নিজস্ব প্রতেবেদক :
নোয়াখালী পৌরসভার ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জামিয়া আরাবিয়া আনোয়ারুল উলুম রশিদিয়া মাদ্রাসার জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বাধা দেওয়ায় মাদ্রাসা সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়েরের অভিযোগও করেছেন কর্তৃপক্ষ।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) জুমার নামাজের পর নোয়াখালী পৌরসভার জামিয়া আরাবিয়া আনোয়ারুল উলুম রশিদিয়া মাদ্রাসার সামনের সড়কে ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধনে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ, ছাত্র-অভিভাবক ও স্থানীয় এলাকাবাসী এ অভিযোগ তুলে ধরেন।
মানববন্ধনে স্থানীয় বাসিন্দা এডভোকেট আবদুর রহমান মঞ্জু, জিয়াউল হক ইনু, জামিয়া আরাবিয়া আনোয়ারুল উলুম রশিদিয়া মাদ্রাসার মোহতামিম মাওলানা জমির উদ্দিন, পরিচালনা পরিষদ সদস্য ফারুক হোসেন সহিদ, এডভোকেট সামছুল ফারুক, মো. শাওন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
মানববন্ধনে উপস্থিত বক্তারা বলেন- ১৯৮৪ সালে ‘দারুল আইতাম ওয়াল ইয়াতিমাত’ নামে প্রতিষ্ঠিত এ প্রতিষ্ঠানটি পরবর্তীতে ১৯৯৬ সালে বর্তমান নামে নামকরণ করা হয়। প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে বিভিন্ন দাতার সহায়তায় পূর্ব মহোদরি ও হরিনারায়নপুর মৌজায় মাদ্রাসার জন্য জমি ক্রয় করা হয়।
বক্তারা অভিযোগ করেন, প্রতিষ্ঠানের সাবেক সেক্রেটারি সিরাজুল ইসলামের মৃত্যুর বহু বছর পর তার পরিবার অকার্যকর ‘দারুন আইতাম ট্রাস্ট’-এর ভুয়া দলিল ব্যবহার করে জমি আত্মসাৎ ও বিক্রির পাঁয়তারা করছে। এ লক্ষ্যে তারা এক ব্যক্তিকে পাওয়ার অব অ্যাটর্নি প্রদান করে জমি দখলের চেষ্টা চালায়।
এ ঘটনায় মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ নোয়াখালী যুগ্ম জেলা জজ প্রথম আদালতে দেওয়ানি মামলা দায়ের করেন। অভিযোগ রয়েছে, মামলা চলমান থাকা অবস্থায় প্রতিপক্ষ জোরপূর্বক জমিতে মাটি ভরাট করে দখলের চেষ্টা করলে স্থানীয়রা তা প্রতিহত করেন। পরে প্রতিপক্ষ ক্ষিপ্ত হয়ে মাদ্রাসার পরিচালক ও সেক্রেটারি জমির উদ্দিন এবং পরিচালনা পরিষদের সদস্যদের বিরুদ্ধে মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করে।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, আইনি প্রক্রিয়া চলমান থাকা অবস্থায় এ ধরনের দখলচেষ্টা সম্পূর্ণ বেআইনি। তারা আইনগতভাবে লড়াই চালিয়ে যাবেন এবং কোনোভাবেই এতিমদের সম্পত্তি দখল হতে দিবেন না।
এসময় বক্তারা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।