নিজস্ব প্রতিবেদক :
লেখক, সাংবাদিক বাম রাজনৈতিক নেতা হাবীব ইমন আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। আজ রোববার (৫ এপ্রিল) সকালে ৯টার দিকে খিলগাঁওয়ের নিজ বাসভবনে অসুস্থ হয়ে পড়েন হাবীব ইমন। পরে খিলগাঁওয়ের খিদমাহ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
হাবীব ইমনের ভগ্নিপতি মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর তিনি শারীরিক অসুস্থতা বোধ করেন। পরিবারের সদস্যরা তাকে অচেতন অবস্থায় দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে গেলেও শেষ রক্ষা হয়নি। ধারণা করা হচ্ছে, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। ঢাকায় খিলগাঁও মসজিদুল আমান জমে মসজিদে বাদ জোহর প্রথম জানাজা শেষে গ্রামের বাড়ি নোয়াখালী মাইজদীতে তার মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয়েছে। মাইজদীতে দ্বিতীয় জানাজা শেষে মাস্টারপাড়া তাকে দাফন করা হবে।
হাবীব ইমনের বাবা খলিলুর রহমান, মা খালেদা পারভীন। ৩ ভাই ১ বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার বড়। তার নানা নোয়াখালীর সরকারী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের অধ্যক্ষ ছিলেন।
হাবীব ইমন জাতীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমে সাংবাদিকতার সাথে যুক্ত ছিলেন। আজ ৫ এপ্রিল রোববার দৈনিক নোয়াখালীর কথার উপ সম্পাদকীয় বিভাগে ‘‘বিভাগ দাবির সঙ্গে একমত, তবে, সামাজিক সুনীতি আর ইতিহাস-ঐতিহ্য সংরক্ষণ বাদে?’’ লেখা ছাপা হয়েছিলো। সাংবাদিকতার পাশাপাশি তিনি একাধারে কবি ও সৃজনশীল লেখক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। বিশেষ করে কলাম লেখক হিসেবে সমকালীন বিষয়ে তার বিশ্লেষণধর্মী লেখাগুলো পাঠকমহলে বেশ সমাদৃত ছিল। এছাড়াও তিনি বামধারার যুব গণসংগঠন বাংলাদেশ যুব ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির সহকারী সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা মহানগরের সাবেক সভাপতি ছিলেন।
নোয়াখালীর মাইজদীতে জন্মগ্রহণ করা হাবীব ইমনের বেশ কয়েকটি কাব্যগ্রন্থ ও প্রবন্ধের বই রয়েছে। তার একটি উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ ভারতের পশ্চিমবঙ্গ থেকে প্রকাশিত হয়েছে। সৃজনশীল লেখালেখির স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০৮ সালে পশ্চিমবঙ্গে সুভাষচন্দ্র বসুর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত ছাত্র-যুব উৎসবে তিনি বিশেষ সংবর্ধনায় ভূষিত হন।
তার এই আকস্মিক মৃত্যুতে সাংবাদিক সমাজ ও সাহিত্য ও বাম রাজনৈতিক অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করেছেন।
রাত ৯টায় মাস্টার পাড়া জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।