উপজেলা প্রতিনিধি, সদর :
জেলার সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি) মো. শহীদুল ইসলামের বিরুদ্ধে নির্যাতন, ঘুষ আদায়, ক্ষমতার অপব্যবহার ও আর্থিক অনিয়মের একাধিক গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
জানা যায়, শহীদুল ইসলাম ২০২১ সালের ১ আগস্ট নোয়াখালীর পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তার বাড়ি রংপুর জেলার সদর উপজেলায়। তিনি বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০০১ সালে স্নাতক ও ২০০৩ সালে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করে ২৫তম বিসিএস (পুলিশ ক্যাডার)-এর মাধ্যমে ২০০৬ সালে পুলিশ বিভাগে যোগদান করেন।
অভিযোগ রয়েছে, দায়িত্ব গ্রহণের পর জেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটে এবং অপরাধ, মাদক ও ইয়াবা বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার পাশাপাশি নানা অনিয়মে জড়িয়ে পড়েন তিনি।
জেলা যুবদলের সভাপতি ও কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুরুল আজিম সুমন অভিযোগ করে বলেন, ২০২২ সালে একটি সাম্প্রদায়িক ঘটনার পর তাকে গ্রেপ্তার করে চোখ বেঁধে রিমান্ডে নেওয়া হয় এবং অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়। তিনি দাবি করেন, তাকে ১৮ বার বৈদ্যুতিক শক দেওয়া হয় এবং পরিবারের কাছ থেকে মামলা ও হয়রানির ভয় দেখিয়ে প্রায় ১ কোটি টাকা আদায় করা হয়।
সুমন আরও অভিযোগ করেন, ওই সময় সাম্প্রদায়িক ঘটনার মামলায় শত শত মানুষকে আসামি করে পুলিশি হয়রানির মাধ্যমে বিপুল অর্থ আদায় করা হয়েছে।
এছাড়া অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০২৫ সালের জুলাই মাসের একটি গেজেট অনুযায়ী, নোয়াখালী কোর্ট পুলিশ পরিদর্শক হিসেবে কর্মরত অবস্থায় তার অধীনস্থ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠায় তাকে অব্যাহতি বা বদলির নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
অভিযোগ রয়েছে, টেন্ডার সংক্রান্ত অনিয়মের মাধ্যমেও তিনি বিপুল অর্থ আত্মসাৎ করেন।
২০২২-২০২৩ অর্থবছরে বিভিন্ন খাতে টেন্ডার আহ্বান করা হলেও বাস্তবে পণ্য সরবরাহ না নিয়ে ঠিকাদারদের কাছ থেকে নগদ অর্থ নেওয়া হয়। এভাবে প্রায় ৩৯ লাখ ৭৬ হাজার ৯৫৮ টাকা গ্রহণ এবং মোট প্রায় দেড় কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
এছাড়া তার বিরুদ্ধে স্ত্রীর নামে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পরিচালনা, নিয়োগ বাণিজ্য, বদলি বাণিজ্যসহ কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগও রয়েছে। ঢাকায় বাড়ি ও ফ্ল্যাট ক্রয়ের তথ্যও উঠে এসেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে শহীদুল ইসলামের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর বিষয়ে তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।