উপজেলা প্রতিনিধি, সদর |:
জেলাজুড়ে হামের সংক্রমণ আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ৩৬ জন শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে।
গত দুই সপ্তাহে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে এবং প্রতিদিন নতুন রোগী ভর্তি হচ্ছে। সোমবার (৬ এপ্রিল) দৈনিক নোয়াখালীর কথা–এর পক্ষ থেকে হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, জায়গার সংকটের কারণে পুরাতন ভবনের ডায়রিয়া ওয়ার্ডের একটি পৃথক অংশে হাম আক্রান্তদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
ওয়ার্ডটি বর্তমানে অত্যন্ত ভিড়াক্রান্ত। কয়েকজন শিশুকে মেঝেতে রেখেও চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। জনবল সংকট ও সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও চিকিৎসক ও নার্সরা চাপ সামলে সেবা প্রদান করছেন। বহির্বিভাগে সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ১৪০ জন শিশুকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. ইয়াকুব আলী মুন্সীর নেতৃত্বে এ কার্যক্রমে আরও ছিলেন ডা. মেহেদী হাসান ও নুর ইসলাম প্রমুখ।
এ ছাড়া হাসপাতালের শিশু বিভাগের ওয়ার্ডে কর্তব্যরত মেডিকেল অফিসার ডা. মিজানুর রহমান জানান, ৫ তারিখ পর্যন্ত ১৪ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন এবং গতকাল পর্যন্ত ১০ জনকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। সহকারী অধ্যাপক ডা. মুহাম্মদ মাহমুদ কায়নাত জানান, নতুন ভবন হস্তান্তরে বিলম্ব এবং বিদ্যমান স্থাপনায় জায়গার স্বল্পতার কারণে রোগীদের একই ওয়ার্ডে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। তবে আলাদা ওয়ার্ড চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, হাম একটি ছোঁয়াচে রোগ, তাই আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শ এড়িয়ে চলতে হবে। প্রত্যেক বাবা-মায়ের উচিত সময়মতো সন্তানকে টিকা দেওয়া। তিনি আরও বলেন, হাম নিয়ে আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন থাকতে হবে। হামের সাধারণ জটিলতার মধ্যে ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়া রয়েছে এসব উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি হওয়া প্রয়োজন।
সিভিল সার্জন ডা. আনোয়ার হোসেন জানান, ঢাকায় পাঠানো ৩৬টি নমুনার মধ্যে এখন পর্যন্ত ৫ জন শিশুর শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। বাকি ৩১ জন উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, প্রয়োজনের তুলনায় টিকার ঘাটতি রয়েছে। মাসিক চাহিদা ১৯,০৪৫ ভায়ালের বিপরীতে বর্তমানে মজুদ রয়েছে মাত্র ৪,৩৯১ ভায়াল।