উপজেলা প্রতিনিধি, সদর :
সুধারাম মডেল থানাধীন মাইজদী এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৩,৭১৫ পিস ইয়াবাসহ দুই নারীকে আটক করেছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর যৌথ টিম।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) নোয়াখালী-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পূর্ব পাশে মাইজদীর মেসার্স আবদুল হক ফিলিং স্টেশনের সামনে থেকে তাদের আটক করা হয়। আটককৃতরা হলেন- তানিয়া আক্তার (৩৩), স্বামী: মোঃ মোবারক, সাং- মানিকপুর (মাসনের বাড়ি), ৬নং ওয়ার্ড, চকরিয়া, কক্সবাজার এবং জুলেখা (২২), পিতা: মৃত হোসেন আহমদ, সাং- পশ্চিম গজালিয়া, ৯নং ওয়ার্ড, ইসলামাবাদ ইউনিয়ন, চকরিয়া, কক্সবাজার।
অভিযান সূত্রে জানা যায়, কক্সবাজার থেকে নোয়াখালীতে ইয়াবা পাচারের গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) নোয়াখালী জেলা কার্যালয়, জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) এবং র্যাব-৭, সিপিসি-১, ফেনীর সমন্বয়ে একটি যৌথ টিম অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের আগে থেকেই টিমটি অবস্থান নিয়ে সন্দেহভাজনদের অনুসরণ করতে থাকে। পরে তারা মাইজদীতে পৌঁছালে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
উদ্ধারকৃত আলামত হিসেবে ৩,৭১৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট (ওজন ৩৫২ গ্রাম) জব্দ করা হয়। এর মধ্যে তানিয়া আক্তারের কাছ থেকে ২,০০০ পিস এবং জুলেখার কাছ থেকে ১,৭১৫ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া একটি সিমযুক্ত বাটন মোবাইল ও একটি স্মার্টফোন জব্দ করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃতরা স্বীকার করেছেন যে, তারা কক্সবাজারের চকরিয়া এলাকার পেশাদার ইয়াবা পাচারকারী। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে ফাঁকি দিতে তারা পাচারের সময় ১৫ মাস বয়সী শিশুকে সঙ্গে রাখতেন, যা এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
তারা আরও জানান, এর আগেও একাধিকবার নোয়াখালীতে ইয়াবা সরবরাহ করেছেন এবং প্রতি চালানে ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা পারিশ্রমিক পেতেন। আটককৃতদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট নেটওয়ার্ক শনাক্তে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(১) ধারার সারণির ক্রমিক নং-১০(খ) ও ৪১ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। ডিএনসি নোয়াখালীর পরিদর্শক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বাদী হয়ে সুধারাম মডেল থানায় মামলাটি দায়ের করেন।