিয়ে নিতে বললেও অভিযুক্তরা তা অমান্য করে ত্রাস সৃষ্টি করে আসছিল।
এই বিষয়ে স্থানীয় মেম্বার জানান, "রাস্তাটি দীর্ঘদিনের পুরনো। মাটি ভরাট করে চলাচলে বাধা দেওয়ার বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও সেলিম উল্যারা তা শোনেনি।
অভিযোগ অনুযায়ী,গত ২৪ মার্চ সকালে ফাতেমা খাতুন ও তার ছেলে নাজমুন হোসেন রাস্তা থেকে মাটি সরিয়ে চলাচলের পথ পরিষ্কার করতে গেলে ঘটে বিপত্তি। এসময় শাহজাহান ও সেলিম উল্যার নেতৃত্বে একদল লোক লাঠি, লোহার রড ও দা নিয়ে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। ফাতেমা খাতুনকে চুলের মুঠি ধরে নির্মমভাবে পেটানোর এক পর্যায়ে লোহার রড দিয়ে তার মাথায় আঘাত করা হয়।
এসময় মাকে বাঁচাতে ছেলে নাজমুন এগিয়ে এলে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে দা দিয়ে কোপানো হয়। প্রাণ বাঁচাতে নাজমুন সরে দাঁড়ালে কোপটি তার কপালে লেগে গভীর ক্ষত তৈরি হয়। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
এই ঘটনায় ৮ জনের নাম উল্লেখ করে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
এই বিষয়ে অভিযুক্ত সেলিম উল্যাহ বলেন, এই জমি আমাদের কিনা সম্পত্তি, এই বিষয়ে একাধিক বার বৈঠক হলেও কোনো সমাধান হয়নি।
এ বিষয়ে কোম্পানীগঞ্জ থানার তদন্ত কর্মকর্তা বিমল কর্মকার জানান, রাস্তা নিয়ে বিরোধ ও মারধরের উভয় পক্ষের লিখিত অভিযোগ আমরা পেয়েছি। উভয় পক্ষকে আলোচনার মধ্যে দিয়ে সমাধানের চেষ্টা করতেছি।